)
Citizenship Third Amendment Rules 2026: নাগরিকত্বের তৃতীয় সংশোধনী বিধি জারি, ক্ষমতা পেলেন জেলা শাসকরা। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদনের প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র। ১৯ আগস্ট, ২০২৬-এ গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে The Citizenship (Third Amendment) Rules, 2026 কার্যকর করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্যায়: নাগরিকত্বের তৃতীয় সংশোধনী বিধি জারি, ক্ষমতা পেলেন জেলা শাসকরা। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদনের প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র। ১৯ আগস্ট গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে The Citizenship (Third Amendment) Rules, 2026 কার্যকর করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নতুন বিধিতে নাগরিকত্বের রেজিস্ট্রেশন ও ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন গ্রহণ, যাচাই এবং নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শাসককে (District Collector) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম কোথায় প্রযোজ্য?
নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে গুজরাত, রাজস্থান, পঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, অসমের অ-উপজাতি এলাকা এবং ত্রিপুরার অ-উপজাতি এলাকায়। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখেও এই বিধি কার্যকর হবে। আগে যে ক্ষমতা এমপাওয়ার্ড কমিটি ও ডেজিগনেটেড অফিসারদের হাতে ছিল, তা এখন সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কমিটির কাছে জমে থাকা আবেদনও সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আবেদনগুলি অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণের পাশাপাশি নথি যাচাই, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং নাগরিকত্বের শপথ গ্রহণের বিষয়টিও জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানে হবে।
নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতা
পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘নাগরিকত্ব নিয়মাবলী, ২০০৯’ সংশোধন করেছে এবং জেলা শাসকদের (ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর) নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করেছে। এর মাধ্যমে পঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরা (উপজাতীয় এলাকা বা ট্রাইবাল এলাকা ব্যতীত), এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখের জেলা শাসকদের তাঁদের অঞ্চলে সাধারণভাবে বসবাসকারী “উপযুক্ত ও সঠিক” (fit and proper) আবেদনকারীদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় (naturalised) ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হল।
আবেদন গ্রহণ, পরীক্ষা ও নিষ্পত্তি
এই লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘সিটিজেনশিপ (থার্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’ (নাগরিকত্ব (তৃতীয় সংশোধন) নিয়মাবলী, ২০২৬) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নতুন এই নিয়মের অধীনে, এক্তিয়ারভুক্ত জেলা শাসকেরা নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৬বি-র অধীনে রেজিস্ট্রেশন বা স্বাভাবিককরণের (naturalisation) আবেদন গ্রহণ, পরীক্ষা ও নিষ্পত্তি করতে পারবেন। এই ধারার অধীনে পঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সাধারণভাবে বসবাসকারী হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ এবং পার্সি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত আবেদনকারীরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিজ্ঞপ্তি জারি করা নিয়মে বলা হয়েছে, “আবেদনকারীর উপযুক্ততা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হলে এবং তিনি রেজিস্ট্রিকৃত বা স্বাভাবিক নাগরিক হওয়ার জন্য উপযুক্ত ও সঠিক ব্যক্তি মনে হলে, কালেক্টর বা জেলা শাসক তাঁকে ভারতের নাগরিকত্ব প্রদান করবেন।”
জেলা কমিটি থেকে জেলা শাসক
এ যাবৎ সিএএ (CAA)-র অধীনস্থ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি (Empowered Committees) এবং জেলা স্তরের কমিটিগুলি নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিল। সরকার নির্দেশ দিয়েছে, নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলির সেই কমিটি বা জেলা স্তরের কমিটির কাছে বর্তমানে ঝুলে থাকা সমস্ত আবেদন অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকের (কালেক্টর) কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গুজরাট, রাজস্থান, পঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি এবং জেলা স্তরের কমিটির কাছে নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ধারা ৬বি-র অধীনে ঝুলে থাকা সমস্ত আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
(Feed Source: zeenews.com)
