)
Deadliest El Nino Effects on World: প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’-র আগমন ঘটেছে, এটা এতদিনে জানা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যেটা জানা ছিল না, ক্রমশ জানা যাচ্ছে, এবং প্রাথমিক পূর্বাভাসের চেয়েও এটি অনেক দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠছে। মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের বায়ুমণ্ডলের বাতাস এবং সমুদ্রের জলের অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে সৃষ্ট এই জলবায়ুগত পরিবর্তন ইতিমধ্যেই বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরন বদলে দিতে শুরু করেছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’-র আগমন ঘটেছে এবং প্রাথমিক পূর্বাভাসের চেয়েও এটি অনেক দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠছে। মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের বায়ুমণ্ডলের বাতাস এবং সমুদ্রের জলের অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে সৃষ্ট এই জলবায়ুগত পরিবর্তন ইতিমধ্যেই বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরন বদলে দিতে শুরু করেছে।
কিন্তু বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আশঙ্কা, আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে এটি এক শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে। অন্য দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর গোলার্ধে শরৎ ও শীতকালে একটি অতীব শক্তিশালী এল নিনো দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি।
খরা, বন্যা… তবে
এল নিনোর প্রভাবে কোনো অঞ্চলে দেখা দিতে পারে খরা, আবার কোথাও দেখা দিতে পারে ভয়াবহ বন্যা। তবে একই সঙ্গে পরিবেশবিদেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এল নিনোর সময়ে ঘটা প্রতিটি চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাকেই শুধু এর ঘাড়ে চাপানো ঠিক নয়। তাহলে এল নিনো শুরু হওয়ার পর থেকে আসলে কী ঘটছে, আর এর কতটা দায় প্রশান্ত মহাসাগরের এই উষ্ণায়নের উপর বর্তায়?
তীব্র দাবদাহ, শুষ্কদিন
জলবায়ুর এই পরিবর্তনের প্রভাব কোন কোন অঞ্চলে কীভাবে পড়ছে, তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ ইন্দোনেশিয়া। এল নিনোর কারণে এ দেশে বৃষ্টিপাত কমেছে, যার ফলে গাছপালা শুকিয়ে গিয়ে ল্যান্ডস্কেপ দাবানলের চরম বিপদের মুখে পড়েছে। জুলাই মাসেই দাবানলে প্রায় ৯৫,০০০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কালান্তক প্রভাব পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এল নিনো ভয়ংকর শুষ্ক ও গরম আবহাওয়া নিয়ে আসছে। এতে ফসল উৎপাদন, জল সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২৩-২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া সর্বশেষ এল নিনো দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড করা ‘সবচেয়ে শুষ্ক তিন মাস’ (ড্রায়েস্ট থ্রি-মান্থ পিরিয়ড)-এর সূচনা করেছিল।
১২ শতাংশ ঘাটতি
ভারতও এক বড় ধরনের এল নিনো সংকটের মুখোমুখি। এখানে দুর্বল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ভারতে জুন মাস শেষ হয়েছিল প্রায় ৪০% বৃষ্টিপাতের ঘাটতি নিয়ে। জুলাইয়ে কয়েকটি নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টিপাতের কিছুটা উন্নতি হলেও সামগ্রিক ঘাটতি থেকেই গিয়েছে। ৪ জুন মৌসুমি বায়ু আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত (১৯ আগস্ট পর্যন্ত) বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশে।
ইউরোপও এল নিনোর কবলে?
ইউরোপও কি এই ভয়াল এল নিনোর কবলে? গ্রীষ্মকালে ইউরোপ জুড়ে যে তীব্র তাপদাহ দেখা গেছে, তা বিশ্ব জুড়ে এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এর সব দোষ কেবল এল নিনোর ওপর চাপানো সমীচীন হবে না। বিশ্ব হাওয়া সংস্থা ইউরোপের একটি বড় অংশ জুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছিল বটে, তবে সেখানে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস নিয়ে তারা শতভাগ নিশ্চিত নয়। ইউরোপের উপর এল নিনোর প্রভাব কিছুটা পরোক্ষ। চলতি বছর ইউরোপে যে চরম তাপদাহ দেখা গেছে, তার মূল কারণ মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।
সামনে বড় বিপদ
বর্তমান এই ঘটনাটিকে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের করে তুলেছে এর সময়কাল– কারণ, এর সবচেয়ে শক্তিশালী রূপটি এখনো আসেনি। আগামী দিনে তাহলে কী হবে? WMO-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাগরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ অঞ্চলগুলিতে প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রার তারতম্য ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। এই এল নিনো সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত আকার ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৭ পর্যন্ত
এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। ফসল বোনা ও কাটার মসুরমে ব্যাঘাত ঘটার কারণে ফলন কম হতে পারে, যা খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। এমনিতেই পৃথিবী জুড়ে মহাসাগরগুলি অস্বাভাবিক রকমের উত্তপ্ত, তার উপর এই এল নিনোর আগমন পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল এবং বৃষ্টিপাতের বিপর্যয় সামাল দেওয়া মানবজাতির জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
