)
British Singer Laura Wright: ৬ মাসে ঊর্দু শিখেই পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত গেয়ে হৃদয় জিতেছেন। ‘জন গণ মন’ও গেয়েছেন বাংলায়। দুই ভাষা শিক্ষার মধ্য়ে জানালেন যে, কোন ভাষা শিখতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি স্নায়ুচাপে ভুগেছেন…
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ব্রিটিশ গায়িকা লরা রাইটের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। খেলদুনিয়ায় যাঁদের আগ্রহ রয়েছে, তাঁদের কাছে বেশ চেনা মুখ এই ৩৬ বছরের ইংরেজ। ব্রিটিশ ক্লাসিক্যালের সঙ্গেই ক্রসভারে মেজো-সোপ্রানো শিল্পী তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের জন্য বিশেষ ভাবে পরিচিত রাইট। রাগবি, ফুটবল, ক্রিকেট, ফর্মুলা ওয়ান ও এনএফএল-এর মতো বড় ক্রীড়া আসরে তাঁর কণ্ঠে জাতীয় সংগীত প্রায়ই শোনা যায়। এহেন লরা ফের একবার খবরের শিরোনামে। ৬ মাস ঊর্দু শিখে পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত গেয়ে সেই দেশের মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন রাইট। তিন টেস্ট ম্য়াচের সিরিজ খেলতে সলমান আগার পাকিস্তান এখন জো রুটদের দেশে। লিডসের হেডিংলি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলছে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনের খেলা (প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত)। আর রাইট খবরে এসেছেন প্রথম দিনেই পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত ‘কওমী তারানা’ গেয়ে। যা ওই দেশে ‘পাক সরজমীন’ নামেও ব্যাপক ভাবে পরিচিত। পাক কবি হাফিজ জলন্ধরি গীতিকার ও আহমেদ গোলাম আলি সুরকার এই গানের। সম্প্রতি রাইট অ্যাথলেটিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জাতীয় সংগীতের উচ্চারণ আয়ত্ত করতে তিনি অসাধারণ প্রচেষ্টাই চালিয়ে ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু শিখছিলেন। গতবছর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের টেস্ট সিরিজ চলাকালীন রাইট ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ বাংলায় গেয়েছিলেন।
ঊর্দু এবং বাংলা শেখার প্রসঙ্গে রাইট কী বলছেন
‘দেখুন যে কোনও দেশের জাতীয় সংগীত গাওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়াটাই অত্যন্ত সম্মানের বিষয় আমার কাছে। এও জানিয়ে রাখি যে, আমি কিন্তু কখনই তা হালকা ভাবে নিই না। ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়াটা সত্যিই বেশ চ্যালেঞ্জিং। তাই যখন আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তখন সম্মতি দেওয়ার আগে আমি বিষয়টি নিয়ে গভীর চিন্তা করেছিলাম। কারণ আমি নিশ্চিত হতে চাই যে, আমি তা সঠিকভাবে গাইতে পারব কিনা! এর পাশাপাশি আমাকে এও জানতে হয় যে, যে ভাষায় আমি জাতীয় সংগীর গাইব, তা শেখার জন্য আমার হাতে পর্যাপ্ত সময় আছে কি না। ঊর্দু ভাষা আয়ত্ত করতে আমি বিগত ছ’ মাস ধরে কাজ করছি। বিশ্বাস করুন, এটি এমন কোনও সাধারণ বিষয় নয় যে, কেউ এসে বলল, আপনি কি এসে জেরুজালেম গানটি গাইতে পারবেন?’ বিষয়টি তার চেয়ে অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমার জন্য এক বিশাল সৌভাগ্যের বিষয় এবং আমি আশা করি আমি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে তা গাইতে পারব।’ রাইট আরও জানান যে, ভারতের জাতীয় সংগীত গাওয়ার আগে তিনি বেশ স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন। রাইট আরও বলেন, ‘প্রথমবার ভারতের জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় আমি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি নার্ভাস ছিলাম। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনা করার সময় ইতালীয় ও জার্মান ভাষার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু জাতীয় সংগীত গাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের ভাষার মুখোমুখি হতে হয়। ভারতের জাতীয় সংগীত আমি দীর্ঘ সময় ধরে শুনেছি এবং যারা এই ভাষায় কথা বলেন। এমন দু-তিনজনের সঙ্গে আমি সময় কাটিয়েছি, যাতে আমি উচ্চারণ ও বাক্যের বিন্যাস বুঝতে পারি। কথাগুলির অর্থ অনুধাবন করতে পারি। পেশাগত জীবনের এই দিকটিই সাধারণত মানুষের চোখের আড়ালে থেকে যায়।’ রাইট কোথাও বুঝিয়েই দিলেন যে, ঊর্দুর চেয়ে বাংলাই তাঁর কাছে অনেক কঠিন ছিল।
(Feed Source: zeenews.com)
