)
বিতর্কিত কার্টুন পোস্টার কাণ্ডে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে অন্তর্বর্তী রক্ষা কবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এখনই তাঁকে গ্রেফতার করতে পারবে না পুলিস। তবে এজলাসে বিচারপতির কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল অভিনেত্রীকে! বিচারপতির মন্তব্য, “এমন ছবি আদালতের বিচারবুদ্ধিকে আহত করেছে।” ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বজায় থাকবে এই আইনি সুরক্ষা। পরবর্তী শুনানি ১৪ ডিসেম্বর।
অর্ণবাংশু নিয়োগী: বিতর্কিত কার্টুন পোস্টার হাতে মিছিলে হেঁটে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়া অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে বড়সড় আইনি স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে আপাতত তাঁকেও গ্রেফতার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী রক্ষা কবচ বজায় থাকবে। তবে স্বস্তি পেলেও অভিনেত্রীর আচরণ এবং মিছিলে ব্যবহৃত ফেস্টুন নিয়ে আদালতের অন্দরে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ওই ছবি আদালতের বিচারবুদ্ধিকে চরমভাবে আহত করেছে। সিজেপির আন্দোলনের সমর্থনে আয়োজিত একটি মিছিলে হাতে কার্টুন আঁকা একটি বোর্ড বা ফেস্টুন নিয়ে হেঁটেছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। ওই পোস্টারটিকে কেন্দ্র করেই রাজ্যজুড়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি পৃথক অভিযোগ (FIR) দায়ের করা হয়। সেই এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে এবং আইনি সুরক্ষার দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শ্রীলেখা মিত্র।
আদালতে শ্রীলেখার পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিআইএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি যুক্ত পেশ করে বলেন, “শ্রীলেখা মিত্র সিজেপি-র আন্দোলনে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে মিছিলে হেঁটেছিলেন। আন্দোলনকারীদের সমর্থনে একটি কার্টুন আঁকা বোর্ড তাঁর হাতে ছিল। তার জন্য একগুচ্ছ এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, ইতিমধ্যে আনন্দপুর থানার তলবে হাজিরা দিয়ে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন অভিনেত্রী।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে পাল্টা যুক্তিতে জানানো হয়, শ্রীলেখা মিত্র অত্যন্ত রুচিহীন একটি ছবি সামাজিক মাধ্যম ও মিছিলে ব্যবহার করেছেন, যা সরাসরি উস্কানিমূলক। রাজ্যের আইনজীবীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শ্রীলেখার আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন জানান, কোন ছবি ‘রুচিহীন’ হলেই তা ফৌজদারি অপরাধ বা ক্রাইম হয়ে যায় না।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও বিচারপতির ভর্ৎসনা
সওয়াল-জবাব চলাকালীন এজলাসে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। শ্রীলেখার হাতের ফেস্টুন বা ছবিটিকে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিচারপতির মন্তব্য, “ভিন্ন ধর্ম বা ভিন্ন জাতির প্রতি কোনো কুরুচিকর মন্তব্য বা কুৎসা করা হলে সেখানে ফৌজদারি আইনের ধারা যুক্ত করার যথেষ্ট সুযোগ থাকে। একজন সুস্থ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি কীভাবে এমন একটি ছবি বা কার্টুন হাতে নিয়ে হাঁটতে পারেন?”
অভিনেত্রীর সামাজিক পরিচয় মনে করিয়ে দিয়ে বিচারপতি শ্রীলেখার আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তিনি একজন অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী। আর আপনি একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিক। আপনি কি এই ধরণের কাজকে সমর্থন করেন বা মেনে নেবেন? এই ঘটনা আদালতের বিচারবুদ্ধিকে গভীরভাবে আহত করেছে।”
হাইকোর্টের নির্দেশ ও শর্তাবলী
আদালতের বিচারবুদ্ধি আহত হলেও আইনের বিধান মেনে অভিনেত্রীকে শর্তসাপেক্ষ স্বস্তি দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি জানান, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে যেসব ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলির সর্বোচ্চ সাজা সাত বছরের নিচে। ফলে আইনানুযায়ী তিনি যদি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেন, তবে তাঁকে রক্ষা কবচ দিতে হবে।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশিকাগুলি নিচে উল্লেখ করা হল:
গ্রেফতারিতে নিষেধাজ্ঞা: রাজ্য পুলিশ আপাতত কোনো মামলাতেই শ্রীলেখা মিত্রকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না।
মামলার একত্রীকরণ: রাজ্যজুড়ে দায়ের হওয়া সমস্ত ১৬টি এফআইআরকে একত্রিত করে তদন্ত চালাতে হবে। মূল তদন্ত প্রক্রিয়াজাত হবে আনন্দপুর থানাকে কেন্দ্র করে।
তদন্তে সহযোগিতা: অভিনেত্রীকে পুলিশের তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
অগ্রিম নোটিস: তদন্তের প্রয়োজনে অভিনেত্রীকে তলব করতে হলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে লিখিত নোটিস পাঠাতে হবে আনন্দপুর থানাকে।
সহযোগিতা না করলে কড়া পদক্ষেপ: শ্রীলেখা মিত্র তদন্তে সহযোগিতা না করলে পুলিশ সরাসরি হাইকোর্টকে জানাতে পারবে এবং আদালত রক্ষা কবচ তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
রিপোর্ট পেশ: মামলার পরবর্তী শুনানিতে রাজ্য পুলিশকে তদন্তের বিস্তারিত অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
আগামী ১৪ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীলেখা মিত্রের এই আইনি রক্ষা কবচ বহাল থাকবে।
(Feed Source: zeenews.com)
