কে এই সুনীল লোধি? ‘হনুমান অংশ’-এর হাত ধরে সুপারহিট গায়ক, একসময় বাটি হাতে ট্রেনে গাইতেন গান!

কে এই সুনীল লোধি? ‘হনুমান অংশ’-এর হাত ধরে সুপারহিট গায়ক, একসময় বাটি হাতে ট্রেনে গাইতেন গান!

জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন সুনীল লোধি একসময় ট্রেনে ভজন গেয়ে নিজের জীবিকা নির্বাহ করতেন। আজ ‘হনুমান অংশ’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ভজন ‘মেরে সঙ্কট কে কাটাইয়া হনুমান’ গানটি তাঁকে সুপারহিট গায়কদের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। কে এই সুনীল লোধি এবং ট্রেনে গান গাইতে গাইতে কীভাবে তিনি বলিউড থেকে অফার পেলেন?

সাগর: কথায় বলে, দেওয়ার সময় ভগবান যখন দেন, তখন ‘ছপ্পড় ফাড়কে’ দেন। মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের দৃষ্টিহীন গায়ক সুনীল লোধির জীবনে এই প্রবাদটি পুরোপুরি প্রযোজ্য। জন্ম থেকেই চোখের দৃষ্টি না থাকা সত্ত্বেও আজ তাঁর কণ্ঠস্বর গোটা দেশে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ‘হনুমান অংশ’ ছবিতে গাওয়া তাঁর ভজন তাঁকে সুপারহিট গায়ক করে তুলেছে। তবে এই সাফল্যে পৌঁছনোর পথ মোটেই সহজ ছিল না।
সুনীল লোধি সাগর জেলার একটি ছোট গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল। জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন হওয়ার কারণে স্কুলে যাওয়া বা সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। কিন্তু সঙ্গীত ছিল তাঁর সহজাত প্রতিভা। ছোটবেলা থেকেই তিনি তমুরা (একটি ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র) নিয়ে ভজন এবং বুন্দেলি লোকগান গাইতে শুরু করেন। গ্রামের মানুষ তাঁর কণ্ঠ শুনে মুগ্ধ হতেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য সুনীলকে ট্রেনে গান গাইতে হত। তিনি হাতে বাটি নিয়ে ট্রেনের কামরায় কামরায় ঘুরে হনুমানজি এবং অন্যান্য দেবদেবীর ভজন গাইতেন। যাত্রীরা দান করলে সেই টাকা দিয়েই তাঁর পরিবারের খরচ চলত। শেষ পর্যন্ত তিনি কীভাবে বলিউডে পৌঁছলেন, সেই গল্পও বেশ আকর্ষণীয়।
হার মানেননি:
গ্রাম-গঞ্জের ছোট ছোট অনুষ্ঠানেও সুনীল গান গাইতে থাকতেন। তাঁর কণ্ঠে ভক্তির এমন এক সুর ছিল, যা শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যেত। ২০১৯ সালের আশপাশে তাঁর জীবনে পরিবর্তনের সূচনা হয়। এক ইউটিউবার এবং স্থানীয় সঙ্গীতপ্রেমীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁরা সুনীলের ভজন রেকর্ড করতে শুরু করেন। এর মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী হনুমান ভজন “মোরে সঙ্কট কে কাটাইয়া হনুমান” (More Sankat Ke Kataiya Hanuman) সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এই ভজনে হনুমানজিকে সঙ্কটমোচন হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। সহজ কিন্তু আবেগপূর্ণ তাঁর গান লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করে নেয়। ইউটিউবে এই ভজন কোটি কোটি ভিউ পায়। ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে রিল তৈরি হতে শুরু করে। এখান থেকেই গায়ক হিসেবে সুনীল পরিচিতি পেতে শুরু করেন।
বলিউড থেকে এল অফার:
সুনীলের কণ্ঠ এবং তাঁর জীবনের গল্প জেনে মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছিলেন। ভাইরাল হওয়ার পর সঙ্গীত প্রযোজক পঙ্কজ ভিআরকে (Pankaj VRK)-র নজর তাঁর দিকে যায়। তিনি সুনীলকে মুম্বইয়ে ডাকেন। সেখানে স্টুডিওয়ে একাধিক ভজন রেকর্ড করা হয়। সুনীল নিজেই জানান, সেই সময় তিনি জানতেন না যে এর কোনও একটি গান ছবিতে ব্যবহার করা হবে। তিনি শুধু ঐতিহ্যবাহী ভজন গাইছিলেন।
এরই মধ্যে ‘হনুমান অংশ’ ছবির পরিচালক বিশাল চতুর্বেদীর নজর তাঁর দিকে পড়ে। ছবিটি নিম করৌলি বাবার জীবনকাহিনি এবং হনুমান ভক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। পরিচালক সুনীলের কয়েকটি ভজন শোনেন এবং তার মধ্যে “ম্যানে তেরে হি ভরোসে হনুমান, সাগর মে নইয়া ডার দই” গানটি ছবিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এই গানটিও ঐতিহ্যবাহী ঢঙে তৈরি এবং ভক্তিভাবে পরিপূর্ণ।
ছবিটি ২০২৬ সালের অগাস্টে মুক্তি পায়। শুরুতে সাধারণ প্রদর্শনের পর ধীরে ধীরে ছবিটি হিট হতে থাকে। দর্শকরা বিশেষ করে ভক্তিমূলক গানগুলি খুব পছন্দ করেন। সুনীলের কণ্ঠে গাওয়া গানটি আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলে। মানুষ এখন তাঁর পুরনো ভজনগুলিও খুঁজে খুঁজে শুনছেন।
সুনীলের সাফল্যের গল্প শুধু সঙ্গীতের নয়, বরং সংগ্রাম, বিশ্বাস এবং হনুমানজির কৃপায় ভরা এক গল্পও।
(Feed Source: news18.com)