না নদী, না কুয়ো… এখানে ‘বাতাস’ থেকেই মেলে জল, পাহাড়ে থাকা এই বিশেষ ব্যবস্থাই করছে অসাধ্য সাধন

না নদী, না কুয়ো… এখানে ‘বাতাস’ থেকেই মেলে জল, পাহাড়ে থাকা এই বিশেষ ব্যবস্থাই করছে অসাধ্য সাধন

বিশ্বে এমন একটি জায়গাও রয়েছে, যেখানে জল সংগ্রহের পদ্ধতি অত্যন্ত অভিনব। এখানে প্রকৃতি ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে মানুষের জলের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। একসময় যে পরিবারগুলিকে জল সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হতো, এই ব্যবস্থার ফলে তাদের জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে।

ক্যাসাব্লাঙ্কা: বিশ্বের বহু প্রান্তে মানুষের কাছে জলের অভাব প্রতিদিনের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে জলের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, সেখানে এর প্রভাব বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জীবনে পড়ে। কিন্তু মরক্কোর অত্যন্ত শুষ্ক একটি অঞ্চলে প্রযুক্তি এই সমস্যার এমন এক সমাধান খুঁজে বের করেছে, যা প্রথম দেখলে কোনও অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম মনে হবে না।
দক্ষিণ-পশ্চিম মরক্কোর অ্যান্টি-অ্যাটলাস অঞ্চলে একসময় মহিলাদের জলের জন্য কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হতো। বহু পরিবার দূরে থাকা কুয়োর উপর নির্ভরশীল ছিল এবং প্রতিদিন জল সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে যেত। কিছু মহিলা মাথায় বড় পাত্র নিয়ে জল বাড়িতে ফিরিয়ে আনতেন। এখন এই অঞ্চলে একটি অভিনব ব্যবস্থা মানুষের জীবন অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে।
এখানে বাতাস থেকেই পাওয়া যায় জল!
এই ব্যবস্থা মাটির নীচে কোনও নতুন কুয়ো থেকে জল তোলে না, বরং বাতাসে থাকা কুয়াশা থেকে জল তৈরি করে। পাহাড়ি এলাকায় উঁচু স্থানে কালো পলিমার মেশ (Polymer Mesh) বা বিশেষ ধরনের জাল বসানো হয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরের দিক থেকে আসা কুয়াশা যখন অ্যান্টি-অ্যাটলাসের পাহাড়গুলির উপর দিয়ে যায়, তখন তার সূক্ষ্ম জলকণাগুলি এই জালগুলির উপর জমতে শুরু করে।
এরপর সেই জলকণাগুলি সংগ্রহ করে ট্যাঙ্কে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নীচে বসবাসকারী বাড়িগুলিতে জল পৌঁছে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, এই পুরো ব্যবস্থায় জলের উৎস কোনও নদী বা প্রচলিত কুয়ো নয়, বরং পরিবেশে থাকা কুয়াশা।
এই ফগ হার্ভেস্টিং ব্যবস্থা মাউন্ট বোটমেজগুইডায় (Mount Boutmezguida) স্থাপন করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪,০০০ ফুটেরও বেশি বলে জানা যায়। মরক্কোর অলাভজনক সংস্থা ‘দার সি হামদ’ এই প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সংস্থাটি ২০০৬ সালে কুয়াশাকে মিষ্টি জলের উৎস হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিল।
পাহাড়ে বসানো জালিই করছে অসাধ্য সাধন:
সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তিতেও উন্নতি হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ফলে ফগ সংগ্রহের ক্ষমতা প্রায় ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে এই পরিবর্তন গ্রামবাসীরা প্রথমে সহজে মেনে নেননি। কিছু মানুষের ধারণা ছিল, মাটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত না হওয়া জলে প্রয়োজনীয় খনিজ থাকে না।
৫২ বছর বয়সি ফাদমাও প্রথম দিকে এই প্রকল্প নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায় এবং তিনিও এটিকে জলের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গ্রহণ করেন।
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মহিলাদের জীবনে। জল আনতে যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় হতো, তা বাঁচতে শুরু করেছে এবং পরিবারগুলি বাড়ির কাছেই জল পেতে শুরু করেছেন।
(Feed Source: news18.com)