)
Sensex Big Fall: দিনের লেনদেন শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) ৩০টি শেয়ারের সূচক সেনসেক্স প্রায় ১৭২ পয়েন্ট বা ০.২২ শতাংশ কমে ৭৭,৩৬৯ বা ৭৭,৩৭০ স্তরে নেমে আসে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) ৫০টি শেয়ারের সূচক নিফটি ৩৩ পয়েন্ট বা ০.১৪ শতাংশ কমে ২৪,২১৯ স্তরে বন্ধ হয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্ববাজারে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতির জেরে সপ্তাহের প্রথম দিনেই বড় পতন ভারতীয় শেয়ার বাজারে। সোমবারের লেনদেনে সেনসেক্স ও নিফটি উভয় সূচকই দিনের সর্বোচ্চ মাত্রা থেকে নেমে লাল সংকেত দিয়েছে অর্থাত্ বড় পতন শেয়ারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন-ইরান টানাপোড়েন, ইরানের ওপর আসন্ন নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে অপরিশোধিত তেলের চড়া দর এবং চড়া বন্ড ইল্ডের (Bond Yields) ধাক্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে।
দিনের লেনদেন শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) ৩০টি শেয়ারের সূচক সেনসেক্স প্রায় ১৭২ পয়েন্ট বা ০.২২ শতাংশ কমে ৭৭,৩৬৯ বা ৭৭,৩৭০ স্তরে নেমে আসে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) ৫০টি শেয়ারের সূচক নিফটি ৩৩ পয়েন্ট বা ০.১৪ শতাংশ কমে ২৪,২১৯ স্তরে বন্ধ হয়। লার্জ ক্যাপ শেয়ারগুলির পাশাপাশি মাঝারি ও ছোট শেয়ারের সূচকেও (Midcap & Smallcap) মিশ্র ও দুর্বল প্রবণতা দেখা গেছে।
পতনের নেপথ্যে প্রধান কারণ কী কী
ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনীতি: আমেরিকা ইরানের অর্থনীতিকে আরও কোণঠাসা করতে নতুন করে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বাধা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অচলাবস্থার জেরে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার মনোভাব ব্যাপকভাবে ধাক্কা খেয়েছে।
অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম: ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স সাময়িক মুনাফা তোলার কারণে কিছুটা নামলেও ব্যারেল প্রতি ৯০ থেকে ৯৩ ডলারের কাছাকাছি এক মাসের সর্বোচ্চ স্তরে ঘোরাফেরা করছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগ আমদানি করায় চড়া তেল দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, টাকার অবমূল্যায়ন ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
মার্কিন ও অভ্যন্তরীণ বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি: বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা ও কঠোর মুদ্রানীতির কারণে মার্কিন ট্রেজারি ও ভারতীয় সরকারি বন্ডের ইল্ড চড়া রয়েছে। ফলে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FIIs) ভারতীয় ইক্যুইটি থেকে অর্থ প্রত্যাহার করে নিরাপদ বন্ডে ঝুঁকছেন।
কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব?
সেক্টরভিত্তিক ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির শেয়ারে সবচেয়ে বেশি বিক্রির চাপ দেখা গেছে। বিশেষ করে পিএসইউ ব্যাংক (PSU Bank), অটোমোবাইল এবং এফএমসিজি খাতের শেয়ারগুলি সূচকের নিম্নগতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
ব্যাংক অফ বরোদা, কানাড়া ব্যাঙ্ক, বাজাজ ফিনান্স এবং আদানি পোর্টসের মতো স্টকগুলি উল্লেখযোগ্য লোকসানের মুখে পড়ে। তবে বিপরীত ধারায় হেঁটে মেটাল এবং আইটি খাতের কিছু নির্দিষ্ট শেয়ার তুলনামূলক ভালো ফল করেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যতক্ষণ না মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট কাটছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীল হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দালাল স্ট্রিটে এমন অস্থিরতা ও চাপ বজায় থাকতে পারে। বর্তমানে নিফটির জন্য ২৪,১৫০ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল হিসেবে কাজ করছে।
(Feed Source: zeenews.com)
