)
Supreme Court judge on police crackdown in CJP Protest: বিচারপতি মনে করিয়ে দেন, অতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগ বা মানবাধিকার লঙ্ঘন না করেও কিন্তু দক্ষতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষের কাছে রাস্তায় লাঠি বা বাঁশি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক জন পুলিসকর্মী আসলে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও ভরসার প্রতীক।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র ও প্রতিবাদীদের উপর পুলিসের বলপ্রয়োগ এবং শারীরিক নিগ্রহের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইঞা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, পুলিসের আচরণে পেশাদারিত্ব ক্রমশ কমছে। সংযম হারিয়ে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পক্ষে এই জিনিস অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি যন্তর মন্তরে আন্দোলন দমনে পুলিসের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহেই শীর্ষ আদালতের বিচারপতির এই কড়া পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।
শুক্রবার নিউদিল্লির ভাইসরয় হলে প্রাক্তন আইপিএস কর্তা তথা প্রাক্তন নিরাপত্তা সচিব যশবর্ধন আজাদের লেখা ‘পোলিসিং দ্য রিপাবলিক’ বইটির উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি ভুঁইঞা। সেখানেই সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন দেখি ভারতীয় পুলিস সার্ভিসের (আইপিএস) তরুণ পদস্থ আধিকারিকেরা নিজেরাই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদী ও বিক্ষোভকারীদের গায়ে হাত তুলছেন, মারধর করছেন– তখন তা দেখে আমরা ব্যথিত ও হতবাক হই। এই দৃশ্য অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।’
বিচারপতি মনে করিয়ে দেন, অতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগ বা মানবাধিকার লঙ্ঘন না করেও কিন্তু দক্ষতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষের কাছে রাস্তায় লাঠি বা বাঁশি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক জন পুলিসকর্মী আসলে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও ভরসার প্রতীক। মানুষ বিপদে পড়লে বা অন্যায় দেখলে পুলিশসের কাছেই ন্যায় চাইতে যান। তাই পুলিস বাহিনীর নিজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
বিচারপতি ভুঁইঞা মতে, পুলিস তখনই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে, যখন তারা সংবিধানের মেনে পুরোপুরি পেশাদার, নিরপেক্ষ এবং ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাব নিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা নিজেরাই যদি আইনভঙ্গকারী হয়ে ওঠেন, তবে তার ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে, সে বিষয়েও কড়া সতর্কতা দেন তিনি।
বিচারপতি বলেন, ‘প্রশাসনের প্রতিনিধিরাই যদি আইন ভাঙতে শুরু করেন, তবে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের অশ্রদ্ধা তৈরি হয় এবং তা সমাজে অরাজকতা ডেকে আনে। কোনও সভ্য দেশ বা সমাজ এমনটা মেনে নিতে পারে না।’
একই সঙ্গে দেশে হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি একে সভ্য সমাজের অন্যতম নিকৃষ্ট অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পুলিস প্রশাসনের সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করে তিনি স্পষ্ট জানান, অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলেই বহু ক্ষেত্রে পুলিস তার নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। ২০০৬ সালের ঐতিহাসিক প্রকাশ সিংহ মামলার রায়ের উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, পুলিসের উপর অতিরিক্ত রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ গণতন্ত্রের বুনিয়াদকে দুর্বল করে দিতে পারে।
এই অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ পি চিদম্বরম এবং মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন ডিজিপি ডি শিবনন্দন-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
(Feed Source: zeenews.com)
