)
Sugar Price Hike: নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে চিনি অন্যতম। ফলে এর দাম বৃদ্ধি সার্বিক খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিকে (Food Inflation) আরও উসকে দিচ্ছে। সাধারণ পরিবারের মাসিক বাজেটে টান পড়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশের খুচরো ও পাইকারি বাজারে চিনির দাম মারাত্মক বেড়ে গেল। সর্বকালীন রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে এখন। মূলত পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর লক্ষ্যমাত্রা (E20 Fuel Blending) পূরণ করতে অতিরিক্ত পরিমাণ আখ ও চিনির নির্যাস জৈব-জ্বালানি উৎপাদনের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়াই এই সংকটের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার চিনি আমদানির ওপর শুল্ক (Import Duty Cut) কমানো-সহ একাধিক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় নিয়ে বিবেচনা করছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও E20 প্রকল্পের প্রভাব
ভারত সরকার পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি এবং অপরিশোধিত তেল আমদানি খরচ কমাতে পেট্রলে ২০% ইথানল মিশ্রণের (E20) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে দেশের চিনি কলগুলি আখের রস ও বি-হেভি মোলাসেস ব্যাপকভাবে ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করছে।
চিনির উৎপাদনে ঘাটতি: চিনি উৎপাদনের চেয়ে ইথানল তৈরিতে আখের বড় অংশ ব্যবহৃত হওয়ায় খাদ্যোপযোগী পরিশোধিত চিনির অভ্যন্তরীণ জোগানে স্পষ্ট টান পড়েছে।
চাহিদা ও জোগানের অমিল: উৎসবের মরসুমের আগে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়লেও বাজারে চিনির মজুত প্রত্যাশার তুলনায় কমে যাওয়ায় দাম এক ধাক্কায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের চাপ: মিষ্টি প্রস্তুতকারক সংস্থা, নরম পানীয় ও বেকারি শিল্পের উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের পকেটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ
চিনির মূল্যবৃদ্ধির রাশ টানতে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক এবং অর্থ মন্ত্রক যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। সরকার যেসব ব্যবস্থার কথা ভাবছে:
আমদানি শুল্ক হ্রাস: অভ্যন্তরীণ ঘাটতি দ্রুত মেটাতে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত বা প্রক্রিয়াজাত চিনি আমদানির ওপর কার্যকর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
মজুত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি: খোলা বাজারে অসাধু মজুতদারি আটকাতে ডিলার ও মিল মালিকদের জন্য নির্দিষ্ট স্টক লিমিট কার্যকর করা হতে পারে।
ইথানল ডাইভারশনে সাময়িক ভারসাম্য: জ্বালানি নিরাপত্তা এবং খাদ্য সুরক্ষার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে আখের নির্যাস থেকে ইথানল তৈরির নির্দিষ্ট কোটায় সাময়িক পুনর্বিন্যাস আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে চিনি অন্যতম। ফলে এর দাম বৃদ্ধি সার্বিক খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিকে (Food Inflation) আরও উসকে দিচ্ছে। সাধারণ পরিবারের মাসিক বাজেটে টান পড়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে E20 একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও, খাদ্য সুরক্ষার মূল্যের বিনিময়ে এই রূপান্তর ঘটলে তা মূল্যবৃদ্ধির মারাত্মক সংকট তৈরি করতে পারে। আমদানি শুল্ক ছাড় দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশি চিনির আমদানি বাড়ালে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখলে তবেই উৎসবের আগে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
(Feed Source: zeenews.com)
