)
High Court on Marriage: হাইকোর্টে স্বামী জানান, তাঁর স্ত্রী নিজের ইচ্ছায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। শ্বশুরবাড়ির কোনও দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি আরও জানান, কুলির কাজ করে রোজগার করে সংসার চালান তিনি। ওই টাকা তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আদালত বরের কথায় পাত্তা দেয় না।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য স্বামীর অনুমতি নিতে হবে কেন! কেনই বা নিজের বাবা-মাকে দেখতে যাওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির সম্মতি প্রয়োজন? প্রশ্ন ওঠে আদালতে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করতে স্ত্রীকে বাধ্য করতে পারেন না স্বামী। কর্নাটক হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে, গৃহস্থালির কাজ এবং শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করার বিয়টি স্বেচ্ছায় বেছে নেওয়ার বিষয় হওয়া উচিত। আর তাছাড়া, নিজের বাবা-মায়ের দেখাশোনা করার প্রাথমিক দায়িত্ব তাঁদের নিজেদের সন্তানদেরই, মানে, এক্ষেত্রে স্বামীর।
কর্নাটক হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, একজন বিবাহিত নারীকে তাঁর বাপের বাড়িতে যাওয়ার জন্য কেন তাঁর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অনুমতি নিতে হবে? আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, বিবাহকে কোনো নারীর পছন্দ, স্বাধীনতা বা স্বায়ত্তশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। স্ত্রীকে মাসে ৯,০০০ টাকা খোরপোশ (Maintenance) দেওয়ার পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এক ব্যক্তির দায়ের করা পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করার সময় হাইকোর্ট এই মন্তব্য করে। উক্ত ব্যক্তি আবেদন জানিয়েছিলেন, তিনি কুলির কাজ করেন এবং তাঁকে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে হয়। তিনি আরও দাবি করেন যে, তাঁর স্ত্রী নিজের ইচ্ছায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন।
বিয়ে মানে চাকরি?
স্বামীর যুক্তি প্রসঙ্গে আদালত মন্তব্য করে: স্বামীর এই দাবিগুলি শুনলে ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞান থাকা যেকোনো মানুষের মনে হবে, আবেদনকারী স্বামী একজন নিয়োগকর্তার (Employer) মতো তাঁর স্ত্রীকে ঘরের কাজ করা এবং বাবা-মায়ের দেখাশোনা করার জন্য চাকরি দিয়েছেন।
আদালতের জরুরি পর্যবেক্ষণ
সমান অংশীদারিত্ব: ঘরের কাজকর্ম স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া উচিত। কোনো পুরুষই তার স্ত্রীকে ঘরের কাজ বা নিজের বাবা-মায়ের দেখাশোনা করার জন্য জোর করতে পারে না।
স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব: নিজের বাবা-মায়ের সেবা করার প্রাথমিক দায়িত্ব তাদের ছেলে বা মেয়ের, জামাই বা পুত্রবধূর নয়। শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী বিষয় হওয়া উচিত, জোরপূর্বক নয়।
সমতার নীতি: আনুগত্য বা বাধ্যতা দিয়ে কোনো স্ত্রীর ত্যাগকে মাপা যায় না। বিবাহ কোনো অসম সম্পর্কের বন্ধন নয়। কেবল লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো নারীর স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়া বা তার স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা সমতার নীতি, মানব মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থী।
মামলার পরিচয়
প্রসঙ্গত, বিবাহিত মহিলাদের জন্য এটি রীতিমতো বড় পর্যবেক্ষণ কর্নাটক হাইকোর্টের। স্ত্রীকে খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সতীশ নামে এক ব্যক্তি কর্নাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি চিল্লাকুর সুমালথা। পারিবারিক আদালতে প্রথমে মামলাটি ওঠে। স্ত্রী তাঁর ও তাঁর কন্যা সন্তানের জন্য মাসে ৩০০০০ টাকা করে খোরপোষের দাবি করেছিলেন। স্ত্রীর জন্য মাসে ৫০০০ টাকা করে ও সন্তানের জন্য মাসে ৪০০০ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় পারিবারিক আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে, টাকার অঙ্ক কমানোর আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ওই ব্যক্তি। হাইকোর্টে স্বামী জানান, তাঁর স্ত্রী নিজের ইচ্ছায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। শ্বশুরবাড়ির কোনও দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি আরও জানান, কুলির কাজ করে রোজগার করে সংসার চালান তিনি। ওই টাকা তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।
কন্ট্রোল করা লাইসেন্স নয়
শেষমেশ আদালত পরিষ্কার করে দেয়, বিয়ে কখনও কন্ট্রোল করা লাইসেন্স হতে পারে না। আদালত বলে, বিয়ে মানেই একজন মহিলার উপর নিয়ন্ত্রণ নয়। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেছে, “একজন মহিলার অধিকার আছে তাঁর কেরিয়ার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার। স্বামী কোনও ব্যাপারে জোর করতে পারে না। বিয়ে কখনই কারও স্বাধীনতাকে কন্ট্রোল করা, নির্দেশ করা, দমিয়ে রাখা বা দখলদারির লাইসেন্স নয়।” পারিবারিক আদালতের নির্দেশে কোনও হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন মনে করেনি হাইকোর্ট। স্বামীকে ৯০০০ টাকা খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশই দিয়েছে আদালত।
(Feed Source: zeenews.com)
