)
লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছিল ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি। আর তার পরেই ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’র! মাত্র ৪৮ঘণ্টাতেই অনুগামীর সংখ্যা পেরোল ৫ লাখ। কে বা কারা চালাচ্ছে এই অ্যাকাউন্ট?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় বহু পেজই রাতারাতি ভাইরাল হয়, কিন্তু একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ঘিরে এখন তোলপাড় নেটপাড়া। পেজটির নাম— ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’। খোলা হয়েছে চলতি মাসেই, অথচ মাত্র দুই দিনেই এর অনুগামী বা ফলোয়ারের সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছে ৫ লাখেরও বেশি। আকস্মিক এই অনুগামী বৃদ্ধির ঘটনা নেটিজেনদের পাশাপাশি ডিজিটাল বিশেষজ্ঞদেরও তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটি চলতি মাসের শুরুতেই তৈরি করা হয়েছে। অ্যাকাউন্ট লগে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে, এর মধ্যে একবার পেজের ব্যবহারকারীর নাম বা ‘ইউজারনেম’ পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পেজটি থেকে মোট ১২১টি পোস্ট করা হয়েছিল এবং অ্যাকাউন্টটি থেকে মাত্র ৩৮ জন ব্যক্তিকে অনুসরণ (ফলো) করা হচ্ছিল। তবে সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, এই অ্যাকাউন্টটি কে বা কারা পরিচালনা করছে—সে বিষয়ে পেজে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ বেনামেই পরিচালিত হচ্ছে এই দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া অ্যাকাউন্টটি।
নামের নেপথ্যে লালকেল্লার বার্তা?
‘দিমাগি নকশাল পার্টি’ নামটির পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষিত এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। সদ্য সমাপ্ত ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম এই ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন।

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং মাওবাদী দমন অভিযানে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমরা বনাঞ্চল থেকে সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করতে এবং এই সংকট থেকে দেশকে মুক্ত করতে সফল হয়েছি। কিন্তু সশস্ত্র নকশালরা শেষ হলেও, ‘দিমাগি’ (বুদ্ধিজীবী বা চিন্তাশীল) নকশালরা এখনও লোকচক্ষুর অন্তরালে সক্রিয় রয়েছে।” লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর সেই মন্তব্য দেশজুড়ে বিপুল চর্চার জন্ম দেয়। আর সেই মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে এই একই নামে পেজ চালু হওয়া এবং হু হু করে অনুগামী বেড়ে যাওয়াকে কাকতালীয় বলে মানতে রাজি নন নেটিজেনরা।
ইনস্টাগ্রাম ও বিতর্কিত বিষয়বস্তু
ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মার্ক জুকারবার্গের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’। সম্প্রতি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার নীতিমালা ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা এবং ত্রুটির জন্য প্রকাশ্যেই ক্ষমা চেয়েছেন জুকারবার্গ। সেই আবহে এমন এক স্পর্শকাতর এবং রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী নাম নিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট কীভাবে রাতারাতি লাখ লাখ অনুগামী টেনে নিল, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপত্তা ও কনটেন্ট ফিল্টারিং ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
অনেক ডিজিটাল বিশ্লেষকের মতে, স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর মতো শীর্ষ ব্যক্তিত্বের মুখ থেকে ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি শোনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহল প্রবল রূপ নেয়। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে অ্যাকাউন্টটির সৃষ্টিকর্তারা। রাজনৈতিক স্যাটায়ার, মতামত নাকি অন্য কোনো এন্ডা ছড়াতে এই পেজটি ব্যবহার করা হবে—তা নিয়ে প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। পেজটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব কী হতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
(Feed Source: zeenews.com)
