
Worst Food for Migraine:কোন কোন খাবার মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে? কিছু খাবার ও পানীয় অনেকের ক্ষেত্রে ট্রিগার হতে পারে, যদিও সবার ক্ষেত্রে কারণ এক নয়। ব্যথা শুরু হলে কী ঘরোয়া উপায়ে সাময়িক আরাম মিলতে পারে, কোন খাবার এড়াবেন এবং মাইগ্রেনের ট্রিগার কীভাবে চিহ্নিত করবেন—জেনে নিন আইএলএস, দমদম হাসপালাতেলর স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ মৌমিতা বাগচির পরামর্শ।
মাইগ্রেনকে বলা হয় দ্য মোস্ট কমনেস্ট হেডেক। বিশ্বের ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ কখনও না কখনও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এই মাথাযন্ত্রণার শিকার হয়েছেন। সাধারণ মাথাযন্ত্রণার তুলনায় মাইগ্রেন খুবই তীব্র এবং ফিরে ফিরে আসে এই যন্ত্রণা। নির্দিষ্ট ট্রিগার আছে এই রোগের। মাঝারি থেকে তীব্র দপদপানি হয় মাথায়। তবে এক রোগী থেকে অন্য রোগীর ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকে লক্ষণ বা তীব্রতায়। বলছেন আইএলএস, দমদম হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ মৌমিতা বাগচি।
মাথায় তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা, গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা, মাথাব্যথা যা আরও খারাপ হয়, চোখে আলোর ঝলকানি দেখা, আঁকাবাঁকা রেখা, দৃষ্টিবিভ্রম, ঝিনঝিন করা বা অসাড়তা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, ঘাড়ের শক্তভাব, খিটখিটে মেজাজ-সহ একাধিক উপসর্গ থাকতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের আক্রমণ ঘটাতে পারে। চকোলেট, বাদাম, আজিনামোটো, ঠান্ডা খাবার, কোল্ডড্রিঙ্কস, চিজ বা চিজ ও পনির জাতীয় খাবার, আইসক্রিমের মতো খাবার সমস্যা তৈরি করতে পারে। খাবারে নিয়ম, খাবারে মাঝে সময়ের ব্যবধানের মতো কারণে মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়ে এবং ফিরে ফিরে আসে।
পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে মাইগ্রেন বেশি হয়। যদি সপ্তাহে এক বারের বেশি এই সমস্যা হতে থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তবে মহিলাদের মেনোপোজের পর বা ৫০ বছর বয়স পার হলে ধীরে ধীরে এই সমস্যা কমে আসে। ব্যথার জন্য ঘন ঘন ওষুধ (পেনকিলার) খেলে বাড়তে পারে বা জটিল হতে পারে সমস্যা। লাইফস্টাইলেরও বড় ভূমিকা আছে এই রোগ নিয়ন্ত্রণের। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা খুব প্রয়োজনীয়। স্ট্রেস কিন্তু মাইগ্রেনের বড় কারণ। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খান। দু’টি খাবারের মধ্যে লম্বা সময়ের ব্যবধান রাখবেন না। মাইগ্রেন মোকাবিলায় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাচ্চাদেরও কিন্তু মাইগ্রেন হতে পারে। যদি পারিবারিক ইতিহাস থাকে এ রোগের, তাহলে আশঙ্কা আরও বেড়ে যায় কয়েক গুণ। আর একটা বিষয় মনে রাখে হবে। ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা এবং মাইগ্রেন কিন্তু জড়িয়ে আছে একে অন্যের সঙ্গে। জলশূন্যতার কারণে মাইগ্রেন হয়। আবার মাইগ্রেন থেকে বমি হলে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়তে পারে। মাইগ্রেনের ঘরোয়া টোটকা হিসেবে চা-কফি ট্রাই করে দেখা যেতে পারে। কারণ ক্যাফেইনের প্রভাবে মাইগ্রেন স্তিমিত হতে পারে।
মাথাব্যথা ছাড়াও কিন্তু মাইগ্রেন হয়। একে সাইলেন্ট মাইগ্রেন বা এসেফালজিক মাইগ্রেন বলা হয়। যাঁদের মাইগ্রেন হলে দৃষ্টিবিভ্রম হয়, চোখে আলোর ঝলকানি বা বিদ্যুতের রেখার মতো চলে যায়, তাদের সাধারণত এই প্রবণতা দেখা যায়। মানে, মাইগ্রেন হয়েছে কিন্তু মাথাব্যথা নেই। তবে চোখে আলোর ঝলকানি আছে। এর সঙ্গে থাকে ঝিনঝিন করা বা অবশ ভাব প্রায়শই মুখ বা হাতে, কথা বলতে বা শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা, মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতার সমস্যা , আলো বা শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি বা মনোযোগ দিতে অসুবিধার মতো লক্ষণ। তবে এই উপসর্গ খুব প্রচলিত। দেখা যায় খুব কম সংখ্যক মানুষের মধ্যে।
(Feed Source: news18.com)
