
চরিত্রের দর্শন ঋত্বিকের ইমেজে প্রভাব ফেলে?
এই চিত্রনাট্যের ছত্রে ছত্রে রাজনীতি রয়েছে, সামাজিক পরিস্থিতির কথা রয়েছে। সেটা এই ছবিতে অভিনয় করার জন্য কোনও আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছিল ঋত্বিকের কাছে? অভিনেতা বলছেন, ‘কোনও চরিত্রের যদি একটা রাজনৈতিক মতামত থাকে, তাহলে সেটা একটা আলাদা স্তর যোগ করে। ফলে অভিনয়ের সুযোগ বাড়ে। তবে ছবিতে রাজনীতি আসে, সেই বিষয়টা আলাদা করে আকর্ষণ করে না আমায়। সামগ্রিকভাবে চিত্রনাট্য এবং চরিত্র ভাল লাগলে, তবেই অভিনয় করি।’ রাজনৈতিক ছবি, নেতিবাচক অভিনয়… দর্শকদের মনে নিজের ইমেজ নিয়ে কখনও ভাবিত হন ঋত্বিক? অভিনেতা বলছেন, ‘আমার কাজ, একটা চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। আমি পর্দায় যে চরিত্রে অভিনয় করছি… ব্যক্তিগত জীবনে তো সেই মানুষটা হয়ে যাচ্ছি না। যেমন সৃজিতের আগের ছবিটাতেই আমি ছিলাম একজন গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী, এই ছবিতে আবার সম্পূর্ণ উল্টো মতবাদের একটা মানুষ। পর্দায় আমার চরিত্র কথা বলে, আমি নয়। তাই কেউ যদি আমার অভিনয় দেখে আমার রাজনৈতিক মত বা ব্যক্তিজীবন নিয়ে ধারণা তৈরি করেন, সেটা তাঁর দেখার সমস্যা।’
‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’-এ কোন বিষয়টা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জি?
‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’-এ ঋত্বিকের কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জি ছিল কোন বিষয়টা? অভিনেতা বলছেন, ‘এই নাটক যখন মঞ্চস্থ হতে দেখেছি, আমরা তখন তরুণ। এত বছর পরে, সেই গল্পটা রুপোলি পর্দার জন্য তৈরি হচ্ছে এটা একটা বাড়তি আকর্ষণ ছিল।তবে আমার চরিত্রটা আমায় বেশ চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে। একটা মানুষ, যে ২৬ বছর পরে ঘুম থেকে উঠেছে। সে দেখতে তার আশেপাশের সমাজ, রাজনীতি সব বদলে গিয়েছে। এই ঘটনা যেহেতু বাস্তবে সম্ভব নয়, তাই এই অভিজ্ঞতা তো আমার চেনা নয়। ঘুম থেকে উঠে ওই ব্যক্তি ঠিক কী কী করতে পারে.. গোটা সিনেমা ধরে আমি সেটাই খুঁজেছি। এই অভিজ্ঞতাটা মনে থাকবে।’
রাজনীতি ও ঋত্বিক
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে, টলিউডে কী কী বদল দেখতে পাচ্ছেন অভিনেতা? ঋত্বিক বলছেন, ‘টলিউডে সরাসরি যে রাজনীতির প্রভাব আর যোগাযোগ ছিল, সেটা এখনও দেখা যাচ্ছে না। যদি প্রশ্ন করেন সরকার কি চাইছে, তাহলে বলব সবাই এখনও পর্যন্ত রাজনীতিমুক্ত টলিউডের কথাই বলছেন, সেই পথেই চলছেন। কিছু বদল হয়েছে, কিছু বদল ভবিষ্যতে হবে, আশা করছি।’ অফার এলে ঋত্বিক কখনও রাজনীতির আঙিনায় পা রাখবেন? বিন্দুমাত্র সময় না নিয়ে পর্দার সব্যসাচীর উত্তর.. ‘নাহ্, কক্ষনো না।’
(Feed Source: abplive.com)
