)
Uttarakhand heavy rain: উত্তরাখণ্ড জুড়ে প্রবল বৃষ্টিতে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আলমোড়ায় আলাদা দুর্ঘটনায় দেওয়াল ধসে মারা গেছেন পাঁচজন। দেরাদুনে বানের জলে গাড়ি ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ড জুড়ে প্রবল নাগাড়ে বৃষ্টি। যার জেরে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে আলমোড়ায় দেওয়াল ধসের কারণে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, দেরাদুনে বানের জলে একটি গাড়ি ভেসে গিয়ে তিনজনের প্রাণহানি হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় হালদ্বানীতে ১৯২ মিলিমিটার-সহ রাজ্যজুড়ে রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে দেরাদুন-মুসৌরি হাইওয়ে-সহ একাধিক রাস্তায় ধস নেমেছে। নদনদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। পরিস্থিতি দেখে আবহাওয়া দফতর নৈনিতাল ও আলমোড়ায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। অন্যান্য জেলায় জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। সব জায়গায় বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে তৈরি রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য আলমোড়া, নৈনিতাল ও বাগেশ্বর জেলায় স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে আলমোড়া জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাভালবাগ ব্লকের ওড্যুডা গ্রামে রাত ৩টে নাগাদ একটি বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় প্রেমা দেবী (৪২), কল্পনা আর্য (১৯) এবং মণীশ কুমার (১৮) নামে তিনজনের মৃত্যু হয়। তারা একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। তবে বাইরের ঘরে ঘুমিয়ে থাকায় গোলাপ রাম নামে এক ব্যক্তি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
ঘটনার খবর পেয়েই এসডিআরএফ (SDRF) দল উদ্ধারকাজে রওনা হয়। ধসের কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় তাদের তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়। এরপর স্থানীয় মানুষ, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিসের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়। তিনটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আলমোড়া শহরের ধরকিতুনি এলাকাতেও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি পুরনো বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে। এতে দুই নেপালি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এসডিআরএফ দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দেহ দুটি উদ্ধার করে। নিহতদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। গত সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে আলমোড়াতে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
একই রাতে দেরাদুন জেলার লোয়ার কান্দোলি এলাকায় আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। কান্দোলি ব্রিজের কাছে একটি গাড়ি বানের জলে ভেসে যায়। গাড়িতে মোট ৩ জন যাত্রী ছিলেন। খবর পেয়ে ডাকপাথর থেকে সহকারী উপ-পরিদর্শক সুরেশ তোমারের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়। তারা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই রাতভর খোঁজ চালাতে থাকে।
উদ্ধারকারীরা সাহাজ নামে এক মহিলাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে আটকে ছিলেন। তবে গাড়িতে থাকা অক্ষয় (২০) নামে এক তরুণ এবং অপর এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তাদের দেহ উদ্ধার করে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অক্ষয় জয়পুরের বাসিন্দা ছিলেন। বৃষ্টির কারণে দেরাদুন-মুসৌরি হাইওয়ের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি ওয়ালা ব্যান্ড এলাকায় বড় বড় পাথর পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বারবার ধস নামায় এবং রাস্তার সুরক্ষাজাল ভেঙে পড়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।
টানা বৃষ্টিতে রাজ্যের নদী ও নালাগুলি ফুঁসে উঠেছে। ঋষিকেশে বিন নদীর জল রাস্তার ওপর দিয়ে বইছে। হালদ্বানীতে গোলা নদীর জলও অনেক বেড়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১৯২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। নৈনিতালের মল রোড স্যুয়ারেজের জলে ভেসে গেছে। রামনগর-হালদ্বানী রাজ্য সড়কের বেলগড় নালায় জল বেড়ে যাওয়ায় বহু গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। রামনগরে একটি অটো বানের জলে ভেসে যাচ্ছিল। স্থানীয় মানুষ সেটিকে টেনে তুলে রক্ষা করেন।
পরিস্থিতি খারাপ থাকায় বাগেশ্বরের জেলাশাসক অপূর্ব পান্ডে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি নদী, ঘাট এবং পাহাড়ের বিপদজনক এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। নৈনিতাল, আলমোড়া ও বাগেশ্বর জেলায় প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সব স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। ধস সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ দ্রুত চালানো হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
