কুচো চিংড়ি পরিষ্কার করতে হাত ব্যথা হয়ে যাচ্ছে? শিখে নিন এই সহজ কৌশল,নিমেষে সাফ ঝুড়ি-ঝুড়ি চিংড়ি,ঝক্কি ছাড়াই বেরিয়ে আসবে কালো শিরা

কুচো চিংড়ি পরিষ্কার করতে হাত ব্যথা হয়ে যাচ্ছে? শিখে নিন এই সহজ কৌশল,নিমেষে সাফ ঝুড়ি-ঝুড়ি চিংড়ি,ঝক্কি ছাড়াই বেরিয়ে আসবে কালো শিরা

 

Kucho Chingri Cleaning Tips: কুচো চিংড়ি বা ফুল চিংড়ি খেতে যতই টেস্টি হোক না কেন, পরিষ্কার করতে গেলে যান বেরিয়ে যায়! একটা একটা করে ছোট্ট চিংড়ি বাছতে গেলে গোটা দিন চলে যাবে! তার চেয়ে শিখে নিন এই সহজ পদ্ধতি, কিলো কিলো কুচো ও ফুল চিংড়ি পরিষ্কার হয়ে যাবে নিমেষে, কোনও ঝামেলা ছাড়াই বেরিয়ে আসবে পিঠের কালো শিরা

আলু পটলের তরকারি হোক কী লাউ চিংড়ি, এক মুঠো কুচো চিংড়ি দিয়ে দিলেই রান্নার স্বাদ দ্বিগুণ হয়। কিন্তু আসল ঝঞ্ঝাট হল ছোট্ট ছোট্ট কুচো চিংড়ি বা ফুল চিংড়ি ছাড়ানো ও পরিষ্কার করা। বড় চিংড়ি না হয় বাজার থেকে কেটে ছাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ছোট চিংড়ি সবসময় পরিষ্কার করে দেয় না। কাজেই বাড়িতেই চিংড়ির খোসা ছাড়াতে হয়, বাছতে-পরিষ্কার করতে হয়। এদিকে একটা-একটা করে চিংড়ি ছাড়াতে গিয়ে হাত টনটন করতে থাকে! তাহলে উপায়? শিখে নিন এই সহজ টেকনিক। একসঙ্গে ঝুড়ি ঝুড়ি কুচো ও ফুল চিংড়ি পরিষ্কার হবে নিমেষে। কোনও ঝামেলা ছাড়াই বেরিয়ে আসবে কালো শিরা

কুলো দিয়ে চিংড়ি পরিষ্কার– কুচো চিংড়ি ও ফুল চিংড়ি প্রথমে একটা বাটিতে নিয়ে জল পাল্টে-পাল্টে বার তিনেক ধুয়ে নিন। এবার একটা শুকনো কড়াইতে চিংড়িগুলো হালকা আঁচে মিনিট পাঁচেক নেড়ে নিন। দেখবেন, চিংড়ির জলভাব চলে গিয়ে শুকনো হয়ে এসেছে। এবার মাছগুলো একটা কুলোয় নিয়ে ভালো করে ঝেড়ে নিন। দেখবেন মাছের খোসা, শুঁড়, লেজ সব খসে খসে পড়ে যাচ্ছে।

সবজির ঝুঁড়ির টেকনিক– ফুল চিংড়িতে খুব ময়লা, ঘাস-পাতা থাকে। এদিকে এত ছোট চিংড়ি হাত দিয়ে বেছে বেছে পরিষ্কার করতে দিন কাবার হবে। কাজেই একসঙ্গে সব চিংড়ি পরিষ্কার করতে একটা সবজি ধোওয়ার ঝুড়িতে চিংড়িগুলো নিয়ে নিন। নীচে রাখুন একটা বড় বাটি। এবার ঝুড়িতে জল ভরে নিয়ে, মাছগুলো বার কয়েক হালকাভাবে নাড়াচাড়া করুন। দেখবেন সব ময়লা জলের উপর ভেসে উঠে আসবে। এবার জলটা ফেলে আবার নতুন জল নিন। এইভাবে জল পাল্টে পাল্টে ৩-৪ বার চিংড়ি ধুয়ে নিন। একটুও নোংরা থাকবে না আর।

গরম জল– কুচো চিংড়ি বা ফুল চিংড়ি ৫ মিনিট হালকা গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন। তবে ফুটন্ত জল দেবেন না, তাতে চিংড়ি নরম হয়ে গলে যাবে। হালকা গরম জলে চিংড়ি ভিজিয়ে রাখলে খোসা নরম হয়ে যাবে। এবার একটা ঝুড়িতে চিংড়ি নিয়ে হালকা হাতে ঘষে নিন, দেখবেন সব খোসা চটপট উঠে আসছে।

নুন দিয়ে ধোয়া– ছোট চিংড়ির গায়ে অনেক সময় পিচ্ছিল ভাব বা শ্যাওলা জাতীয় ময়লা থাকে। মাছ কাটার পর একটি ছাঁকনিতে চিংড়িগুলো নিয়ে, তাতে বেশ খানিকটা মোটা দানাযুক্ত নুন ছিটিয়ে দিন। এবার হাত দিয়ে হালকা করে ঘষুন, সব ময়লা ঝটপট উঠে যাবে।

আঁশটে গন্ধ ও ব্যাক্টেরিয়া দূর করতে– চিংড়ি ধোয়ার পরে সামান্য লেবুর রস বা সাদা ভিনেগার মাখিয়ে ১ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে মাছের আঁশটে গন্ধ দূর হবে, টক্সিন কমবে। রান্না করার আগে মাছ ধুয়ে হলুদ-নুন মাখিয়ে রাখুন। হলুদ প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে।

ছোট চিংড়ির কালো শিরা বার করা–মাছের খোসা না ছাড়িয়েও পিঠের দ্বিতীয় বা তৃতীয় খাঁজের ভেতর একটি টুথপিক বা সুচ ঢুকিয়ে ওপরের দিকে টান দিন। দেখবেন পুরো কালো সুতোটি বেরিয়ে আসছে।

ছোট চিংড়ির মাথায় একটি ছোট থলির মতো অংশ থাকে যেখানে বালি ও নোংরা জমে। মাথার একদম সামনের দিকের ধারালো অংশ ও শুঁড় কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলুন। এরপর আঙুল দিয়ে মাথার ভেতরে হালকা চাপ দিলেই কালো বা কালচে-সবুজ একটি অংশ বেরিয়ে আসবে। এটি ফেলে দিলে সংক্রমণের ভয় থাকে না।

(Feed Source: news18.com)