এখন থেকে ব্যাঙ্কে গিয়ে বিয়ে করা যাবে, চিনে বিয়ের ব্যবস্থা হাসপাতাল, নাইটক্লাব, মেট্রো স্টেশনেও

এখন থেকে ব্যাঙ্কে গিয়ে বিয়ে করা যাবে, চিনে বিয়ের ব্যবস্থা হাসপাতাল, নাইটক্লাব, মেট্রো স্টেশনেও

 

নয়াদিল্লি: বিয়ে-সংসারের প্রতি আগ্রহ কমছে মানুষের। আগে একাধিক সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। জনবিন্যাসের উপরও তার প্রভাব পড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সেই পরিস্থিতি বদলাতে এবার বড় পদক্ষেপ করল চিন সরকার। হাসপাতাল, ব্যাঙ্ক, মেট্রো স্টেশন, নাইটক্লাবের মতো জায়গায় ‘ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন কাউন্টার’ চালু করল তারা, যাতে বিয়েতে বেশি ঝটঝামেলা পোহাতে না হয়। বিয়ের কথা মাথায় এলেই হাতের কাছে উপায় থাকে। (China Marriage Registration Service)

‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ জানিয়েছে, Qixi Festival চলাকালীনই এই পদক্ষেপ সরকারের। শাংদংয়ের লিনজ়ি জেলার মেটারন্যাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ হাসপাতাল সেই মর্মে বড় ঘোষণাও করে। হাসপাতালেই বিয়ের সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে বলে জানায় তারা। ‘One-stop shop’ প্রকল্পের আওতায় একই জায়গায় বিয়ে এবং বিবাহপূর্ব হেলথ চেকআপের ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিয়ের পর সময় নষ্ট না করে, সেখানেই সন্তানধারণ নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। (China Demographic Crisis)

শুধু ওই হাসপাতালই নয়, পোস্টাস সেভিংস ব্য়াঙ্ক অফ চায়না গত মাসেই ওই ঘোষণা করে। চিনে বিয়ে নথিভুক্তিকরণ পরিষেবা প্রদানকারী প্রথম ব্য়াঙ্ক হয়ে ওঠে তারা। গুয়াংঝৌ-এর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বিয়ের আইনি শংসাপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। এমন জায়গায় অফিসটি খোলা হয়েছে, যেখানে বসে বিমান ওঠানামা করতে দেখতে পারেন যুগলরা। 

শাংহাইয়ের একটি নাইটক্লাবও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বিয়ের শংসাপত্র প্রদানের পরিষেবা চালু করেছে। সবসময় আধিকারিক মোতায়েন রয়েছে সেখানে। তাঁরাই দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ের শংসাপত্রে সই করাচ্ছেন যুগলদের। বিয়ের পর ইলেকট্রনিক মিউজিক ফেস্টিফ্যালের ব্যবস্থাও থাকছে। এমনকি বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে মেট্রো স্টেশন, ঐতিহাসিক মন্দিরগুলিতেও।

জনবিন্যাসের কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিন। দেশে জন্মের হার যেমন কমে এসেছে, তেমনই কমছে কর্মদক্ষ মানুষের সংখ্য়া কমছে লাগাতার। সেই কারণেই তরুণ প্রজন্মকে বিয়ে, সন্তান, সংসারে উৎসাহ জোগানো হচ্ছে। কিন্তু এতে গত বছর পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি চোখে পড়লেও, চলতি বছরের প্রথম ছ’মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, বিয়ে নথিভুক্তিকরণে ৭.৫ শতাংশ পতন ঘটেছে।

যদিও যেখানে সেখানে ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন অফিস খোলা নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, যথেষ্ট ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন অফিস নেই বলে মানুষজন বিয়ে থেকে পিছু হটছেন না। এই যুক্তি দিলে বিবাহবিচ্ছেদের অফিস করতে হবে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায়, যাতে সেখানে কেউ পৌঁছতেই না পারেন। কারও বিবাহবিচ্ছেদই না হয়। বরং দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলি বুঝতে হবে সরকারকে। জনসংখ্যায় ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে মানুষের জীবনযাপনের মান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া উচিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

(Feed Source: abplive.com)