এবার আমেরিকাতেও SIR? জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে কথা হয়েছে, জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

এবার আমেরিকাতেও SIR? জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে কথা হয়েছে, জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

 

নয়াদিল্লি: ভারতের দেখাদেখি এবার কি SIR হবে আমেরিকাতেও? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে বলে জানালেন। আমেরিকাকে ‘বাঁচাতে’ এখনই পদক্ষেপ করা উচিত বলে মন্তব্য করলেন তিনি। (Donald Trump on Gyanesh Kumar)

ভারতের ধাঁচে আমেরিকার নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প। SAVE America Act কার্যকর করার পক্ষে সওয়াল করলেন তিনি, যার আওতায় আমেরিকার নির্বাচনে ভোটার পরিচয়পত্র এবং নাগরিকত্বে কঠোর শর্ত আরোপের কথা বলা হয়েছে। (US Elections)

আর সেই প্রসঙ্গেই জ্ঞানেশ কুমারের নাম নিলেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে লিখলেন, ‘চলতি মাসের শুরুতে ভারতের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেষ কুমার আমাদের সরকারকে প্রশ্ন করেন- বৈধ, সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় নির্বাচন হয় কেমন করে? ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ ভোটার অংশ নেন! যার মধ্যে ১ শতাংশের কম ভোট পড়ে ইমেলে। প্রত্যেক ভোটারের সচিত্র ভোটারপত্র থাকা বাধ্য়তামূলক ছিল। আমাদের এখনই THE SAVE AMERICA ACT পাস করাতে হবে’।

ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সেরগিও গোরও ট্রাম্পের দাবিকে সমর্থন করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একেবারে সঠিক দাবি করছেন! ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ ভোটারের প্রত্যেককে সচিত্র পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। কংগ্রেসের উচিত THE SAVE AMERICA ACT পাস করানো’।

আমেরিকায় The SAVE America Act পাস করাতে উদ্যোগী হয়েছে ট্রাম্প সরকার, যাতে নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র হিসেবে পাসপোর্ট এবং জন্মের শংসাপত্রের উল্লেখ রয়েছে। সচিত্র পরিচয়পত্র-সহ নতুন করে ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে প্রস্তাবে। 

US Ambassador to India Sergio Gor also backed Trump’s remarks in a post on X, saying the US President was “absolutely correct” in citing India’s election system. Gor highlighted the 646 million voters in India’s last election and said every voter was required to have an ID. He also urged Congress to pass the SAVE America Act. সেই মতো নথি জমা করতে হবে নাগরিকদের। ট্রাম্প সরকারের দাবি, এতে শুধুমাত্র আমেরিকার নাগরিকরাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। 

যদিও বিরোধীদের দাবি, শুধুমাত্র নাগরিকরাই আমেরিকার নির্বাচনে ভোটদান করতে পারেন। নাগরিক ব্যাতীত অন্য কারও ভোটাধিকার নেই আমেরিকায়। বিলটি এনে আসলে নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণ করতে চাইছে ট্রাম্প সরকার। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ, প্রবীণ এবং সংখ্যালঘু, যাঁরা যোগ্য় নাগরিক, তাঁরাও ভোটাধিকার হারাতে পারেন বিলটি কার্যকর হলে। কারণ তাঁদের অনেকের কাছেই জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্টের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেই এই মুহূর্তে।

শুধু তাই নয়, বিলটি পাস করানোর নেপথ্যে ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে বলেও মনে করছেন সমালোচকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসী তাড়াতে বিশেষ তৎপর ট্রাম্প। এব্যাপারে দেশের শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের সমর্থন জোগাড়েও সফল হয়েছেন তিনি। মেরুকরণের রাজনীতিতে সফল হয়েছেন ট্রাম্প। আইন এদিক ওদিক করে তিনি তৃতীয় বার নির্বাচনে নাম লেখাতে পারেন বলেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকত্বের প্রশ্নকে সামনে রেখে ফের মেরুকরণকেই ট্রাম্প তুরুপের তাস করতে চাইছেন বলে মত বিরোধীদের। ওই আইন  কার্যকর হলে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হতে পারে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারেন ট্রাম্প বিরোধী নাগরিকরা। 

(Feed Source: abplive.com)