)
যশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করে সমালোচনার মুখে কিয়ারা আডবাণী। তিনি বিবাহিত এবং মা—এই কারণেই একাংশের ট্রোলিংয়ের শিকার হচ্ছেন অভিনেত্রী। এবার কিয়ারার পাশে দাঁড়িয়ে সেই সমালোচনার জবাব দিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: যশ ও কিয়ারা আডবাণী অভিনীত টক্সিক মুক্তির পর থেকেই ছবির ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে যশের সঙ্গে কিয়ারার অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী। কিয়ারা বিবাহিত এবং মা—এই পরিচয়কে সামনে রেখেই তাঁকে ট্রোল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এবার সেই সমালোচনার বিরুদ্ধে সরব হলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। তাঁর সাফ প্রশ্ন,‘‘কিয়ারা কি কখনও বলেছেন যে তিনি শুধু মাদার টেরেসার মতো চরিত্রই করবেন?’’
২৬ অগাস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘Toxic’। ছবিতে যশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন কিয়ারা আডবাণী। মুক্তির আগে থেকেই ছবির ‘তাবাহি’ গান এবং যশ-কিয়ারার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। ছবি মুক্তির পর সেই আলোচনা আরও বেড়েছে। কিয়ারাকে নিয়ে ট্রোলিংয়ের একটি বড় কারণ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই কিয়ারা ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রার কন্যাসন্তান জন্মায়। এরপর কিয়ারার সাহসী ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। অনেকেই তাঁর মা হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রীকে কটাক্ষ করেন।
এই পরিস্থিতি নিয়েই NDTV-কে সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে তাঁর কাজ দেখার আগেই বিচার করা ঠিক নয়। বিশেষ করে মহিলা অভিনেতাদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায় বলে মনে করেন তিনি। স্বস্তিকা বলেন, সিনেমা দেখার আগে থেকেই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে মানুষের একটা মত তৈরি হয়ে যায়। অথচ দর্শক জানেন না ছবিতে চরিত্রটির আসল গুরুত্ব কী, গল্পের প্রেক্ষাপট কী, সেই দৃশ্য কেন রাখা হয়েছে বা কীভাবে সেটি শুট করা হয়েছে। শুধু কোনও ঘনিষ্ঠ দৃশ্য রয়েছে বলেই অভিনেত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করা শুরু করে দেওয়া উচিত নয়।
নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বলেন স্বস্তিকা। তাঁর দাবি, বহু বছর ধরেই তাঁকেও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার জন্য বিচার করা হয়েছে। কিন্তু এখন তাঁর দর্শক জানেন, এই ধরনের মন্তব্য নিয়ে তিনি খুব একটা মাথা ঘামান না। এরপরই কিয়ারাকে নিয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—‘‘কিয়ারা বা অন্য কোনও অভিনেত্রী কি দর্শকদের কাছে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁরা শুধু মাদার টেরেসার মতো চরিত্রই করবেন?’’ স্বস্তিকার বক্তব্য, একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন তাঁর পর্দার চরিত্র নির্ধারণ করে দিতে পারে না। একজন অভিনেত্রী মা হয়েছেন বলেই তিনি পর্দায় আর রোম্যান্টিক বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে পারবেন না—এমন কোনও নিয়ম নেই।
‘মা হলেই কি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করা যাবে না?’
এই প্রসঙ্গেই স্বস্তিকা আরও বলেন, সন্তান পৃথিবীতে আসার বিষয়টির সঙ্গেও তো মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ঘনিষ্ঠতা জড়িত। তাঁর মতে, সমাজের উচিত যৌনতা বা সম্পর্ককে স্বাভাবিক জীবনের অংশ হিসেবে দেখা। কিন্তু এখনও সমাজের একটি অংশ এই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। স্বস্তিকার কথায়, মানুষ যে কোনও সামাজিক বা আর্থিক অবস্থানে থাকুক না কেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি জড়িত। তাই মা হওয়ার পর একজন অভিনেত্রীর পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করাকে আলাদা করে বিচার করা উচিত নয়।
কিয়ারার পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘Toxic’-এর আরও এক অভিনেতা
শুধু স্বস্তিকা নন, ‘Toxic’-এর ব্রিটিশ অভিনেতা বেনেডিক্ট গ্যারেটও কিয়ারাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। একটি ভিডিয়োতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করার জন্য যশকে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা করা হচ্ছে, তখন কিয়ারাকে কেন কটাক্ষ করা হচ্ছে? বেনেডিক্টের বক্তব্য, যশও বিবাহিত এবং তাঁরও সন্তান রয়েছে। তাহলে একই কাজের জন্য পুরুষ অভিনেতা প্রশংসা পাবেন আর মহিলা অভিনেত্রীকে আক্রমণের মুখে পড়তে হবে কেন?
(Feed Source: zeenews.com)
