)
দেশের বিভিন্ন জায়গায় H1N1 বা সোয়াইন ফ্লুয়ের সংক্রমণ বাড়ছে। একই সময়ে টাইফয়েডও হলে রোগ নির্ণয় কঠিন হতে পারে, কারণ দুই রোগের বেশ কিছু উপসর্গ একই। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দুই সংক্রমণের চিকিৎসাও আলাদা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশের বিভিন্ন জায়গায় H1N1 বা সোয়াইন ফ্লু-এর সংক্রমণ বাড়ছে। জ্বর, কাশি, দুর্বলতা, শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে অনেকের মধ্যে। এর মধ্যেই চিকিৎসকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছেন—একই সঙ্গে H1N1 ও টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়া। H1N1 এবং টাইফয়েড সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের সংক্রমণ। H1N1 হয় ইনফ্লুয়েঞ্জা A ভাইরাসের কারণে, আর টাইফয়েড হয় Salmonella Typhi ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে। তবে বিরল হলেও দু’টি সংক্রমণ একই সময়ে হতে পারে।
H1N1 মূলত শ্বাসযন্ত্রে প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে টাইফয়েড প্রধানত পরিপাকতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। দু’টি সংক্রমণ একসঙ্গে হলে শরীরের উপর চাপ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে দুর্বলতা, ডিহাইড্রেশন এবং শারীরিক ক্লান্তি। একই সঙ্গে কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গের পাশাপাশি পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কী কী উপসর্গ হতে পারে?
দুই সংক্রমণ একসঙ্গে থাকলে দেখা দিতে পারে— দীর্ঘক্ষণ বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি ও প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, কাশি ও গলা ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ, শ্বাস নিতে সমস্যা, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, খিদে কমে যাওয়া।
কেন রোগ ধরা কঠিন?
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, H1N1 এবং টাইফয়েডের বেশ কিছু উপসর্গ একই। যেমন জ্বর, মাথাব্যথা এবং দুর্বলতা দুই রোগের ক্ষেত্রেই হতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ দেখে কোন সংক্রমণ হয়েছে তা নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
H1N1 ও টাইফয়েডের মতো সংক্রমণ একসঙ্গে হলে বিশেষ করে সতর্ক থাকা প্রয়োজন—বয়স্কদের, ছোট শিশুদের, গর্ভবতী মহিলাদের, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের, দীর্ঘদিনের কোনও অসুস্থতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের।
চিকিৎসা কী?
দুই রোগের চিকিৎসা এক নয়। টাইফয়েডের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, আর H1N1-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। পর্যাপ্ত জল, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপোর্টিভ কেয়ারও গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজের থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। H1N1 ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি এর চিকিৎসা করে না। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট হলে, মাথা ঘুরে বিভ্রান্তি দেখা দিলে, প্রচণ্ড পেটে ব্যথা হলে বা পর্যাপ্ত জল খেতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
এটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য। উপসর্গ থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
(Feed Source: zeenews.com)
