)
East Bengal: মোহনবাগানকে একেবারে উড়িয়ে ২২ বছর পর ফের ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল| বিরতির আগেই খেলার ভাগ্য লিখে দিয়েছিল মশালবাহিনী।
শুভপম সাহা: ডুরান্ড কাপের ফাইনালে, ইস্টবেঙ্গল স্বপ্নের ফুটবল খেলে চিরশত্রু মোহনবাগানকে গুঁড়িয়ে ১৭ বার চ্যাম্পিয়ন হল সেনার আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী কাপ| রবিবার যুবভারতীতে মশালবাহিনী ৪-১ গোলে পালতোলা নৌকা ডুবিয়ে ২২ বছর পর এশিয়ার প্রাচীনতম এবং বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীন ফুটবল টুর্নামেন্ট জিতল| একেবারে ব্যাক-টু-ব্যাক ট্রফি জিতল ইস্টবেঙ্গল| গত মে মাসের আইএসএলজয়ীরা তিন মাসের মধ্যেই হাতে তুলল ডুরান্ড| \
খেলা শুরুর মাত্র ১০ মিনিটেই ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিকে আগুনে সেলিব্রেশনে মাতিয়ে দেন বিপিন সিং| মহম্মদ রশিদের বাড়ানো নিখুঁত থ্রু থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন লাল-হলুদ উইঙ্গার। এই গোলের রেশ কাটার দু’মিনিটের মধ্যে আবার গোল করে মোহনবাগানকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন এডমুন্ড| বক্সের বাইরে বল পেয়ে সামনে একাধিক ডিফেন্ডার থাকা সত্ত্বেও শট নেওয়ার সাহস দেখান তিনি। নীচু হয়ে যাওয়া শট বাউন্স করে জালে জড়িয়ে যায়। কাইথ বলের বাউন্স আঁচ করতে ব্যর্থ হন।
খেলার বয়স যখন ২২ মিনিট তখন এডমুন্ড আবার গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করে বুঝিয়ে দেন যে, মোহনবাগানের ডিফেন্স বলে আর কিছু নেই| আর এবার এডমুন্ডের অনবদ্য শটের সামনে কাইথ অসহায় দর্শক হয়েই ছিলেন| এরপর ৩৩ মিনিটে মোহনবাগান গোলের দেখা পায়| সবুজ-মেরুন গ্যালারিকে সাময়িক আনন্দ দেন মনবীর সিং| জয় গুপ্তাকে কাটিয়ে জায়গা তৈরি করে গোলমুখী শট নেন| বাঁ পায়ে নেওয়া মনবীরের শট আনোয়ার আলির পায়ের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায়। গিল বলে সামান্য হাত লাগালেও গজালে জড়ানো আটকাতে পারেননি।
বিরতির ঠিক আগে এডমুন্ড নিজের তিন নম্বর ও দলের হয়ে চার নম্বর গোল করে মোহনবাগানকে কার্যত ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয়| রশিদের দূরপাল্লার ক্রস দৌড়ে এসে ধরেন জয়। বলটি এবার মাঝখানে বাড়িয়ে দেন তিনি| যেখানে ফাঁকা গোলে অনায়াসে ট্যাপ করে বল জালে জড়িয়ে দেন এডমুন্ড| প্ৰথমার্ধের ৯ মিনিটে সমীর জেলকোভিচের যেভাবে লিস্টন কোলাসোকে গোলের রাস্তা করে দিয়েছিলেন, ঠিক সেখান থেকে কোলাসো যদি গোল করতে পারতেন, তাহলে কিন্তু প্ৰথমার্ধে খেলার ছবিটা বদলাতেই পারত| এছাড়াও ৩০ মিনিটে জেমি ম্যাকলারেন গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেখান থেকেও গোল হতে পারত|
তবে কী হতে পারত, আর কী পারত না, তার হিসেব নিছকই মোহনবাগানের আক্ষেপের তালিকায় থেকে যাবে, তবে ইস্টবেঙ্গল যে আগুনে ফুটবল খেলল, তাতে মোহনবাগান কেন, যে কোনও দলই ঝলসে যেত| বিরতির পর ইস্টবেঙ্গল কোনও ভাবেই রক্ষণাত্মক স্ট্যাট্রেজি নিল না, প্ৰথামার্ধেরই ঝাঁজ বজায় রাখল| তবে মোহনবাগান যেন কোথাও বুঝেই গিয়েছিল যে, এই ম্যাচে আর ফেরার কোনও রাস্তাই নেই তাদের কাছে| তাদের খেলায় বিন্দুমাত্র কোনও তাগিদ দেখা গেল না| দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল আরও একটা গোল করতেই পারত| তবে স্কোরলাইন একই থেকে যায়| আরও একবার আন্তোনিও লোপেজ হাবাস বুঝিয়ে দিলেন যে তিনি ঠিক কত বড় কোচ| প্যানজিওটিস দিলেম্পেরিসের মোহনবাগান কাগজে কলমে এগিয়ে থাকলেও, মাঠে হাবাসের মস্তিষ্কের কাছেই চার গোল খেয়ে গেলেন তিনি|
শেষ কবে ইস্টবেঙ্গল বড় ম্যাচে এরকম একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে খেলেছিল, তা পরিসংখ্যানবিদদেরও ভাবতে হবে| তবে এই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে চোখের ও মনের আরাম| বহু ক্ষতের প্ৰলেপও
ইস্টবেঙ্গল প্রথম একাদশ– হার্দিক ভাট, আনোয়ার আলি, লালচুংনুঙ্গা, এডমুন্ড, রামিরেজ গিল, জিকসন, জয় গুপ্তা, বিপিন সিং, সন্দীপ মান্ডি, বাসিম রশিদ
মোহনবাগান প্রথম একাদশ– বিশাল কাইথ, রাহুল ভেকে, অনিরুদ্ধ থাপা, লিস্টন কোলাসো, জেলকোভিচ, মনবীর সিং, শুভাশিস বসু, আলবার্তো রড্রিগেজ, টেকচাম সিং, ম্যাকলারেন, আপুইয়া
(Feed Source: zeenews.com)
