
UPSC Emotional Story: চাকরি-সম্পর্ক ছেড়ে ইউপিএসসি প্রস্তুতি, ব্যর্থতার পর ৪৬৪ টাকা দান করলেন মন্দিরে। এই কাহিনি চোখে জল আনবে…
কলকাতা: ২৬ বছরের এক ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীর গল্প এখন অনেককেই আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। চারবার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেওয়ার পর এবার এই যাত্রা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে তিনি পরপর মূল পরীক্ষায় পৌঁছেছিলেন। কিন্তু এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এরপর বছরের পর বছর যত্ন করে রাখা নিজের বই, নোট এবং পরীক্ষার খাতা কাগজওয়ালার কাছে বিক্রি করে দেন তিনি। বাইরে থেকে দেখলে এটি শুধুই পুরনো বই সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত মনে হতে পারে। কিন্তু ওই বইগুলির সঙ্গে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বছর জড়িয়ে ছিল। এই বইয়ের পাতার মধ্যেই তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, বারবার পরীক্ষা দিয়েছেন এবং প্রতিটি ব্যর্থতার পর আবার নিজেকে তৈরি করেছেন। তাই বইগুলি বিক্রি করার সঙ্গে শুধু পড়াশোনার সামগ্রী নয়, নিজের পুরনো স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলিকেও পিছনে ফেলে এসেছেন তিনি।
বিক্রি করা বইয়ের মধ্যে ছিল এনসিইআরটির বই, যেগুলি দিয়েই তাঁর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। এর পাশাপাশি ছিল লক্ষ্মীকান্ত, পুরনো পরীক্ষার খাতা, নোট এবং অসংখ্য অনুশীলনের সামগ্রী। প্রতিটি পাতার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কোনও না কোনও দিনের পরিশ্রম। কখনও ভোরে উঠে পড়াশোনা, কখনও রাত ৪টে পর্যন্ত উত্তর লেখা, আবার সেই উত্তর বারবার সংশোধন– সবই ছিল ওই বইগুলির সঙ্গে জড়িত। তাঁর কাছে বইগুলি শুধুই কাগজের স্তূপ ছিল না, বরং ইউপিএসসি প্রস্তুতির পুরো যাত্রার স্মৃতি ছিল।
চাকরি ছেড়েছিলেন, ভেঙেছিল সম্পর্কও
এই প্রস্তুতির মূল্য শুধু বই বিক্রি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ওই পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, ২০২২ সালে তিনি ভালো বেতনের একটি চাকরির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, সিভিল সার্ভিসেই তাঁর ভবিষ্যৎ রয়েছে। এছাড়াও প্রায় চার বছরের পুরনো একটি সম্পর্কও এই সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। অর্থাৎ ইউপিএসসির প্রস্তুতির জন্য তিনি সময়, চাকরি এবং ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় অংশ বাজি রেখেছিলেন। তবুও চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর পুরোপুরি আফসোস নেই।
বছরের পর বছর পরিশ্রমের দাম মিলল মাত্র ৪৬৪ টাকা
সব বই যখন কাগজওয়ালার দাঁড়িপাল্লায় উঠল, তখন শুধু ওজন মাপা হল। সেই ওজনে বছরের পর বছর পরিশ্রমের কোনও মূল্য ছিল না। সব বই মিলিয়ে কাগজওয়ালা তাঁকে দেন ৪৬৪ টাকা। পাশে থাকা এক ব্যক্তি বলেছিলেন, হয়তো ৬০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যেত। কিন্তু তাঁর কাছে তখন ১০০-২০০ টাকা বেশি বা কম পাওয়ার আর কোনও গুরুত্ব ছিল না। তাঁর বক্তব্যের অর্থ ছিল, যে বইগুলি থেকে যা পাওয়ার ছিল তা পাওয়া যায়নি, সেখানে বেশি বা কম টাকা পেলেই বা কী বদলাবে?
৪৬৪ টাকা নিয়ে চলে গেলেন মন্দিরে
বই বিক্রি করে পাওয়া ৪৬৪ টাকা নিজের কাছে না রেখে মন্দিরে দান করে দেন তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনও সাফল্য পাওয়ার আশায় বা পরের বার পরীক্ষায় বসার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। তাঁর মতে, এখন আর ‘পরের বার’ বলে কিছু নেই। এভাবেই তাঁর ইউপিএসসি যাত্রার একটি আবেগঘন সমাপ্তি ঘটে। এই সমাপ্তিতে ব্যর্থতার চেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা স্বপ্ন ও সেই স্বপ্নের স্মৃতি পিছনে ফেলে আসার কষ্ট।
সমাজমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া
তাঁর গল্প সামনে আসার পর বহু ইউপিএসসি পরীক্ষার্থী এবং প্রাক্তন পরীক্ষার্থী নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। অনেকেই বলেন, ইউপিএসসির প্রস্তুতিতে কাটানো বছরের মানসিক ও আবেগের চাপ সেই মানুষই বুঝতে পারেন, যিনি নিজে এই পথ পেরিয়েছেন। অনেকে তাঁকে জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও একটি পরীক্ষায় পাওয়া ব্যর্থতা কখনওই পুরো জীবনের ব্যর্থতা নয়।
(Feed Source: news18.com)
