)
Amazon and Flipkart Tighten Seller Cancellation Policy: ১৭ আগস্ট থেকে অ্যামাজন তাদের ‘ইজি শিপ’ (Easy Ship) এবং ‘সেলফ শিপ’ (Self Ship) বিক্রেতাদের জন্য অর্ডার বাতিলের নতুন ফি কাঠামো কার্যকর করেছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আসন্ন উৎসবের কেনাকাটার মরশুমকে সামনে রেখে বিক্রেতাদের (Sellers) জন্য ফি কাঠামো এবং পেনাল্টি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই ই-কমার্স জায়ান্ট–অ্যামাজন (Amazon) এবং ফ্লিপকার্ট (Flipkart)।
অর্ডার বাতিল (Order Cancellation) কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কড়াকড়ি চালু করা হয়েছে। তবে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর এই পদক্ষেপের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপছে বলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যামাজনের অর্ডার বাতিল নীতিতে বদল
১৭ আগস্ট থেকে অ্যামাজন তাদের ‘ইজি শিপ’ (Easy Ship) এবং ‘সেলফ শিপ’ (Self Ship) বিক্রেতাদের জন্য অর্ডার বাতিলের নতুন ফি কাঠামো কার্যকর করেছে। আগে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির রেফারাল ফির ওপর ভিত্তি করে এটি কাটা হলেও, এখন থেকে অর্ডারের মোট মূল্যের (Order Value) শতাংশের ওপর ভিত্তি করে এই ফি হিসাব করা হবে:
১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্ডারে: ১০ শতাংশ ফি
১০,০০১ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্ডারে: ৮ শতাংশ ফি
৫০,০০১ থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্ডারে: ৫ শতাংশ ফি
১,০০,০০০ টাকার বেশি অর্ডারে: ২ শতাংশ ফি।
এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১৮ শতাংশ জিএসটি (GST) প্রযোজ্য হবে। গ্রাহক নিজে বাতিল করলে এই ফি লাগবে না। তবে বিক্রেতা নিজে বাতিল করলে বা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শিপমেন্ট কনফার্ম না করায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্ডার বাতিল হলে এই ফি কাটা হবে।
এছাড়া জ্বালানি ও লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি হওয়া প্রতিটি পণ্যের ক্ষেত্রে ‘ক্লোজিং ফি’ (Closing Fee) ১ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা করেছে অ্যামাজন।
ফ্লিপকার্টের তিন স্তরের (Three-Tier) পেনাল্টি ব্যবস্থা
অন্যদিকে, ২৩ আগস্ট থেকে ফ্লিপকার্ট বিক্রেতাদের জন্য তিন স্তরের আর্থিক জরিমানা কাঠামো চালু করেছে:
শিপমেন্ট প্রস্তুত না থাকলে: নির্ধারিত তারিখে লজিস্টিক পার্টনারকে পার্সেল হস্তান্তর করতে না পারলে প্রতি অর্ডারে ৩০ টাকা জরিমানা।
অর্ডার বাতিল করলে: বিক্রেতা অর্ডার গ্রহণ করার পর বাতিল করলে বা ৩ বার ডেলিভারি মিস হওয়ার পর বাতিল হলে ৬০ টাকা জরিমানা।
বিলম্বের পর বাতিল: নির্ধারিত সময়ে পাঠাতে দেরি হওয়ার পর অর্ডারটি বাতিল হলে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে হবে ৯০ টাকা।
আগে ফ্লিপকার্ট অ্যাকাউন্ট সাময়িক লক করার ব্যবস্থা রাখলেও এবার সরাসরি আর্থিক জরিমানার নীতি গ্রহণ করেছে। অবশ্য নতুন বিক্রেতাদের প্ল্যাটফর্মে প্রথম তিন মাস এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।
বিক্রেতাদের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
উৎসবের মরশুমে যখন বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন এই ধরনের অতিরিক্ত ফি ও জরিমানা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের মুনাফায় বড় আঘাত হানবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। সেলার অ্যাসোসিয়েশনগুলোর দাবি, অনেক সময় লজিস্টিক পার্টনারের গাড়ি দেরিতে আসা বা প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেও ডেলিভারিতে দেরি হয়। সেই সমস্ত ক্ষেত্রে বিক্রেতাদের ওপর আর্থিক জরিমানার দায় চাপানো অন্যায্য। তবে ই-কমার্স সংস্থাগুলির দাবি, গ্রাহকদের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা দিতেই এই নিয়মে কঠোরতা আনা হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
