Inspirational Story: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন চলার শক্তি, হাতের ওপর ভর দিয়ে কীভাবে সামলান সব? বৃদ্ধার আত্মসম্মান দেখে চোখে জল আসবে

Inspirational Story: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন চলার শক্তি, হাতের ওপর ভর দিয়ে কীভাবে সামলান সব? বৃদ্ধার আত্মসম্মান দেখে চোখে জল আসবে

Inspirational Story: প্রাচীন শিল্প খেজুর পাতার চাটাই আজ প্রায় লুপ্ত। কিন্তু শত প্রতিকূলতা ও চরম শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে এই হারানো ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন পিংলার ডাররা এলাকার অশীতিপর বৃদ্ধা লক্ষ্মী মান্না।

পিংলা, রঞ্জন চন্দ: সভ্যতার অগ্রগতি আর আধুনিকতার চাকচিক্যে গ্রামবাংলার বুক থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন অনেক ঐতিহ্য। একসময় যে খেজুর পাতার চাটাই বোনা ছিল গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আজ তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিন্তু এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে রয়েছেন পিংলার ডাররা এলাকার এক বৃদ্ধা। বয়সের ভারে তিনি অশীতিপর। তবুও প্রতিদিন নিয়ম করে শুকনো খেজুর পাতা দিয়ে একটু একটু করে চাটাই বুনে চলেন তিনি। এই চাটাই বোনা শিল্পই আজ তাঁর জীবন ও জীবিকার একমাত্র ভরসা।
বৃদ্ধার নাম লক্ষ্মী মান্না। তাঁর এই বেঁচে থাকার লড়াইটা অবশ্য মোটেও সহজ নয়। বেশ কয়েক বছর আগে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনায় তাঁর জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর দু’টি পা সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে যায়। চিরতরে হারিয়ে যায় স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা। কিন্তু ভাগ্যের কাছে হার মানতে নারাজ লক্ষ্মীদেবী। অচল পা দুটির আক্ষেপ ভুলে দু’টি হাতের ওপর ভর করেই শুরু করেন নতুন জীবন সংগ্রাম। বর্তমানে হাতের ওপর ভর দিয়েই নিজের ঘরের যাবতীয় কাজকর্ম পরম দক্ষতায় একাই সামলান এই বৃদ্ধা।
সংসারের কাজ মেটানোর পর তাঁর দিনের একটা বড় অংশ কাটে চাটাই বুনে। দূরদূরান্ত থেকে সংগ্রহ করে আনা খেজুর পাতা প্রথমে সযত্নে রোদে শুকিয়ে নেন তিনি। তারপর নিপুণ হাতে সেই পাতা দিয়ে তৈরি করেন সুন্দর সব চাটাই। নিজের বাড়ির ব্যবহারের পাশাপাশি উপার্জনের আশায় সেই খেজুর পাতার চাটাই তিনি বিক্রির জন্য নিয়ে যান স্থানীয় বাজারে। সেখানে চাটাই বিক্রি করে যে সামান্য কয়েকটা টাকা রোজগার হয়, তা দিয়েই কোনওরকমে তাঁর অন্নসংস্থান হয়। দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের জোগান দেয় এই খেজুর পাতাই।
লক্ষ্মীদেবীর এই জীবন সংগ্রাম যেন হার না মানা এক রূপকথা। চরম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং দারিদ্রকে সঙ্গী করেও তিনি কারও কাছে হাত পাতেননি। বরং নিজের পরিশ্রমে, নিজের জেদে তিনি চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও বাধাই পথ আটকাতে পারে না। একদিকে তিনি যেমন নিজের পেটের ভাত জোগাড় করছেন, তেমনই অন্যদিকে গ্রামবাংলার এক ধুঁকতে থাকা প্রাচীন ঐতিহ্যকেও পরম মমতায় বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাঁর এই অদম্য লড়াই আজ সমাজের সকলের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।
(Feed Source: news18.com)