চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪০০! নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ দুর্যোগে এখনও নিখোঁজ ১,৪৬৮

চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪০০! নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ দুর্যোগে এখনও নিখোঁজ ১,৪৬৮

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসাবশেষে নদীর গতিপথ আটকে যাওয়ায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিখোঁজদের উদ্ধারের পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন বিপর্যয় মোকাবিলাতেও প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

নেপাল: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ধসের পর উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে। বৃহস্পতিবার কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ৩৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১,৪৬৮ জন।
হড়পা বন্যা ও ভূমিধসের জেরে একাধিক গ্রাম কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। প্রবল স্রোতে বরফঠান্ডা জল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে বাড়িঘর, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল ও তিব্বতে বহু মানুষ নিখোঁজ
নেপাল পুলিশের হিসাবে, এখনও পর্যন্ত ৩৮৯টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, চিনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতে তিন জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। সেখানে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮। নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার হিসাবে, দেশে ৯১০ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। তিব্বতের নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ২৬০ জন বিদেশি। ফলে দুই দেশের মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৬৮।
নিখোঁজদের মধ্যে ২৯০ ভারতীয়

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ভারতীয় নাগরিকদের। তাঁদের অনেকেই তিব্বতের পবিত্র কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৮৪ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও ২৯০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের সন্ধান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে।
হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা

নেপাল ও চিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ জল, পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ হিমালয়ের নদীগুলিতে নেমে আসে। তার জেরেই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। কাঠমান্ডু থেকে লাসা যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রুটের একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পথটি পর্যটক, ট্রেকার এবং তীর্থযাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের জেরেই হিমবাহ ধস হয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এলাকায় যে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেটি আসলে হিমবাহের বরফ ও পাথর ধস এবং পরবর্তী ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকে তৈরি হওয়া ভূকম্পীয় শক্তি ছিল।
নতুন করে বন্যার আশঙ্কা

ভয়াবহ বন্যার পর এবার নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ জমে নদীর গতিপথ আটকে যাওয়ায় একাধিক জায়গায় জল জমে তৈরি হয়েছে বিশাল হ্রদ। নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোটেকোশি নদীর গতিপথ ধ্বংসাবশেষে আটকে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেই হ্রদের জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। বাঁধ ভেঙে গেলে ফের ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। চিনের পক্ষ থেকেও আগামী তিন দিনে প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল ওই জলাধারে জমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। চিনা সংবাদমাধ্যমের দাবি, জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং ১ সেপ্টেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ জলপ্রবাহ হতে পারে।
(Feed Source: news18.com)