)
প্রাক্তন ফুটবলার-বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস কেন আচমকাই ‘বিগ বস বাংলা’য়? প্রশ্নকর্তা খোদ সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ই।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান! শুরু হল ‘বিগ বস বাংলা’র তৃতীয় মরসুম। গত রবিবার শোয়ের গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ে ছিল ১৫ জন প্রতিযোগীর পরিচয়পর্ব। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সিজনে সঞ্চালনা করেছিলেন ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী। দ্বিতীয় সিজন হয়েছিল ২০১৬ সালে। সেবার সঞ্চালনার গুরুভার ছিল বঙ্গের সুপারস্টার জিতের কাঁধে। আর ১০ বছর পর ছোটপর্দার জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ফিরল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে। দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ও প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট এবার ‘বিগ বস বাংলা’র নোংর। ভরত কল (অভিনেতা), দুর্নিবার সাহা (গায়ক) সোহিনী পাল, নিরঞ্জন মণ্ডল ওরফে লাফটারসেন, নন্দিনী দত্ত, তনুশ্রী রায় দাস, অনিন্দ্য সেনগুপ্ত, সায়ক, জয়ীতা, আলেকজান্দ্রা টেলর, সৃজলা গুহ, ঝিলাম গুপ্ত, সোনামণি সাহার সঙ্গে ওই ঘরে ঢুকেছেন প্রাক্তন ফুটবলার-বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস! খেলার দুনিয়ার একমাত্র মুখ তিনিই। এবার প্রশ্ন দীপেন্দু কেন ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে ? প্রশ্ন করেছিলেন খোদ সৌরভই। কী জানালেন দীপেন্দু? চোখ বুলিয়ে জেনে নিন এখনই।
দীপেন্দু-সৌরভের কথোপকথন
দীপেন্দু একটি বল পায়েই স্টেজে ঢোকেন এরপর সৌরভের সঙ্গে কিছুক্ষণ ‘তিকিতাকা’ চলে। সৌরভ প্রথমেই দীপেন্দুকে জিজ্ঞাসা করেন ‘কেমন লাগছে?’ দু’শব্দের প্রশ্নে দীপেন্দুও দু’শব্দে জানান, ‘ভালো লাগছে? এরপর সৌরভ দর্শকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দীপেন্দু বহু প্রেসার ম্যাচ খেলেছে, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান-মহামেডান ছাড়াও ভারতের হয়েও। কিন্তু এ এক অন্য মঞ্চ। এখানে আসার কারণ কী?’ উত্তরে দীপেন্দু বলেন, ‘এটা একটা নতুন চ্যালেঞ্জ’! সৌরভের পাল্টা প্রশ্ন ‘পারবে এই বাড়িতে? বিভিন্ন রকমের মানুষের সঙ্গে স্পোর্টসম্যান স্পিরিট দেখাতে, তুমিই এখানে একমাত্র যে, খেলার জগতের।’ শুনে দীপেন্দু বলেন, ‘চেষ্টা করব স্পোর্টসম্যান স্পিরিট দেখানোর। যেভাবে ম্যাচ জিততে হয়।’ সৌরভ জানান যে, দীপেন্দু বিগ বসে আসায় তাঁর মেয়ে খুবই উত্তেজিত। এই প্রসঙ্গে দীপেন্দু বলেন, ‘মেয়ে বারবার বলেছে যেতে হবে। তুমি কিন্তু ঝগড়া করবে না।’ এই কথা শুনে সৌরভ চমকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন- ‘তুমি বাড়িতে ঝগড়া করো?’ দীপেন্দু সঙ্গে সঙ্গে বলেন- ‘না করি না।’ সৌরভও তাল মিলিয়েই বলেন, ‘না ও ঝগড়া করে না, ঠান্ডা মানুষ’। সৌরভ কথার ফাঁকে জানান যে, বাড়ি ছেড়ে বিগ বসের বাড়িতে আসার কথা ভেবেই দীপেন্দুর মন খারাপ হওয়া শুরু হয়েছিল। দীপেন্দুও জানান পরিবার থেকে দূরে থাকায় তাঁর মন কিছুটা খারাপ। সৌরভ তখন দীপেন্দুকে বলেন যে, তিনি খুব ভালো বোঝেন বাড়ি থেকে দূরে থাকার কষ্টটা। কারণ মাসের পর মাস তাঁকে বিদেশ সফরের কারণে বাড়ির বাইরেই থাকতে হয়েছে। বিগ বসের ঘরে ঢোকার ঠিক আগে সৌরভের শেষ দু’টি প্রশ্ন ছিল দীপেন্দুর কাছে। সৌরভ জিজ্ঞাসা করেন, ‘পারবে অ্যাডজাস্ট করতে’? অ্যাডজাস্ট করার মূল মন্ত্র কী?’ দীপেন্দু বলেবন, ‘পারব। আর আমার অ্যাডজাস্ট করার মূল মন্ত্র ধৈর্য।’ সৌরভের সংযোজন, ‘দীপেন্দু জেন্টলম্যান। ক্রিকেটের ভাষায় জেন্টল জায়ান্ট। সেটা ওর হাসি দেখেই মনে হচ্ছে। বিগ বসের বাড়ির পরীক্ষায় বসতে হবে ওকে, তাই আমার তরফে স্ট্রং, স্ট্রেন্থ ও বি পেসেন্ট’… এরপর দীপেন্দু ঘরে ঢুকে যান। বাকিদের সঙ্গে আলাপচারিতা সারেন।
দুরন্ত ফুটবলার দীপেন্দু
নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে ২০০০-এর দশক পর্যন্ত দীপেন্দু চুটিয়ে কলকাতার তিন প্রধানে খেলেছেন। বাংলার হয়ে দু’বার সন্তোষ ট্রফি জয়ী স্ট্রাইকার দেশের জার্সিতেও খেলেছেন। বসিরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক এখন মহামেডান স্পোর্টিংয়ের ফুটবল সচিব হিসেবেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এখন দেখার দীপেন্দু ‘বিগ বস’-এর ঘরে কতদিন থাকতে পারেন? ভিন্ন পেশার ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে গোল করতে পারেন কিনা, সে দিকেই থাকবে সবার চোখ?
(Feed Source: zeenews.com)
