)
H1N1 cases Delhi: দিল্লির স্বাস্থ্য দফতরের নজরদারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি মরশুমে এইচ১এন১ আক্রান্তের সংখ্যা ২,৩০০-এর গণ্ডি পার করেছে, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বিশেষ চিন্তায় ফেলেছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও মরসুমি ফ্লুয়ের প্রকোপ মারাত্মক আকার নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে এইচ১এন১ (H1N1 বা সোয়াইন ফ্লু) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২,৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যেও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণজনিত রোগের প্রকোপ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে প্রধান তিনটি ভাইরাসের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় এই গবেষণা সংস্থা।
দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর (NCR) এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহে সর্দি, কাশি, উচ্চ তাপমাত্রা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে (OPD) শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের ভিড় উপচে পড়ছে। দিল্লির স্বাস্থ্য দফতরের নজরদারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি মরশুমে এইচ১এন১ আক্রান্তের সংখ্যা ২,৩০০-এর গণ্ডি পার করেছে, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বিশেষ চিন্তায় ফেলেছে।
আইসিএমআরের নজরদারিতে ৩টি ভাইরাস:
সারাদেশে শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাল সংক্রমণের প্রকোপ বুঝতে দেশব্যাপী ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম (IDSP) ও ল্যাব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আইসিএমআর। মূলত তিনটি প্রধান ভাইরাসের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে:
ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ১এন১ ও এইচ৩এন২): বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এই ভাইরাসটি। এতে তীব্র জ্বর, গলা ব্যথা, এবং ক্লান্তি দেখা যায়।
অ্যাডেনোভাইরাস (Adenovirus): বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং চোখ লাল হওয়া, পেটের গোলযোগ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করছে।
রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস (RSV) / ইনফ্লুয়েঞ্জা বি: ছোট শিশু এবং প্রবীণদের ফুসফুসের সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এই ভাইরাস।
কাদের ঝুঁকি সবথেকে বেশি?
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গে এই ভাইরাসগুলোর প্রাথমিক উপসর্গের মিল থাকলেও জটিলতা দ্রুত বাড়ে।
প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে– একটানা তীব্র জ্বর, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা, হাঁচি, গা-হাত-পা ব্যথা, এবং শ্বাসকষ্ট।
ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক,
৫ বছরের কম বয়সি শিশু,
অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, এবং
ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ বা অ্যাজমার মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা ব্যক্তিরা এই সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতা:
পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসিএমআর এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু সুরক্ষাবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
মাস্ক ব্যবহার ও দূরত্ব বজায় রাখা: ভিড় জায়গায় মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।
হাতের পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত সাবান-জল বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা।
অ্যান্টিবায়োটিক পরিহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক সেবন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়।
টিকা নেওয়া: ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য বার্ষিক ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতর ও আইসিএমআর ক্রমাগত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালগুলিতে শয্যা ও ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
