
West Medinipur News: বাংলা-ওড়িশা সীমান্তের কাছে কামারদা এলাকায় ১২ টি প্রাচীন শিবমন্দির পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। এই মন্দিরগুলি স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির নীরব সাক্ষী এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে সহজেই ঘুরে আসা যায়।
মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: ঐতিহাসিক মন্দির বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর কিংবা মেদিনীপুরের পাথরা। তবে পরিচিত এই মানচিত্রের বাইরেও যে ইতিহাস নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, তার প্রমাণ মেলে বাংলা-ওড়িশা সীমান্তের সামান্য দূরেই। খাতায়-কলমে ওড়িশার অন্তর্গত হলেও বাংলার একেবারে কোল ঘেঁষে অবস্থিত কামারদা এলাকা। সেখানেই এক চত্বরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন এক ডজন শিবমন্দির।
বাংলা-ওড়িশা সীমান্ত থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই কামারদা। মেদিনীপুরের পাথরাতে একসঙ্গে বহু মন্দির দেখার চল থাকলেও, এত ছোট পরিসরে পরপর বারোটি শিবমন্দিরের সহাবস্থান সত্যিই বিরল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকশো বছর আগে চুন-সুরকি দিয়ে গড়ে উঠেছিল এই স্থাপত্যগুলি। বর্তমানে স্থানীয় উদ্যোগে সেগুলির সংস্কার ও রং করা হলেও মন্দিরের প্রাচীন আভিজাত্য এতটুকু ম্লান হয়নি। চারদিক ঘিরে থাকা প্রতিটি মন্দিরের উচ্চতা প্রায় সমান হলেও এদের চূড়ার নকশায় রয়েছে অভাবনীয় বৈচিত্র্য। ভৈরবেশ্বর, সিদ্ধেশ্বর, মুক্তেশ্বর, ঈশানেশ্বর— এমন ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত শিবের এই বারোটি রূপ।
জানা গিয়েছে, প্রাচীন এই মন্দির চত্বরটি আদতে স্থানীয় বাসিন্দা প্রণবেশ রায়ের পারিবারিক সম্পত্তি। আজও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই প্রাচীন পরম্পরা বজায় রাখা হয়েছে। একজন পুরোহিতই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কলা, আতপ চাল ও বেলপাতা দিয়ে প্রতিদিন বারোটি মন্দিরে নিত্যপুজো সম্পন্ন করেন। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, দূর-দূরান্ত থেকেও বহু মানুষ মনস্কামনা পূরণের আশায় এখানে ভিড় জমান।
(Feed Source: news18.com)
