)
Aryna Sabalenka Jewellery US Open 2026: কোর্টে হল না রাজ, তবে চর্চায় ১২৭ ক্যারাটের সাজ! নেকলেস-ব্রেসলেট-ইয়ারিং; নীলকান্তমণি-টুরমালিন-ট্যানজানিটে জড়ানো এরিনা সাবালেঙ্কার শরীর…
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এরিনা সাবালেঙ্কার খুব একটা পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বেলারুশের এই সুন্দরী বর্তমানে বিশ্বের ১ নম্বর মহিলা টেনিস খেলোয়াড়। বিধ্বংসী সার্ভ ও ফোরহ্যান্ডে প্রতিপক্ষের গেমপ্ল্যান মুহূর্তে ভুলিয়ে দেন। ২৮ বছর বয়সী ৬ ফুটের রমনী কোর্টে ঝড় তোলেন। টেনিসের অন্যতম সেরা এবং প্রভাবশালী খেলোয়াড়। সাবালেঙ্কার অন-কোর্ট এবং অফ-কোর্ট ফ্যাশনও স্টেটমেন্ট। নাইক-গুচির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বোল্ড লুকেই নিজেকে দেখতে ভালোবেসেন। ইভেন্ট বুঝেই পোশাকের পরিকল্পনা করেন তিনি। তা হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকত ও সার্ফিং সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত। আবার কখনও ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী ব্যালে নাচের অনুপ্রেরণায় পোশাক! সম্প্রতি ইউএস ওপেনে সাবালেঙ্কার উজ্জ্বল কমলা রঙের স্পোর্টস ব্রা এবং শর্টসের ওপর কালো রঙের নেটের বাস্কেটবল-স্টাইলের টপও বেশ চর্চায় ছিল। যদিও ইউএস ওপেনের মিক্সড ডাবলসে নোভাক জোকোভিচের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছিলেন! দুর্ভাগ্যবশত এই তারকা জুটি চেক প্রজাতন্ত্রের ক্যাটেরিনা সিনিয়াকোভা এবং ব্রিটেনের হেনরি প্যাটেন জুটির কাছে ১-৪, ৪-২, (১০-২) ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান। হেরে গেলেও চর্চায় সাবালেঙ্কার কোর্টে ১২৭ ক্যারাটের সাজ! নেকলেস-ব্রেসলেট-ইয়ারিংয়ে মোড়া সাবালেঙ্কার শরীরে নীলকান্তমণি, টুরমালিন, ট্যানজানিট, ক্রাইসোবেরিল, স্পিনেল, গার্নেট, জিরকনের মতো মহামূল্য়বান রন্তপাথরই শোভা পেয়েছিল!
সাবালেঙ্কার খেলার মধ্যেই যে কেবল চোখ ধাঁধানো ঔজ্জ্বল্য রয়েছে তা নয়, বরং টেনিস খেলার সময় তিনি যে গয়না পরেন, সেখান থেকেও নজর এড়ানো যায় না। জোকারের সঙ্গে ইউওপেনের মিক্সড ডাবলস খেলার সময় তাঁর নেকলেস, ব্রেসলেট এবং ড্রপ ইয়াররিংসের গয়নার সেট নিয়ে বেশ কথা হচ্ছে। মোট ১২৭ ক্যারেটের মূল্যবান রত্নে নিজেকে মুড়েছিলেন সাবালেঙ্কা। নীলকান্তমণি, টুরমালিন, ট্যানজানিট, ক্রাইসোবেরিল, স্পিনেল, গার্নেট, জিরকনই শোভা পেয়েছে সেখানে। সাবালেঙ্কার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল ওই গয়নার সেট। নিউ ইয়র্ক সিটির উস্টার স্ট্রিটে রয়েছে লাক্সারি ওয়াচ ও ফাইন জুয়েলারি বুটিক মেটেরিয়াল গুড। রব রোনেন এবং মাইকেল হারম্যানের প্রতিষ্ঠানই সাবালেঙ্কার ওই গয়নার সেট বানিয়ে ছিলেন। আমেরিকার লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন টাউন অ্যান্ড কান্ট্রিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুটিকের আতারা লেভ বলেন, ‘সাবালেঙ্কার খেলার পোশাকটি ছিল বাস্কেটবল-অনুপ্রাণিত। নিউ ইয়র্ক তাঁর আউটডোর কোর্ট এবং বাস্কেটবল হুপের জন্য সুপরিচিত। বিশেষ করে আশির দশকের সেই পুরনো দিনের কথা ভাবায়। মনে পড়ে তখন সবাই এভাবেই বাইরে খেলত। আমি বড় ও বলিষ্ঠ কিছু চেয়েছিলাম। আমি এমন কিছু চেয়েছিলাম যা সেই প্রাণশক্তির। বিশেষ করে সাবালেঙ্কার পোশাকের উদ্দীপনার সঙ্গে মানানসই হবে। পোশাকটিতে অনেক বৈচিত্র্য ও প্রাণবন্ত ভাব রয়েছে। এটি বেশ মজাদার ও চনমনে। আমি শহরের উদ্দীপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এবং শহরটির বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় নিতে চেয়েছিলাম। আর এসব কিছুর সমন্বয়েই এই গয়নার সেট তৈরি হয়েছে।’

কোর্টে সাবালেঙ্কার চোখধাঁধানো সাজ নতুন কিছু নয়। গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টগুলিতে তাঁর গয়না নির্বাচনের বিষয়টি আজ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রতিটি টুর্নামেন্টের মেজাজ বা আবহের সঙ্গে মিলিয়েই তিনি তাঁর গয়না বেছে নেন। এই বছরের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তিনি নীলকান্তমণি বা ব্লু স্যাফায়ার-খচিত গয়না পরেছিলেন—যার মধ্যে ছিল ৪.৩০ ক্যারেটের ডিম্বাকৃতি নীলকান্তমণি—যা ছিল বেশ স্নিগ্ধ ও শীতল রঙের। নিউ ইয়র্কে তাঁর বর্ণিল ও জমকালো সাজের তুলনায় এই রূপটি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এরপর ফরাসি ওপেনে সাবালেঙ্কা বেছে নিয়েছিলেন লাল রং। তাঁর গয়নায় ছিল ২০০ ক্যারেটেরও বেশি গার্নেট এবং ২৩ ক্যারেটের প্রাকৃতিক সাদা হিরে—টুর্নামেন্টের বিখ্যাত ক্লে-কোর্ট বা লাল মাটির কোর্টের প্রেক্ষাপটে যা ছিল এক দারুণ ও উদ্দীপক সংমিশ্রণ। কোর্টে নামার সময় নিজের সাজসজ্জা বা বাহ্যিক রূপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে সাবালেঙ্কা কথা বলেছেন। ফরাসি ওপেনের এক সংবাদ সম্মেলনে প্যারিসের তীব্র গরমের মধ্যে খেলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে সেই গরমের অস্বস্তি বা ভার খুব একটা অনুভব করি না। আমার কাছে সুন্দর দেখানোটা জরুরি। সাজসজ্জায় নিজেকে ভালো লাগলে আমার পারফরম্যান্সও ভালো হয় এবং আমি দারুণ অনুভব করি।’
তিন সেটের ম্যাচ খেলার সময়ে জমকালো গয়না পরার মধ্যে এক চমৎকার স্বচ্ছন্দ ভাব রয়েছে। কিন্তু সাবালেঙ্কার জন্য, গয়নাগুলি যেন রেড কার্পেটের জন্য সংরক্ষিত কোনো বস্তু না হয়ে, পোশাকেরই আরেকটি অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি এক ভিন্ন ধরনের টেনিস পোশাকের সম্ভার গড়ে তুলছেন, যেখানে রত্নপাথর, বিশাল কোর্ট এবং অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য স্বাচ্ছন্দ্যে একই ফ্রেমে সহাবস্থান করতে পারে। আর সম্ভবত একারণেই তার গয়না বাছাইগুলো দেখতে এত আনন্দদায়ক। টেনিস ফ্যাশনের বরাবরই নিজস্ব নিয়মকানুন ছিল, কিন্তু সাবালেঙ্কাকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি একটি একটি করে বড় আকারের রত্নপাথর ব্যবহার করে সেই নিয়মগুলো ভাঙতে ক্রমশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
