GK: সন্দেশখালি-ধামাখালি-সজনেখালি…, বলুন তো সুন্দরবনের এই জায়গার নামের শেষে কেন এত ‘খালি’? বেশিরভাগ মানুষেরই অজানা

GK: সন্দেশখালি-ধামাখালি-সজনেখালি…, বলুন তো সুন্দরবনের এই জায়গার নামের শেষে কেন এত ‘খালি’? বেশিরভাগ মানুষেরই অজানা

সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানের নামের শেষে ‘খালি’ শব্দটি কেন ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সন্দেশখালি, ধামাখালি, কাটাখালি—এই নামগুলির পেছনে লুকিয়ে আছে ইতিহাসের গল্প, যা স্থানীয় ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বসিরহাট, জুলফিকার মোল্যা: সুন্দরবনের নামের শেষে কেন ‘খালি’? সন্দেশখালি, ধামাখালি, কাটাখালি—লুকিয়ে ইতিহাসের গল্প। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় চোখ রাখলেই নজরে আসে এক অদ্ভুত নামের মিল। সন্দেশখালি, কাটাখালি, ধামাখালি, লেবুখালি, তুষখালী, ধুচনেখালি, চাড়ালখালি—এমন অসংখ্য গ্রাম, জনবসতি কিংবা এলাকার নামের শেষে রয়েছে ‘খালি’ শব্দটি। শুধু নামের মিল নয়, এই ‘খালি’ শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সুন্দরবনের ভৌগোলিক পরিবর্তন, নদী-খাল আর জনবসতি গড়ে ওঠার ইতিহাস।
আঞ্চলিক গবেষক বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল একসময় ছিল অনেকটাই ফাঁকা ও জনবসতিহীন। ঘন জঙ্গল, নদী-নালা ও জলাভূমিতে ঘেরা এই এলাকায় ধীরে ধীরে মানুষ বসতি গড়ে তুলতে শুরু করেন। সেই সময়ের ফাঁকা বা খালি পড়ে থাকা জায়গাগুলির সঙ্গে স্থানীয়ভাবে ‘খালি’ শব্দটি যুক্ত হয়ে যায় বলে একটি মত রয়েছে। পরবর্তীকালে সেই জায়গাগুলিতে বসতি তৈরি হলেও পুরনো নামগুলি থেকে যায়। তবে ‘খালি’ শব্দের উৎপত্তি নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মত রয়েছে। সুন্দরবনের ভৌগোলিক চরিত্রই যেখানে নদী, খাল, খাড়ি ও জলপথকে ঘিরে তৈরি, সেখানে রায়মঙ্গল, কালিন্দী-সহ বিভিন্ন নদীর সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য খাল ও খাড়ি ছিল। স্থানীয় উচ্চারণ ও ব্যবহারের মধ্য দিয়ে সেই খাল বা খাড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত জায়গার নামের শেষে ‘খালি’ শব্দটির প্রচলন হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করা হয়।
সুন্দরবনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এখানে নদী ও জনবসতির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কোথাও নদীর পাড় ঘেঁষে বসতি, কোথাও খাড়ির ধারে গ্রাম, আবার কোথাও নদী-জঙ্গলের মধ্যবর্তী ফাঁকা জমি পরিষ্কার করে মানুষের বসতি গড়ে ওঠার ইতিহাস রয়েছে। ফলে এলাকার নামের মধ্যেই সুন্দরবনের ভূপ্রকৃতি, জলপথ ও বসতি গড়ে ওঠার অতীতের ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়। আজকের দিনে সন্দেশখালি, ধামাখালি বা তুষখালির মতো নামগুলি আমাদের কাছে শুধুই পরিচিত এলাকার নাম। কিন্তু নামগুলির দিকে একটু গভীরভাবে তাকালেই যেন খুলে যায় সুন্দরবনের পুরোনো দিনের একটি জানালা। ‘খালি’ শব্দটি তাই শুধু একটি নামের অংশ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে সুন্দরবনের ফাঁকা জমি, খাল-খাড়ি, নদী এবং মানুষের বসতি গড়ে ওঠার বহু পুরোনো ইতিহাস।
সুন্দরবনের মাটি যেমন প্রতিনিয়ত নদীর স্রোত, জোয়ার-ভাটা ও পলি জমার সঙ্গে বদলে যায়, তেমনই বদলেছে এখানকার জনজীবন ও জনপদ। আর সেই পরিবর্তনের অনেকটাই আজও টিকে রয়েছে সন্দেশখালি থেকে ধামাখালি—একের পর এক এলাকার নামের শেষে থাকা ছোট্ট একটি শব্দে, ‘খালি’।
(Feed Source: news18.com)