
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাশিয়ার সুদূর পূর্ব ফেডারেল জেলায় অবস্থিত আমুর থেকে এল হাড়হিম করা খবর। আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কারখানাটি শীঘ্রই চালু হওয়ার কথা ছিল এবং বর্তমানে সেখানে কাজ শুরুর আগের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছিল। এই ঘটনায় ৬ জন চিনা নাগরিক-সহ মোট ৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ৯ জন নিখোঁজ। রয়টার্স জানাচ্ছে আহত আরও ১৫২ জনই চিকিৎসাধীন। যাঁদের মধ্যে ৩৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি। এক ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে ওই বিশাল ওই শিল্প উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে। বিশাল অগ্নিশিখার সঙ্গেই সাথে ঘন কালো ধোঁওয়া আকাশের অনেক উঁচুতে উঠে যেতে দেখা গিয়েছে। কারখানার বেশ কয়েকটি অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিয়ো দেখে রীতিমতো বুক কেঁপে গিয়েছে নেটপাড়ার।
আমুর: রাশিয়া ও চিনের যৌথ প্রকল্প
আমুর কমপ্লেক্সটি রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি সিবুর এবং চিনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস জায়ান্ট সিনোপেকের এক যৌথ উদ্যোগ। নির্মাণকাজের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে এই এজিসিসি প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছিল। মস্কো টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের (৯৫.৪ হাজার কোটি) ।এই প্রকল্পটিকে পলিথিন ও পলিপ্রোপিলিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কমপ্লেক্সের এমন ভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে এটি নিকটবর্তী আমুর গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে সেগুলিকে প্লাস্টিক তৈরির উপাদানে রূপান্তর করতে পারে। পুরোপুরি ভাবে চালু হওয়ার পর, এই কমপ্লেক্স থেকে প্রতি বছর প্রায় ২৩ লাখ (২.৩ মিলিয়ন) টন পলিথিলন এবং ৪ লাখ টন পলিপ্রোপিলিন উৎপাদিত হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
কাঁচামাল কোথা থেকে আসবে?
এই কমপ্লেক্সে আমুর গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট থেকে কাঁচামাল সরবরাহ করা হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, আমুর জিপিপি থেকে বছরে ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) টন পর্যন্ত ইথেন এবং প্রায় ১৫ লাখ (১.৫ মিলিয়ন) টন এলপিজি (LPG) পাওয়া যাবে। পলিথিন ও পলিপ্রোপিলিন তৈরির লক্ষ্যে এই কাঁচামালগুলি আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি প্রায় ৩২৫ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। কমপ্লেক্সটি চালু হলে প্রায় ১০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ২০১৬ সালে শুরু হয়েছিল। ২০২৪ সালে কমপ্লেক্সটি কমিশনিং বা পরীক্ষামূলক চালুর পর্যায়ে প্রবেশ করে। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত করছে। কর্তারা খতিয়ে দেখছেন যে শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না এবং তারা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
