)
ইরানের জাহাজকে হয়রান করার জেরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আমেরিকার গর্বের আব্রাহাম লিংকনে টার্গেট! রক্তগরম করা ভিডিয়ো দিল ট্রাম্পের সেনা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরান-আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের দাবি, তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করে নাকি আমেরিকার গর্বের ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরী ও একটি ডেস্ট্রয়ারকে টার্গেট করেছে। তাদের অভিযোগ, আমেরিকার যুদ্ধজাহাজগুলি ইরানের জাহাজগুলিকে হয়রান করছিল এবং তেহরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধে অংশ নিচ্ছিল। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানি নৌ-চলাচলের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈরী কর্মকাণ্ডের জেরে তারা আমেরিকার নৌবাহিনীর দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে!
আইআরআইবি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের অ্যারোস্পেস ফোর্স বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শিশু-হত্যাকারী মার্কিন সেনাবাহিনীর একট বিমানবাহী রণতরী ও একটি ডেস্ট্রয়ারের উপর হামলা চালিয়েছে। এই মার্কিন জাহাজগুলি ইরানের জাহাজগুলিকে উত্যক্ত করছিল এবং নৌ-অবরোধে অংশ নিচ্ছিল।’ আইআরজিসি-র দাবি, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দুটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা ছাড়ে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় যুদ্ধজাহাজ দুটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।’ উল্লেখ্য, মার্কিন বাহিনী ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করার এবং তেহরান মার্কিন-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালানোর ঘটনার প্রেক্ষাপটেই আইআরজিসির এই দাবি সামনে এসেছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, যে তারা কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে ‘অননুমোদিত পথ’ দিয়ে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য এলাকায় আমেরিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজকে টার্গেট করেছে। আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারের উপর মার্কিন হামলার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরআইবি-র প্রতিবেদনে আইআরজিসি নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ সকালে, মার্কিন সন্ত্রাসী ও আগ্রাসী সেনাবাহিনী এক নৃশংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মরিয়া প্রচেষ্টায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা চালিয়ে সেগুলোর ক্ষতিসাধন করেছে।’
আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়িছে এরপর তারা পাল্টা দিয়ে ওই জাহাজগুলিতে টার্গেট করেছিল। আইআরআইবি-র তথ্যমতে বলা হয়েছে, ‘আইআরজিসি নৌবাহিনী—ঈশ্বরের অসীম শক্তি ও আপনাদের, অর্থাৎ সাহসী জনগণের সমর্থন ও সহায়তায়, এবং পবিত্র কুরানের সেই উজ্জ্বল আয়াতের (যেখানে বলা হয়েছে: আর যদি তারা তোমাদের উপর আক্রমণ করে, তবে তোমরাও তাদের ওপর ঠিক সেভাবেই আক্রমণ করো যেভাবে তারা তোমাদের উপর করেছিল) আলোকে—হরমুজ প্রণালীর অননুমোদিত পথে থাকা তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য এলাকায় শিশু-হত্যাকারী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজকে টার্গেট করেছে।’ ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে তথাকথিত অননুমোদিত জলপথ’ ব্যবহার না করার বিষয়েও সতর্ক করেছে।
আইআরজিসি-র নৌবাহিনী বলেছে, ‘মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা বিভ্রান্ত হবেন না এবং অননুমোদিত জলপথ অতিক্রমের মতো কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন; অন্যথায় আপনারা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন।’ আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে ইরানের জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে—তেহরানের ভাষায়—’বৈরী কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যদি এই বৈরী ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে মার্কিন সরকারকে।’ আঞ্চলিক জলসীমায় টহলরত মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজের ওপর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তোলার পর, গত ৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায় যে তাদের বাহিনী ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে আঘাত হেনেছে; ঠিক তার পরপরই এই ঘোষণাটি এসেছে। মার্কিন সেনার প্রকাশিত ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, জলে তলিয়ে যাওয়ার আগে এক ট্যাঙ্কার দাউ দাউ করে জ্বলছিল। সেন্টকম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া ইরানি তেল ট্যাংকারগুলির মধ্যে ছিল অন্যতম। ইরান তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উপর আমেরিকার হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। ভারতে অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাস এক্স বার্তায় পোস্টে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কথিত হামলার বিষয়ে ইরানের নিন্দা জানানোর বিষয়টি তুলে ধরেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
