)
Nepal Morgues Run out of Space: সবচেয়ে বড় সংকট, মৃতদেহের স্থান সংকুলান না হওয়া। উদ্ধারকাজে এত দেহ উদ্ধার হচ্ছে যে, তা রাখার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। উপচে পড়ছে নেপালের মর্গ, হাসপাতাল। আর দেহ খুব বেশি দিন সংরক্ষণ করে রাখার মতো ব্যবস্থাও নেই সেদেশে। এরপর কী হবে?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালের হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ৫০০-র কাছাকাছি পৌঁছেছে। শুক্রবার সকালে ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। তবে নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট ৪৭৫ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। এখনও নিখোঁজ বহু। এর মধ্যে একটা বড় অংশ ভারতীয়। বিপর্যয়-পরবর্তী নানা সংকটে দিশাহারা নেপাল। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকট, মৃতদেহের স্থান সংকুলান না হওয়া। উদ্ধারকাজে এত দেহ উদ্ধার হচ্ছে যে, তা রাখার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। উপচে পড়ছে মর্গ, হাসপাতাল। আর দেহ খুব বেশি দিন সংরক্ষণ করে রাখার মতো ব্যবস্থাও নেই সেদেশে।
ভরে গিয়েছে মর্গ
বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে আসা হড়পা বানে তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলের গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যায়। জল পাথর ও কাদামাটির প্রবল স্রোতে ঢাকা পড়ে যায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল। তার পর থেকেই শুরু উদ্ধারকাজ। আর পাল্লা দিয়ে উদ্ধার হচ্ছে দেহ। তবে সেগুলি সংরক্ষণ করে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল। ইতিমধ্যেই একাধিক মর্গ ভরে গিয়েছে। কোথাও অস্থায়ী ভাবে দেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বটে, তবে তা কত দিন রাখা যাবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত নয়।
গণসৎকার
জলের তোড়ে ভেসে বহু দূরে ছিটকে চলে গিয়েছে দেহ। ফলে মৃতের পরিবার পরিচিত যদি দেহ শনাক্ত করতে আসেন, তবে তাঁদের অনেকটা পথ পেরোতে হবে। এবং এজন্য সময়ও লাগবে। নেপালের পোখরা অ্যাকাডেমি অফ হেল্থ সায়েন্সের অধিকর্তা সুশীল আরিয়াল জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে মর্গে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দেহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তা ১০ থেকে ১৪ দিন রাখা যাবে। তার পর আর রাখা সম্ভব নয়। এই সময়ের মধ্যে পরিচিত কেউ এসে দেহ শনাক্ত না করলে দেহগুলি সৎকার করে ফেলতে হবে। সে ক্ষেত্রে অশনাক্ত দেহগুলির গণসৎকার শুরু করবে নেপাল সরকার। এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী আর বিকল্প উপায় নেই।
চিহ্নিত দেহ সৎকার
তবে এরই মধ্যে অনেক দেহই অবশ্য সৎকার করা সম্ভব হয়েছে। একটি জায়গায় কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়ি শনাক্ত করে সেখানে অস্থায়ী ভাবে ২৫০ দেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে নেপালের সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। যেখানে মর্গ উপচে পড়ছে, সেখান থেকে দেহ অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে। তবে অচিরেই হয়তো অশনাক্ত দেহ সৎকার করতে হবে। তবে, যদি অশনাক্ত দেহ সৎকারের মতো পরিস্থিতি আসে, তখন বিভিন্ন দিক থেকে দেহগুলির ছবি, ভিডিয়ো করে, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তবেই সৎকার করা হবে। যাতে পরবর্তী সময়ে পরিবারের কেউ খোঁজ করতে এলে, তাঁদের সেই তথ্য দেওয়া যায়। ইতিমধ্যে নিখোঁজ অনেকের পরিজনেরা মর্গগুলিতে ভিড় করতে শুরু করেছেন। পরিচিতের ছবি হাতে তাঁরা কর্তৃপক্ষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। এই পরিস্থিতিতে দেহ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক, শুকনো বরফ ইত্যাদি সংগ্রহেও হিমশিম খাচ্ছে নেপাল।
(Feed Source: zeenews.com)
