)
Imran Khan: দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির একাধিক মামলায় আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী। তবে তাঁদের পরিবার ও পিটিআই নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ক্রমাগত অভিযোগ করা হচ্ছিল যে, ইমরান খানকে অন্ধকার ও নিঃসঙ্গ সেলে রেখে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে এবং চিকিৎসার মৌলিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির জন্য বিড়াট খবর। রাওয়ালপিন্ডির কুখ্যাত আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে আর কোনও অবস্থাতেই ‘একাকী বন্দিদশা’ বা নির্জন কারাবাসে (Solitary Confinement) রাখা যাবে না বলে কড়া নির্দেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি)। একই সঙ্গে কারাবিধি অনুযায়ী তাঁদের নিয়মিত পারস্পরিক সাক্ষাৎ, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং সন্তানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার বন্দোবস্ত করারও নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেন সুমরো এই সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন। ইমরান খানের উপর জেলে মানসিক নির্যাতন এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে আদালত আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়:
একাকী বন্দিদশার অবসান: ৭৩ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর স্ত্রীকে সম্পূর্ণ আলাদা করে নির্জন সেলে বন্দি রাখা চলবে না।
স্বামী-স্ত্রীর সাক্ষাৎ: কারাবিধি (Jail Rules) অনুসারে ইমরান খান এবং বুশরা বিবির মধ্যে নিয়মিত সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে হবে।
পরিবারের সাথে যোগাযোগ ও টেলিফোন সুবিধা: পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইমরান খানের সাক্ষাতের অনুমতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে থাকা তাঁর দুই ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার যথাযথ পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে।
বই, সংবাদপত্র ও চিকিৎসা পরিষেবা: জেলে প্রতিদিন ইমরান খানকে খবরের কাগজ ও বই পড়ার সুযোগ দিতে হবে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট: আদালতের এই সমস্ত নির্দেশ কীভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে আদিয়ালা জেলের সুপারিন্টেন্ডেন্টকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে অ্যাকশন টেকেন বা সম্মতি রিপোর্ট (Compliance Report) জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট:
দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির একাধিক মামলায় আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী। তবে তাঁদের পরিবার ও পিটিআই নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ক্রমাগত অভিযোগ করা হচ্ছিল যে, ইমরান খানকে অন্ধকার ও নিঃসঙ্গ সেলে রেখে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে এবং চিকিৎসার মৌলিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে ইমরান খানের বোন আলিমা খান এবং বুশরা বিবির মেয়ে মুবাশরা খাওয়ার মানেকা আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এই ঐতিহাসিক ও মানবিক নির্দেশ দেয়।
ইমরানের স্বাস্থ্য বিতর্ক ও সুপ্রিম কোর্ট:
গত ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। সম্প্রতি তাঁর চোখের সমস্যা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে সরকার তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আবার জেলে ফেরত পাঠায়। এই নিয়ে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলা আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এই রায় ইমরান খান এবং বুশরা বিবির দীর্ঘদিনের কারাবন্দি জীবনে এক বিরাট আইনি ও মানসিক স্বস্তি বয়ে এনেছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ঊর্ধ্বে উঠে জেলের ভেতরে বন্দিদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় আদালতের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন পিটিআই সমর্থক ও মানবাধিকার কর্মীরা।
(Feed Source: zeenews.com)
