
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে পেজেসকিয়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেখানে দুই রাষ্ট্রনেতা দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। ২০২৪ সালে মিশর, ইথিওপিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পাশাপাশি ইরানও ব্রিকস-এর পূর্ণ সদস্য হয়। এরপর ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া এই জোটে যোগ দেয়, যার ফলে পূর্ণ সদস্য দেশের মোট সংখ্যা ১১-তে পৌঁছেছে। এর আগে জুন মাসে, ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি ভারতে এসেছিলেন।
বৈঠক শেষে রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আরাঘাচি বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ওপর আলোকপাত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রশমনে ভারত আরও “বড় ভূমিকা” পালন করতে পারে। আরাঘাচি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তেহরান সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যে কোনও ভবিষ্যৎ দেখছে না।
ভারতের মধ্যস্থতার বিষয়ে তেহরানের ইতিবাচক মনোভাবের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “ভারত কোনও গঠনমূলক ভূমিকা নিলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব।” এছাড়া আরাঘাচি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও আলোচনা করেন। সেখানে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, বাণিজ্যিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বন্ধু রাষ্ট্রগুলি ইরানের ওপর আস্থা রাখতে পারে। আরাঘচি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজের রক্ষাকারী হিসেবে ইরান সর্বদা তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করে যাবে। এক্স (X)-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার সময় আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে এবং আমি স্পষ্ট করেছি যে, হরমুজে রক্ষাকারী হিসেবে ইরান সর্বদা তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে। ইরান সকল বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের এক নির্ভরযোগ্য পার্টনার, এসব দেশ বাণিজ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে ইরানের ওপর আস্থা রাখতে পারে।”
এই আবহে ভারতে ইরানের প্রেসিডেন্টের আসন্ন সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
(Feed Source: abplive.com)
