অবসরের পথে নিতিন গডকড়ী? বড় রদবদল মোদির মন্ত্রিসভায়? ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

অবসরের পথে নিতিন গডকড়ী? বড় রদবদল মোদির মন্ত্রিসভায়? ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

 

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল হতে পারে জোর জল্পনা। আর সেই আবহেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য নিতিন গডকড়ীর। জানালেন, আগের মতো আজ করতে পারেন না তিনি। নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। (Nitin Gadkari)

নাগপুরের একটি সভায় এই মন্তব্য করলেন নিতিন। জানালেন, জনসেবামূূলক কাজকর্ম কমে এসেছে তাঁর। নতুন প্রজন্মকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তাঁর কথায়, “এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। যখন পারতাম করতাম। আমার কাজ কমে এসেছে। নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। নতুন প্রজন্ম এসে দিয়েছে। আগের প্রজন্ম পথনির্দেশ করছে তাদের।” (Modi Cabinet Reshuffle)

নয় নয় করে প্রায় ৩০ বছর ধরে রাজনীতিতে নিতিন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু ওঠাপড়াও দেখেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “গত ৩০ বছর ধরে জনসেবামূলক কাজ করে চলেছি আমি। অনেক ওঠাপড়া দেখেছি। পুরস্কারও পেয়েছি অনেক। এখন আর বেশি কাজ করতে পারি না। নতুন প্রজন্মকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।”

যে সময় নিতিন এই মন্তব্য করলেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অতি সম্প্রতি বিজেপি-র সংগঠনে বড় রদবদল ঘটেছে। গত সপ্তাহেই দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নতুন টিমের ঘোষণা হয়। ৬৫ জন সদস্যেরর মধ্যে ৫১ জনই একেবারে নতুন মুখ। সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হয়েছেন ১৩ জন। বড় দায়িত্ব পেয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে, RSS-এর প্রাক্তন আধিকারিক রাম মাধব, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। ২০১৫ সালে অমিত শাহ বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন যখন, তার পর এই প্রথম এত বড় পরিবর্তন ঘটল।  আর তার পর থেকেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রিসভাতেও বড় রদবদল হতে পারে বলে জল্পনা।

তবে নিতিনের মন্তব্য় নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রের মন্ত্রী তিনি। তবে গত কয়েক বছরে বার বার তাঁকে ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল চালু করা নিয়ে সম্প্রতি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। পরিস্থিতি এমন হয় যে আদালতের দ্বারস্থ পর্যন্ত হতে হয় তাঁকে।

শুধু তাই নয়, ইথানল-পেট্রোল বিতর্কে দলের একাংশের ভূমিকাতেও অসন্তুষ্ট হন নিতিন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি মোদিকে সেই নিয়ে চিঠিও লেখেন তিনি। বিজেপি-র আইটি সেলের সঙ্গে যুক্ত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকেই তাঁকে আক্রমণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। E-20 পেট্রোল নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চলছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নিয়ে বেছে বেছে তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে কেন, তোলেন প্রশ্ন।