
Cricket Association Of Bengal: বয়স জালিয়াতির অভিযোগে ৬৫ জন নির্বাসিত। ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮—পরপর দুটি ঘরোয়া মরশুমে সিএবি আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টেই মাঠে নামতে পারবেন না এই তালিকাভুক্ত ক্রিকেটাররা।
ভারতীয় ক্রিকেটে বয়স জালিয়াতি ও নথিপত্রে অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার সবচেয়ে বড় ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমার এবং সদ্য ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পাওয়া রোহিত যাদবসহ মোট ৬৫ জন ক্রিকেটারকে রেজিস্ট্রেশন ও ট্রান্সফার থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সিএবি। এর ফলে ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮—পরপর দুটি ঘরোয়া মরশুমে সিএবি আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টেই মাঠে নামতে পারবেন না এই তালিকাভুক্ত ক্রিকেটাররা।
এই কড়া শাস্তির মুখে পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ১২ জন এমন ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পরবর্তীতে তাঁদের জমা দেওয়া জন্মতারিখ ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করতে গিয়ে ধরা পড়ে বিশাল অসঙ্গতি। সিএবির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতকে বিশ্বজয়ী করা বাঁহাতি পেসার রবি কুমারের বয়সের ক্ষেত্রে ৪৫ মাসের দীর্ঘ ব্যবধান ধরা পড়েছে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ মরশুম পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২৩ ও সিনিয়র দলের হয়ে তাঁর খেলা এখন গভীর প্রশ্নের মুখে।
অন্যতম আলোচিত নাম অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়া লেগ-স্পিনার রোহিত যাদব, যার বয়সের তথ্যে ২৭ মাসের ফারাক মিলেছে। এই ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সরাসরি হস্তক্ষেপ করে রোহিতের ওপর অবিলম্বে কার্যকর হওয়া দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সিএবির এই অভিযানের ফলে তাঁর ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ মরশুমে জুনিয়র স্তরে অংশগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে।
নিষিদ্ধ হওয়া অন্য ১০ জন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে বয়স লুকানোর মাত্রা আরও মারাত্মক। সিএবির তদন্তে অরুণ কুমার চৌরাসিয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অর্থাৎ ১১৫ মাস নথিপত্র সংক্রান্ত গরমিল পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া মহীপাল যাদবের ৯৭ মাস, প্রভাত মৌর্যর ৫৭ মাস, অমৃত রাজ উপাধ্যায়ের ৪৮ মাস এবং দিলশাদ খানের ৪৬ মাসের বয়সের ফারাক চিহ্নিত করা হয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্ত অন্য তালিকায় রয়েছেন অনুভব ত্যাগী, কুণাল কুমার, বিনীত মৌর্য, কুশ গুপ্ত ও পরমিত সিং।
তৃণমূল স্তরের ক্রিকেটে দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই নথি জালিয়াতি এবং ভূয়ো বয়স দেখিয়ে সুযোগ নেওয়ার প্রবণতা চিরতরে বন্ধ করতেই সিএবি সভাপতি ও শীর্ষ কর্মকর্তারা এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পথে হেঁটেছেন। সিএবি সূত্রের খবর, ক্লাব ক্রিকেট থেকে শুরু করে রাজ্য দল—প্রতিটি স্তরেই এখন থেকে আধার ও জন্ম সার্টিফিকেটের ডিজিটাল ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। জালিয়াতি করে প্রকৃত উদীয়মান প্রতিভাদের বঞ্চিত করার পথ বন্ধ করতে এই জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
একসঙ্গে ৬৫ জন ক্রিকেটারকে নির্বাসিত করার এই ঘটনা রাজ্য তো বটেই, পুরো দেশের ক্রিকেট সার্কিটে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। বিসিসিআই ও সিএবির এই যৌথ পদক্ষেপ বাকি ক্রিকেটার ও অ্যাকাডেমিগুলির জন্য একটি স্পষ্ট কড়া বার্তা দিল। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িক ধাক্কা লাগলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
(Feed Source: news18.com)
