ভারতীয় সংস্থার থেকে অস্ত্র কেনার চুক্তি, দুর্নীতির অভিযোগ, পদত্যাগ এস্টোনিয়ার মন্ত্রীর

ভারতীয় সংস্থার থেকে অস্ত্র কেনার চুক্তি, দুর্নীতির অভিযোগ, পদত্যাগ এস্টোনিয়ার মন্ত্রীর

 

নয়াদিল্লি: অস্ত্রশস্ত্র কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ। ভারতীয় সংস্থার নামও জড়াল সেই দুর্নীতিতে। আর সেই অভিযোগে পদত্যাগ করতে হল ইউরোপের ছোট্ট দেশ, এস্টোনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে। (Estonia Minister Resigns)

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে অস্ত্রশস্ত্র জোগানোর কথা ছিল এস্টোনিয়ার। সেই মতো ভারতের একটি সংস্থাকে ৭০ মিলিয়ন ডলারের বরাত দেওয়া হয়, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৭৬৮.৫০ কোটি টাকা। (Ammunition Deal Scam)

কিন্তু ভারতীয় সংস্থাটির অস্ত্রশস্ত্র তৈরির পূর্ব অভিজ্ঞতাই ছিল না বলে অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হানো পেভকুরের ভূমিকায়। ২০২২ সাল থেকে এস্টোনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হানো। শেষ পর্যন্ত বুধবার পদত্যাগ করলেন তিনি। জানালেন, গোটা ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগ করছেন। 

ইউক্রেনকে আর্টিলারি শেল সরবরাহের কথা ছিল এস্টোনিয়ার। সেই মতো ২০২৪ সালে Datasel SRL সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়। Datasel SRL ইতালিতে নথিভুক্ত হলেও, ২০২৪ সালেরই শুরুতে ভারতের Neco Defence Munitions সেটি অধিগ্রহণ করে। Neco Defence Munitions সংস্থার মালিক ভারতের Jayaswal Neco Group. 

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্র কম পড়ছিল ইউক্রেনের। কথা ছিল, Datasel SRL-এর মাধ্যমে সেগুলি পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু এস্টোনিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম ERR জানিয়েছে, ওইসব অস্ত্রশস্ত্র কিনতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইউরোপিয়ান পিস ফেসিলিটির জন্য বরাদ্দ টাকা ব্যবহার করা হয়। ৭০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে দেওয়া হয় অগ্রিম হিসেবে। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে প্রথম যে চুক্তি হয়, তাতে ১৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে দেওয়া হয়। অক্টোবরে দেওয়া হয় আরও ১০ মিলিয়ন ইউরো প্রায়। বছর শেষ হতে হতে টাকার অঙ্ক পৌঁছে যায় ৭০ মিলিয়ন ইউরোতে। 

চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ইউক্রেনের হাতে অস্ত্রশস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অস্ত্র উৎপাদনে সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে ক্রমশ সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে শেষ পর্যন্ত যখন অস্ত্রশস্ত্র হাতে পায় ইউক্রেন, দেখা যায়, তার গুণমান অত্য়ন্ত নিম্ন। সেই নিয়ে ইউরোপিয়ান আরবিট্রেশন অ্যান্ড মিডিয়েশন সেন্টারের দ্বারস্থ হয়েছে এস্টোমিয়া, যাতে ওই ৭০ মিলিয়ন ইউরো ফেরত পাওয়া যায়। 

এস্টোনিয়ার ন্যাশনাল অডিট বিভাগ গত ২৮ অগাস্ট যে রিপোর্ট প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায় প্রতিরক্ষা এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনার অর্থ নয়ছয় হয়েছে। ৭০ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করা না গেলে, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে ওই টাকা তুলতে হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদেরও। এতেই তীব্র রোষের মুখে পড়েন  হানো। ওই চুক্তি স্বাক্ষর করাই উচিত হয়নি বলে মত এস্টোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্রের ডিরেক্টর জেনারেল এলমার বাহের। তাঁর কথায়, “ওই চুক্তি সই করা উচিতই হয়নি আমি বাড়ি তৈরির কাজে হাত দিলে এমন সংস্থাকে বরাত দেব না, যার পূর্ব অভিজ্ঞতাই নেই। কারণ তাতে বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হবে কি না সন্দেহ।”

বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল। আর তাতেই শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন হানো। তাঁর বক্তব্য, “এস্টোনিয়ার নিরাপত্তা কোনও এক ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত নয়। সকলের যৌথ দায়িত্ব। তাই আমাকেই দায় নিতে হবে।”

এস্টোনিয়া ইউরোপের একটি ছোট্ট দেশ। জনসংখ্যা মাত্র ১২ লক্ষ। তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং NATO-র সদস্য যেমন, রাশিয়ার সঙ্গেও সীমান্ত রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। যুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন করছে এস্টোনিয়া।