পশ্চিমবঙ্গ: নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যা, সন্দেহভাজনকে পিটিয়ে হত্যা; কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

পশ্চিমবঙ্গ: নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যা, সন্দেহভাজনকে পিটিয়ে হত্যা; কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

 

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা রাস্তা ও রেললাইন অবরোধ করে, বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে এবং পুলিশের ওপর পাথর ছোড়ে। এরই মধ্যে, একদল উন্মত্ত জনতা এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে। পুলিশ এই ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফোনে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শনিবার থেকে মেয়েটি নিখোঁজ ছিল, রবিবার সকালে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরোনোর ​​পর নাবালিকাটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা গভীর রাত পর্যন্ত তার সন্ধান করেন, কিন্তু কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রবিবার সকালে ধাপধাপি-২ পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকার বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটিকে ধর্ষণ করে হত্যা করার পর পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরিবারটি এই ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য চারজন স্থানীয় বাসিন্দাকে অভিযুক্ত করেছে।

ক্ষুব্ধ জনতা সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করে

লাশটি উদ্ধারের পর বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে এবং সূর্যপুর রেল স্টেশনেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। শিয়ালদহ-নামখানা সেকশনে প্রায় এক ঘণ্টা রেল চলাচল ব্যাহত হয়, পাশাপাশি সড়কপথে যান চলাচলও বেশ কয়েক ঘণ্টা বিঘ্নিত ছিল।

পুলিশের ওপর হামলা, জনতার হাতে সন্দেহভাজনের হত্যাকাণ্ড

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কিছু লোক পাথর ছোড়ে, এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এরই মধ্যে, একদল জনতা এক স্থানীয় যুবককে সন্দেহভাজন ভেবে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তার লাশ হেফাজতে নিয়েছে এবং মামলার তদন্ত শুরু করেছে।

সিসিটিভি থেকে সার্কিট উদ্ধার, দুই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

তদন্ত চলাকালে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পায়। একজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার পর জিজ্ঞাসাবাদে অন্য অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ পায়। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফোনে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানী ভবনে ডেকে পাঠিয়েছেন। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক,

কঙ্কর প্রসাদ বারুই আরও জানিয়েছেন যে এই ঘটনায় জড়িত কোনো অভিযুক্তকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

(Feed Source: amarujala.com)