)
Kerala Teen grandson murder grandfather: পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত বৃদ্ধের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। নাবালক নাতি তার দাদুর ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিল এবং দাদুর নামে থাকা সম্পত্তি ও অর্থ দ্রুত নিজের নামে করতে চেয়েছিল। এই উদ্দেশ্যেই সে ঠাকুরদাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কেরলের হাড়হিম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। সম্পত্তির লোভ এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে নিজের বৃদ্ধ ঠাকুরদাকে শ্বাসরোধ করে খুন করাল ১৭ বছর বয়সী এক নাবালক নাতনি। শুধু তাই নয়, ভাড়াটে খুনি যখন বালিশ চাপা দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যা করছিল, তখন ফোনের ভিডিয়ো কলে গোটা দৃশ্য সরাসরি বসে উপভোগ করছিল ওই কিশোরী। ভয়াবহ এই অপরাধের তদন্তে নেমে পুলিস মূল পরিকল্পনাকারী নাবালক-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত বৃদ্ধের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। নাবালক নাতনি তার দাদুর ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিল এবং দাদুর নামে থাকা সম্পত্তি ও অর্থ দ্রুত নিজের নামে করতে চেয়েছিল। এই উদ্দেশ্যেই সে ঠাকুরদাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ওই নরহন্তক কিশোর স্থানীয় দুজন লোককে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে (সুপারি কিলার)। বৃদ্ধ একা থাকার সুযোগ নিয়ে খুনিরা রাতে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে।
ভিডিয়ো কলে সরাসরি হত্যাকাণ্ড দেখা
ঘটনার রাতে খুনিরা ঘরে ঢুকে বৃদ্ধকে কাবু করে ফেলে এবং বিছানায় বালিশ চাপা দিয়ে তাঁর শ্বাসরোধ করতে শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তে অভিযুক্ত নাতিকে ঘটনার প্রমাণ দেখাতে খুনিরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিয়ো কল চালু করে। ফোনের অপর প্রান্তে বসে নিজের দাদুকে ছটফট করে মারা যাওয়ার সেই নির্মম দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে নাতনি। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরই সে ভাড়াটে খুনিদের সেখান থেকে সরে যেতে বলে।
পুলিসের তদন্ত ও কিনারা
পরদিন সকালে বৃদ্ধের নিথর দেহ উদ্ধার হলে প্রাথমিক পর্যায়ে এটিকে স্বাভাবিক বা বার্ধক্যজনিত মৃত্যু বলে মনে করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন এবং ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রমাণ মেলার পর পুলিস একটি খুনের মামলা দায়ের করে তদন্তে নামে।
তদন্তকারী দল বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যদের ফোন কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট খতিয়ে দেখতে শুরু করে। সন্দেহের ভিত্তিতে নাবালক নাতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই একের পর এক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কিশোরী স্বীকার করে নেয় যে সম্পত্তির লোভেই সে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে ঠাকুর্দাকে হত্যা করিয়েছে।
গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ
পুলিস অভিযুক্ত নাবালক নাতনি এবং হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকা দুই ভাড়াটে অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে সেই ভিডিয়ো কলের ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। নাবালিকা অভিযুক্তকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের (Juvenile Justice Board) সামনে পেশ করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় খুনের মামলা রুজু করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আধুনিক প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক অপরাধের এক চরম ও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
(Feed Source: news18.com)
