Govt School: শতবর্ষ প্রাচীন স্কুলে নতুন ফটক, বড় বড় ভিআইপিদের বাদ দিয়ে উদ্বোধন করলেন রাজমিস্ত্রি! কারণ জানলে মন ভাল হয়ে যাবে

Govt School: শতবর্ষ প্রাচীন স্কুলে নতুন ফটক, বড় বড় ভিআইপিদের বাদ দিয়ে উদ্বোধন করলেন রাজমিস্ত্রি! কারণ জানলে মন ভাল হয়ে যাবে

Govt School: শতাব্দীপ্রাচীন চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনের ১৩৯তম প্রতিষ্ঠা দিবসে অনন্য নজির। ফিতে কেটে স্কুলের নতুন রাজকীয় গেটের উদ্বোধন করলেন রাজমিস্ত্রি সাইন আলি। উদ্বোধনী ফলকেও রাখা হয়েছে তাঁর নাম। প্রথা ভেঙে রাজমিস্ত্রির কঠোর পরিশ্রমকে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত।

মালদহের চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইন্সটিটিউশনে দেখা গেল অভিনব এক উদ্যোগ। শতাব্দীপ্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবনির্মিত প্রবেশদ্বারের উদ্বোধন করলেন সেই রাজমিস্ত্রী, যাঁর হাতে তৈরি হয়েছে প্রবেশদ্বারের গোটা কাঠামোটি। শুধু তাই নয়, উদ্বোধনী ফলকেও স্কুলের প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি নির্মাণকারী রাজমিস্ত্রী সাইন আলির নাম রাখা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। (ছবি ও তথ্য: জিএম মোমিন)

রাজ আমলের ঐতিহ্য বহন করে চলা চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইন্সটিটিউশনের ১৩৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আর এই বিশেষ দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় স্কুলের নবনির্মিত মূল প্রবেশদ্বারের। অনুষ্ঠানে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকলেও ফিতে কেটে দ্বারোদ্ঘাটনের সম্মান দেওয়া হয় নির্মাণকারী রাজমিস্ত্রী সাইন আলিকে।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়ক তহবিল থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এই প্রবেশদ্বার। এর উচ্চতা প্রায় ১৬ ফুট এবং চওড়া ১৩ ফুট। স্কুলের রাজ আমলের ঐতিহ্যকে সামনে রেখে লাল রঙে সাজানো হয়েছে প্রবেশদ্বারটি। এটিই বর্তমানে স্কুলের মূল প্রবেশপথ। পুরনো ঐতিহ্যবাহী ধাঁচে এই প্রবেশদ্বারটি নির্মাণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাজমাতা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র তথা বিশিষ্ট সাহিত্যিক শিবরাম চক্রবর্তীর আবক্ষ মূর্তিতেও মাল্যদান করা হয়। উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রশাসক তথা চাঁচল চক্রের প্রশাসক পলাশ রায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পার্থ চক্রবর্তী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীরা।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পার্থ চক্রবর্তী বলেন, “যাঁরা পরিশ্রম করে কোনও নির্মাণকাজ করেন, তাঁদের নাম অনেক সময় কোথাও দেখা যায় না। তাই যাঁর হাতে এই প্রবেশদ্বার তৈরি হয়েছে, তাঁকে সম্মান জানাতেই উদ্বোধনের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং ফলকেও তাঁর নাম রাখা হয়েছে।”

রাজমিস্ত্রি সাইন আলি বলেন, “একাধিক জায়গায় নির্মাণ কাজ করেছি। কার‌ও বাড়ি আবার কোন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন রকম অত্যাধুনিক মানের খোদায় কারুকার্য সহ নকশা তৈরি করে নির্মাণ কাজ করেছি। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করছি তবে এভাবে কোনদিন সম্মান পায়নি। সম্মান পেয়ে খুব গর্বিত মনে হচ্ছে।” স্কুল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগে নির্মাণশ্রমের মর্যাদা ও কর্মীর প্রতি সম্মান দুই বার্তাই উঠে এসেছে। (ছবি ও তথ্য: জিএম মোমিন)

(Feed Source: news18.com)