)
CJP Split Big news: সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার মতো যুবনেতারা। কিন্তু সাফল্যের শীর্ষ স্পর্শ করার পরেই দলের অন্দরে তীব্র ক্ষমতা দখলের লড়াই ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে হাতিয়ার করে যে যুব আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল, প্রাথমিক সাফল্যের পরেই তাতে আড়াআড়ি ফাটল ধরল। দিল্লির যন্তরমন্তরে আলোড়ন ফেলে দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-তে ভাঙন কার্যত চূড়ান্ত। দলের প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র এবং আম আদমি পার্টিকে (আপ) সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে নতুন দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি-ডেমোক্র্যাটিক’ (CJP-D) গড়ার কথা ঘোষণা করলেন একসময়ের ভলান্টিয়ার মণীশ ব্রহ্মভট্ট।
বস্টনে বসে রাতারাতি এই দলের সূচনা করেছিলেন অভিজিৎ দীপকে। রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রেখে সাধারণ মানুষের দাবি তুলে ধরাই ছিল তাদের মূল কর্মসূচি। নিট (NEET) কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন ও দিল্লির যন্তরমন্তরের অবস্থান বিক্ষোভ জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ফেলে দেয়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সেই আন্দোলনে শামিল হন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, বসেন অনশনেও। সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার মতো যুবনেতারা। কিন্তু সাফল্যের শীর্ষ স্পর্শ করার পরেই দলের অন্দরে তীব্র ক্ষমতা দখলের লড়াই ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে।
বিদ্রোহী নেতা মণীশ ব্রহ্মভট্টের অভিযোগ, মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে দলকে গোপনে পরিচালনা করছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আপ। মণীশের বিস্ফোরক দাবি, আন্দোলন সফল করার পর গঠিত জাতীয় কর্মসমিতির অন্তত আট জন সদস্য সরাসরি আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত। অথচ আন্দোলনে শিবসেনা, কংগ্রেস, বিজেপি কিংবা সমাজবাদী পার্টির মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের যুবক-যুবতীরা রক্ত ও ঘাম ঝরিয়ে লড়াই করেছিলেন। নতুন পদাধিকারীদের তালিকায় সেই সমস্ত লড়াকু মুখকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দলকে কেজরিওয়ালের একটি ‘বিজেপি-বিরোধী বোড়ে’ বানিয়ে ফেলা হয়েছে।
মণীশ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত আগস্ট মাসে গুজরাত থেকে ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে অভিজিতের বাড়িতে বৈঠকে যোগ দিতে গেলে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আন্দোলনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে হলেও শেষ পর্যন্ত কোণঠাসা হতে হয়েছে মূল স্বেচ্ছাসেবকদের। এই প্রেক্ষাপটেই জন্ম নিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি-ডেমোক্র্যাটিক’। মণীশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি রাজ্য থেকে পাঁচজন করে প্রকৃত আন্দোলনকারী ও স্বেচ্ছাসেবককে বেছে নিয়ে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় কাজ করবে তাঁদের এই নতুন দল।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। মণীশের অভিযোগকে সম্পূর্ণ আমল না দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক সুরে অভিজিৎ মন্তব্য করেন, ‘মহেশ ভাট চলচ্চিত্র পরিচালক বলেই জানি।’ মণীশকে তিনি চেনেন না বলেও দাবি করেন। তবে অতীতে যে তিনি আপ-এর সোশ্যাল মিডিয়া টিমে কাজ করেছেন, তা স্বীকার করেছেন খোদ অভিজিৎ নিজেই। এমনকি অনশন চলাকালীন সোনম ওয়াংচুককে দেখতে গিয়েছিলেন কেজরিওয়ালও। ফলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেপথ্যে কোনও দলের ছায়া রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। নিট আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ভাঙন নাগরিক আন্দোলনের গতিপ্রকৃতির ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিল।
