বাড়িতে পাতা দইয়ে জল কেটে যায়? দুধে এই ১ টা জিনিস মেশালে তবেই জমবে দোকানের মতো ক্রিমি-টাইট দই, বাটি উলটালেও পড়বে না

বাড়িতে পাতা দইয়ে জল কেটে যায়? দুধে এই ১ টা জিনিস মেশালে তবেই জমবে দোকানের মতো ক্রিমি-টাইট দই, বাটি উলটালেও পড়বে না
Creamy &Tight Curd making: হামেশাই দেখা যায় বাড়িতে পাতা দইয়ের দল কেটে গিয়েছে! সেই দই মুখে তুলতে ইচ্ছে করে না! এদিকে দোকানের দই কীভাবে অমন টাইট আর ক্রিমি হয়? জেনে নিন আসল সিক্রেট। দুধে এই একটা জিনিস মিশিয়ে দেখুন, বাড়িতে প্রতিবার জমবে দোকানের মতো জমাট দই! একবারও ফেল হবে না…
দই খাওয়ার উপকারিতা বলে শেষ করা যায় না। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিকস বা ভালো ব্যাক্টেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দূর করে। পুষ্টিগুণে ভরপুর দইয়ে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
গরমে নিয়মিত দই বা দই-ভাত খেলে শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পেট ঠান্ডা থাকে। নিত্যদিন দোকান থেকে কেনা দই নয়, রোজের খাওয়ার জন্য বাড়িতেই দই পাতা উচিৎ। কিন্তু সমস্যা হল, বাড়িতে পাতা দই দোকানের মতো টাইট হয়ে জমে না। দই কেমন জানি নরম ট্যালটেলে হয়, জল কেটে যায়। আর এখানেই রয়েছে দই জমানোর সিক্রেট। দুধে এই জিনিসটা মেশালে, তবেই দই জমবে দোকানের মতো টাইট আর ক্রিমি–
কেমন দুধ–দোকানের মতো ঘন ও ক্রিমি দই তৈরি করতে চাইলে প্রথমেই সঠিক দুধ বেছে নিতে হবে। দুধে সাধারণত ৩%, ৬% এবং ৯%– ফ্যাট থাকে। দই তৈরির জন্য ৯% ফ্যাটযুক্ত ফুল-ক্রিম দুধ সবচেয়ে ভাল। দুধে ফ্যাটের পরিমাণ যত বেশি হবে, দই তত বেশি ঘন, মসৃণ ও ক্রিমি হবে। অন্যদিকে, টোনড বা কম ফ্যাটযুক্ত দুধ দিয়ে তৈরি দই পাতলা হয় এবং দই থেকে জল ছাড়ে।
দুধ ফোটানো ও ঠান্ডা করা–ভাল দই পাততে দুধ ফোটানো এবং সঠিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে দুধ ভালভাবে ফুটিয়ে নিন। এর পর কিছুক্ষণ ঠান্ডা হতে দিন। তবে খেয়াল রাখবেন, দুধ যেন একেবারে ঠান্ডা হয়ে না যায়। সঠিক তাপমাত্রা বোঝার জন্য সহজ একটি পদ্ধতি হল আঙুল দিয়ে পরীক্ষা করা। দুধে আঙুল ডোবালে হালকা গরম লাগবে, আঙুল পুড়ে যাওয়ার মতো গরম যেন না হয়। খুব গরম দুধে দইয়ের সাজা দিলে দই টক হয়ে যায়। আবার বেশি ঠান্ডা দুধে ঠিকমতো দই জমবে না।
দই বসানোর সঠিক নিয়ম– দুধ সঠিক তাপমাত্রায় এলে তাতে এক চামচ টাটকা দই দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর পাত্রে ঢাকনা চাপা দিন, মোটা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে রাখুন। এতে ভিতরের তাপমাত্রা বজায় থাকবে এবং দই তাড়তাড়ি ও টাইট জমবে। আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দই না নাড়িয়ে রেখে দিন।
মাটির পাত্রে দই পাতুন– যদি বাড়িতে মাটির পাত্র থাকে, তাহলে তাতেই দই বসানোর চেষ্টা করুন। মাটির পাত্র অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুষে নেয়, ফলে দই আরও ঘন হয়। পাত্রের হালকা মাটির গন্ধ দইয়ের স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়।
দুধে কী মেশালে দই দোকানের মতো টাইট হবে–সব জায়গায় ৯% ফ্যাটযুক্ত দুধ পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে দুধের গুঁড়ো ব্যবহার করুন। হালকা গরম দুধে ১ থেকে ২ চা-চামচ দুধের গুঁড়ো মিশিয়ে দিলে দুধের সলিড অংশ বেড়ে যায়। এতে সাধারণ দুধ দিয়েই আরও ঘন ও ক্রিমি দই তৈরি করা সম্ভব। তবে দুধের গুঁড়ো ভালভাবে মিশিয়ে নেবেন, যাতে কোনও দলা না থাকে।
দই ফ্রিজে কেন রাখবেন– দই জমে যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে না খেয়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। ফ্রিজের ঠান্ডা তাপমাত্রা দইকে আরও ভালভাবে সেট করে। জল ছাড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
(Feed Source: news18.com)