
Swiggy Delivery Boy Story: সারাদিন মানুষের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া উদয় নিজের উপার্জন থেকে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলেন। এরপর একদিন চুপচাপ বাড়ির জন্য একটি টিভি কিনে নিয়ে আসেন। তিনি জানতেন, টিভিটি দেখে মা ও দিদা খুশি হবেন। কিন্তু তাঁদের প্রতিক্রিয়া যে এতটা বিশেষ হবে, তা হয়তো উদয় নিজেও ভাবেননি।
সামনে এল নতুন টিভি… আর বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ল হাসি। মা ও দিদার মুখের আনন্দ দেখে উদয় হালদারও নিজের খুশি ধরে রাখতে পারলেন না। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওতে সুইগি ডেলিভারি রাইডার উদয় তাঁর পরিবারকে এমন একটি সারপ্রাইজ দিয়েছেন, যা দেখলে আপনার মুখেও হাসি ফুটে উঠবে। বিশেষ বিষয় হল, এটি কোনও বিলাসবহুল উপহার নয়, বরং তাঁর কঠোর পরিশ্রমের উপার্জনে কেনা একটি টিভি।
ডেলিভারির কাজ করতেন:
উদয় প্রতিদিন Swiggy-এর হয়ে ডেলিভারি করেন। এই ডেলিভারির কাজ মোটেই সহজ নয়। সারাদিন রাস্তায় থাকা, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে একের পর এক অর্ডার পৌঁছে দেওয়া। এই উপার্জন থেকেই উদয় অল্প অল্প করে টাকা জমাতে শুরু করেছিলেন। অনেক দিন ধরেই তাঁর ইচ্ছে ছিল, বাড়িতে একটি নতুন টিভি আনবেন। প্রতিদিনের ছোট ছোট সঞ্চয় ধীরে ধীরে জমতে থাকে এবং অবশেষে সেই দিন আসে, যখন তিনি নিজের বাড়ির জন্য নতুন টিভি কিনতে পারেন। তাঁর কাছে এটি শুধু একটি টিভি ছিল না, বরং বহু দিনের পরিশ্রম ও সঞ্চয়ের ফল ছিল।
মুখে ছিল হাসি:
বাড়িতে টিভি আসতেই তাঁর মা ও দিদার আনন্দের সীমা রইল না। উদয় নিজের বাড়িতে ক্যামেরা অন করেন এবং নতুন টিভির দিকে ইশারা করেন। টিভিতে তখন সিরিয়াল চলছিল। নিজের কেনা টিভি নিয়ে উদয়ের মুখে ছিল অন্যরকম আনন্দ। এরপর তিনি তাঁর মা ও দিদার কাছে যান এবং তাঁদের টিভিটি দেখান। টিভি দেখে দিদা মুচকি হাসেন। তাঁর মুখের আনন্দ দেখে উদয়কেও বেশ খুশি দেখায়। তিনি ক্যামেরায় এই মুহূর্তটি রেকর্ড করেন, যেন এই আনন্দকে চিরদিনের জন্য ধরে রাখতে চান।
‘খুব খুশি হয়েছি বাবা’:
এরপর উদয় তাঁর মাকে জিজ্ঞাসা করেন, টিভি দেখে তাঁর কেমন লাগছে। মা হেসে বলেন, “খুব খুশি হয়েছি বাবা।” এই ছোট্ট মুহূর্তটিই ভিডিওটির সবচেয়ে সুন্দর ঝলক হয়ে ওঠে। এই ভিডিওর বিশেষত্ব টিভিটির দাম নয়, বরং এর পিছনে লুকিয়ে থাকা পরিশ্রম। প্রতিদিন মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া এক ডেলিভারি রাইডার নিজের উপার্জন থেকে টাকা সঞ্চয় করেন এবং সেই টাকা দিয়েই পরিবারের জন্য আনন্দ নিয়ে আসেন।
ইন্টারনেটে প্রশংসার ঝড
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মানুষ উদয়ের প্রশংসা করছেন। ইউজারদের বক্তব্য, পরিবারকে খুশি করার জন্য সবসময় দামি উপহারের প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও কঠোর পরিশ্রমের উপার্জনে কেনা ছোট্ট একটি জিনিসও জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ হয়ে উঠতে পারে। উদয়ের কাছেও এই টিভির সবচেয়ে বড় পুরস্কার তাঁর মা ও দিদার মুখের হাসি। এই হাসিই তাঁর প্রতিটি ডেলিভারি, প্রতিটি দীর্ঘ শিফট এবং প্রতিদিনের পরিশ্রমকে বিশেষ করে তোলে।
(Feed Source: news18.com)
