
সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানের নামের শেষে ‘খালি’ শব্দটি কেন ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সন্দেশখালি, ধামাখালি, কাটাখালি—এই নামগুলির পেছনে লুকিয়ে আছে ইতিহাসের গল্প, যা স্থানীয় ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সুন্দরবনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এখানে নদী ও জনবসতির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কোথাও নদীর পাড় ঘেঁষে বসতি, কোথাও খাড়ির ধারে গ্রাম, আবার কোথাও নদী-জঙ্গলের মধ্যবর্তী ফাঁকা জমি পরিষ্কার করে মানুষের বসতি গড়ে ওঠার ইতিহাস রয়েছে। ফলে এলাকার নামের মধ্যেই সুন্দরবনের ভূপ্রকৃতি, জলপথ ও বসতি গড়ে ওঠার অতীতের ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়। আজকের দিনে সন্দেশখালি, ধামাখালি বা তুষখালির মতো নামগুলি আমাদের কাছে শুধুই পরিচিত এলাকার নাম। কিন্তু নামগুলির দিকে একটু গভীরভাবে তাকালেই যেন খুলে যায় সুন্দরবনের পুরোনো দিনের একটি জানালা। ‘খালি’ শব্দটি তাই শুধু একটি নামের অংশ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে সুন্দরবনের ফাঁকা জমি, খাল-খাড়ি, নদী এবং মানুষের বসতি গড়ে ওঠার বহু পুরোনো ইতিহাস।
সুন্দরবনের মাটি যেমন প্রতিনিয়ত নদীর স্রোত, জোয়ার-ভাটা ও পলি জমার সঙ্গে বদলে যায়, তেমনই বদলেছে এখানকার জনজীবন ও জনপদ। আর সেই পরিবর্তনের অনেকটাই আজও টিকে রয়েছে সন্দেশখালি থেকে ধামাখালি—একের পর এক এলাকার নামের শেষে থাকা ছোট্ট একটি শব্দে, ‘খালি’।
(Feed Source: news18.com)
