)
NCLT-র আদেশ ও মিডিয়ার বিভ্রান্তিকর রিপোর্টিং নিয়ে সত্য প্রকাশ করলেন ডঃ সুভাষ চন্দ্র। “আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিইনি। কেবল পার্সোনাল গ্যারান্টর ছিলাম। মূল সংস্থাগুলি ইতোমধ্যেই ৪৫,০০০ কোটি টাকার মধ্যে ৪৩,০০০ কোটি টাকা শোধ করে দিয়েছে।” ২২,০০০ কোটি টাকার বিভ্রান্তিকর দাবির জবাবে প্রকৃত গাণিতিক হিসাব ও তথ্যাবলী পেশ করলেন প্রবীণ শিল্পপতি।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLT)-এ চলা ব্যক্তিগত দেউলিয়া প্রক্রিয়া (Personal Insolvency Case) নিয়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য পরিবেশনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন প্রবীণ শিল্পপতি ডঃ সুভাষ চন্দ্র। মুম্বইয়ে নিজের কার্যালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক নির্দেশকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে কিছু মিডিয়া হাউস দায়িত্বজ্ঞানহীন খবরের জন্ম দিচ্ছে। সমস্ত পক্ষ ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রকৃত তথ্য ও গাণিতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিভ্রান্তিকর রিপোর্টগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ডঃ সুভাষ চন্দ্র প্রেস বার্তায় জোর দিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরেছেন:
ব্যক্তিগত ঋণের অনুপস্থিতি: ডঃ সুভাষ চন্দ্র নিজে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে ১ টাকাও ঋণ নেননি।
পার্সোনাল গ্যারান্টর ভূমিকা: এসেল গ্রুপ (Essel Group)-এর আওতাধীন কিছু ঋণগ্রহীতা সংস্থার সুবিধার্থে তিনি কেবল একজন ‘পার্সোনাল গ্যারান্টর’ (Personal Guarantor) হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন।
দাবির প্রকৃত অঙ্ক: সংবাদমাধ্যমে ২২,০০০ কোটি টাকার যে দাবি ছড়ানো হচ্ছে তা অবাস্তব। পরিশোধ পরিকল্পনায় আপত্তি জানানো পাওনাদারদের মোট দাবির পরিমাণ আসলে ৩,৯৯২ কোটি টাকা।
আড়াই বছরে ৯৫% ঋণ পরিশোধ করেছে সংস্থাগুলি
ঘটনার মূল পটভূমি তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারিতে আর্থিক ব্যবস্থায় টানাপোড়েনের দিনে এসেল গ্রুপের বকেয়া ঋণের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা। সেই কঠিন পরিস্থিতির পর থেকে মূল ঋণগ্রহীতা সংস্থাগুলি নিজেদের দায়িত্ব পালন করে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৩,০০০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। অর্থাৎ, মোট বকেয়া ঋণের ৯৫ শতাংশেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যেই পরিশোধ করা হয়ে গেছে।
বাকি থাকা ৩,৯৯২ কোটি টাকার দাবির ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে:
১. আপত্তি উত্থাপনকারী পাওনাদারদের দাবির মধ্যে ইতোমধ্যেই ৬২০ কোটি টাকা সমঝোতার ভিত্তিতে মেটানো হয়েছে।
২. ঋণগ্রহীতা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে আরও ১,০৬৩ কোটি টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৩. অবশিষ্ট বকেয়া অর্থের বিষয়েও সংস্থাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কথা চালাচ্ছে।
কর্মচারী রক্ষা ও মানবিক খাতিরে স্বাক্ষর
২০১৯ সালের সংকটের সময় অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডঃ চন্দ্রের কাছে আবেগঘন আবেদন জানায়। প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদের চাকরি এবং সাধারণ পাওনাদারদের স্বার্থ রক্ষার্থেই তিনি ব্যক্তিগত গ্যারান্টি পত্রে স্বাক্ষর করতে সম্মত হন। সংস্থাগুলিও তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিল যে সমস্ত দেনা তারা নিজ দায়িত্বে শোধ করবে।
৮০.৮১% পাওনাদারের সমর্থন ও মিডিয়ার পক্ষপাতিত্ব
রেজোলিউশন পেশাদার (RP) যখন ট্রাইব্যুনালে পরিশোধ পরিকল্পনা বা Repayment Plan জমা দেন, তখন পাওনাদারদের (CoC) ৮০.৮১% সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এতে সায় দেয়। অননুমোদনকারী ১৯.১৮% পাওনাদারের একটি অংশ আদালতে আপত্তি জানায়।
ডঃ চন্দ্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিডিয়ার একাংশ সম্পূর্ণ আদেশ বিশ্লেষণ না করে কেবল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চটকদার অংশগুলি বেছে নিয়ে খবর তৈরি করেছে। তাছাড়া, বিচারকের প্রাথমিক মতামত চূড়ান্ত আদেশে রূপান্তরিত হওয়ার যে আইনি প্রক্রিয়া, তা এখনও প্রক্রিয়াধীন। ফলে কারিগরিভাবে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন।
নিট সম্পদ বিতর্ক: ৪৫,৮৮৮ কোটি টাকা বনাম ৩১.৭৯ কোটি টাকা
সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে ২০১৭ সালে ডঃ চন্দ্রের নিট সম্পদ ছিল ৪৫,৮৮৮ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৩১.৭৯ কোটি টাকায়।
এই তথ্য খণ্ডন করে ডঃ চন্দ্র জানান, ২০১৭ সালে এক আন্তর্জাতিক অর্থ প্রদান প্রক্রিয়ার সময় একটি তৃতীয় পক্ষ এসেল গ্রুপের সমস্ত সংস্থার মোট বাজার মূলধনকে ভুলবশত তাঁর ব্যক্তিগত নিট সম্পত্তি বলে নথিভুক্ত করে। প্রকৃতপক্ষে, ২০১৬ সালে রাজ্যসভার সংসদ হিসেবে পেশ করা সরকারি নথিতে তাঁর ঘোষিত সম্পদ ছিল ৩৯.০৮ কোটি টাকা।
পরবর্তীকালে বিভিন্ন সংকটে মূল সংস্থাগুলির কর্মীদের বকেয়া বেতন নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মেটানোর কারণে তাঁর সম্পদ কিছুটা কমে ২০২৪ সালে ৩১.৭৯ কোটি টাকায় এসে পৌঁছায় (যার মধ্যে ২৫ কোটি টাকার একটি বাসগৃহ অন্তর্ভুক্ত)। এই আইনি ও বাস্তব সম্পদের ওপর ভিত্তি করেই ট্রাইব্যুনালে ৬.৫ কোটি টাকার একটি বাস্তবসম্মত পরিশোধ পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে সঠিক বিশ্লেষণ করার জন্য তিনি সমস্ত সম্পাদকীয় ও সংবাদ মাধ্যমের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
