)
Nepal Flash Flood: কোথাও সন্তানদের নাম না পেয়ে তিনি ভেবে নিয়েছিলেন যে তারা আর বেঁচে নেই। কেবল কান্নাকাটি করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না। তবে ভাগ্যক্রমে, আগেই নিজের ছোট ছেলেকে জীবিত খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: ভয়াবহ হড়পা বানে তছনছ নেপাল। কমপক্ষে ৬২৬ জনের মৃত্যুর খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ প্রায় ২৪০০। দেশ জুড়ে শুধুই হাহাকার আর আতর্নাদ। একদিকে যখন কাদা জলের তলায় স্বজনদের খোঁজে পরিবার। তারই মাঝে এল এক টুকরো আশার আলো। বন্যায় প্রাণ ফিরে পেয়ে মায়ের কোলে ফিরে এল আট বছরের শিশু জোয়াল ঘালে। গত বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসে ভয়াবহ প্লাবিত হয় একটি স্কুল। সেই সময় জোয়াল বনের ভেতর দৌড়ে গিয়ে গাছে চড়ে নিজের জীবন বাঁচায় সে।
দুদিন নিখোঁজ ছিল জোয়াল। অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার পর শুক্রবার রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে তার মা মাট্টি মায়া তামাংয়কে ফিরে পায় ছোট্ট জোয়াল। মা-ছেলের পুনর্মিলনের দৃশ্য চোখে জল এনে দেবে সকলের।
দুর্যোগের পরের দিন, অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার, ভাঙা পা আর মুখে ক্ষতচিহ্ন নিয়ে একা জোয়ালকে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। কিন্তু অন্যদিকে তার ২৮ বছরের তরুণী মা মাট্টি মায়া তামাং তখন পাগলের মতো এক আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আরেক আশ্রয়কেন্দ্রে নিজের দুই সন্তানকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। পরপর চারটি তালিকায় সন্তানদের নাম না পেয়ে মাট্টি মায়া ধরে নিয়েছিলেন, তার দুই সন্তানই আর কেউ বেঁচে নেই। তিনি বুক ফেটে কাঁদছিলেন আর ভেঙে পড়ছিলেন। হাহাকার করা কান্না ছাড়া তাঁর কাছে আর কিছুই ছিল না। এর মধ্যেই অলৌকিকভাবে তিনি তাঁর ছোট ছেলেকে জীবিত খুঁজে পান।
এই হৃদয়বিদারক কাহিনীর মোড় ঘোরে বার্তা সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে। পরবর্তীতে মাট্টি মায়া রয়টার্সের সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন যে তার বড় ছেলেও জীবিত আছে এবং তাকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডু পাঠানো হয়েছে। রয়টার্সের দলই মায়ের জন্য কাঠমান্ডু যাওয়ার গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়।
গত বুধবার বুধবার সকালে বাচ্চারা যখন স্কুলে যায়, মাট্টি মায়া তখন ঘরের কাজ করছিলেন। হঠাত্ ভূমিকম্পের মতো বিকট শব্দ ভেসে আসে। ল্যাংটাং লিরুং পর্বতের হিমবাহ ভেঙে পড়ে এক মুহূর্তেই পুরো এলাকা তছনছ হয়ে যায়। ১৫ মিনিটের দূরের সেই স্কুলে পৌঁছাতে গিয়ে মা দেখেন, স্কুল বলে আর কিছুই দাঁড়িয়ে নেই, বাজার উধাও। সেখানে ছিল শুধু গর্জাতে থাকা জল, পাথর আর কাদা।
পুলিসের উদ্ধারকর্মীরা যখন জোয়ালকে উদ্ধার করেন। তাকে হাসপাতালে যেতে রাজি করাতে পুলিস অফিসাররা তার হাতে ১০ টাকার দুটি নোট দেন। যা সে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রেখেছিল। জোয়াল জানায়, জলের তোড় ও ধস আসার পর চারিদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সে ভয় পায়নি।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে অন্তত ১৭,০০০ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে অন্তত ৫৮০ জন মারা গিয়েছেন এবং প্রায় ২,৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার কাঠমান্ডুর হাসপাতালের বিছানায় অবশেষে ছেলের পাশে দাঁড়ান মাট্টি মায়া। জাপানে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কর্মরত শিশুটির বাবাও দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মাঝেও ছেলেকে ফিরে পেয়ে মায়ের মুখে হাসি ফুটেছে। ছেলেটির দুরন্তপনার কথা মনে করে মা বলেন, ‘ও খুব দুষ্টু একটা ছেলে, ওর হাড় ভাঙার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।’
(Feed Source: zeenews.com)
