
শিশির জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ বোঝা যাচ্ছে না। তবে প্রায় ১৫০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ, যার মধ্যে ৮০০ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজ ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৩০০। তাঁরা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। (Nepal Disaster)
বুধবার অল্প সময়ের মধ্যেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় নেপাল। নদীর জলস্তর বেড়ে যায় একধাক্কায়। একের পর এক গ্রাম ভেসে যায় হড়পা বানে। শিশিরের বক্তব্য, “মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শহরের পর শহর ভেসে গিয়েছে। হাজার হাজির পরিবার বাড়িঘর হারিয়েছেন। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের দরুণ কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এখনও তা বোঝার চেষ্টা করছি আমরা।”
শিশির জানিয়েছেন, ৫০০-র বেশি বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। অন্যরা যাতে নিরাপদ থাকেন, দেখা হচ্ছে ভাল ভাবে। তাঁর কথায়, “ভারতীয়-সহ বিদেশি নাগরিকরা মানসরোবর যাত্রা যেতে ওই এলাকা দিয়ে যান। প্রায় ৩০০ ভারতীয়ের খোঁজ নেই। সরকার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নেপালবাসীর পাশাপাশি, আমরা বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সাম্প্রতিক কালে নেপালে এত বড় বিপর্যয় ঘটেনি বলেও মত তাঁর। ভারতের তরফে যে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে, তার জন্যও দিল্লিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
নেপালে জলপ্রলয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তিন জেলায় প্রবল ক্ষয়ক্ষতি। বহু জেলায় রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। যোগাযোগের কোনও পথ নেই। নেপালের নিরাপত্তাবাহিনীরই ৯১১ জন কর্মীর খোঁজ মিলছে না। প্রায় ৬০০ পর্যটকের কোনও খোঁজ নেই। খোঁজ মিলছে না নেপালে ঘুরতে যাওয়া ৩০০-র বেশি ভারতীয়ের। আরও বহু বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ। আমেরিকার ৪৭, ব্রিটেনের ৩৩ জন নাগরিক নিখোঁজ। খোঁজ মিলছে না অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ ও কানাডার ২৪ জন নাগরিকের। নেপালের সেনা বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ভারত থেকে ইতিমধ্যে ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী নেপালে পৌঁছেছে। ২১ জন ভারতীয় সমেত এখনও পর্যন্ত ১১৬ জনকে উদ্ধার করেছে নেপালের সেনাবাহিনী।
