
ভারতের পশ্চিম সীমান্তে ড্রোন নজরদারি বাড়াচ্ছে পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় তুরস্কের তৈরি Bayraktar TB2 ড্রোন দেখা গিয়েছে বলে দাবি গোয়েন্দা সূত্রের। সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই নজরদারি ও সামরিক অভিযানে ড্রোনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে দুই দেশ।
ভারতের সঙ্গে পশ্চিম সীমান্তে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি আরও বাড়াচ্ছে পাকিস্তান। তুরস্কে তৈরি Bayraktar TB2 ড্রোনকে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের বিস্তৃত এলাকায় দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রগুলি। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল হামলার কাজে দুই দেশেরই ড্রোনের উপর নির্ভরতা বাড়ছে।
Bayraktar TB2 মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘসময় উড়তে সক্ষম একটি ড্রোন (UAV)। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও রেকনাইসেন্সের পাশাপাশি নির্ভুল হামলাও চালাতে পারে এই ড্রোন। এর ইলেকট্রো-অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড সেন্সর ব্যবস্থার মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ছবি পাঠানো এবং দীর্ঘসময় ধরে আকাশপথে নজরদারি চালানো সম্ভব।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে উদ্বেগের বিষয় শুধু সশস্ত্র ড্রোন নয়, পাকিস্তান যে বিপুল পরিমাণ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, সেটিও। সূত্রের দাবি, নিয়ন্ত্রণরেখার (LoC) কাছাকাছি এলাকায় উড়ান চালালে পাকিস্তানি অপারেটররা ভূপ্রকৃতি, সেনা ও অন্যান্য গতিবিধি এবং নজরদারি ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
TB2 শুধু নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয় না। এটি অস্ত্রও বহন করতে সক্ষম। ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নজরদারি অভিযান হামলার মিশনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষের পর ড্রোনের হুমকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই সংঘর্ষে পাকিস্তান বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ড্রোন, লইটারিং মিউনিশন এবং সশস্ত্র UAV ব্যবহার করেছিল। পাল্টা অভিযানে ভারত মুরিদ, চাকলালা এবং রহিম ইয়ার খান-সহ পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটিতে হামলা
পাকিস্তানের ড্রোন অভিযান পরিচালনায় একাধিক জায়গা ব্যবহৃত হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলি জানিয়েছে। চাকওয়ালের মুরিদ গুরুত্বপূর্ণ UAV ঘাঁটি হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে রাওয়ালপিন্ডির কাছে চাকলালার নূর খান বিমানঘাঁটি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটিগুলির একটি। দক্ষিণ পাকিস্তান সেক্টরে রহিম ইয়ার খান একটি অপারেশনাল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পাকিস্তানের ড্রোন-নজরদারির মোকাবিলায় ভারতও নিজেদের কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। কেন্দ্র আগেই জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ইনফ্রারেড সেন্সর, নজরদারি ক্যামেরা মোতায়েন করেছে।
(Feed Source: news18.com)
