
এই প্রকল্পে কর্মরত ৩০ বছর বয়সী ফোরম্যান সঞ্জয় শা-র বাড়ি দক্ষিণের জেলা সপ্তারিতে। তাঁর পাশাপাশি প্রকল্পের জলবিদ্যুৎ অটোমেশন বিভাগের সুপারভাইজার ৪৫ বছর বয়সী কবির মহারজনকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর সঞ্জয়ের স্ত্রী সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে বলেছেন, “আমার স্বামীর উদ্ধারের ঘটনায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং এটি আমার পরিবারের সকল সদস্যের মনে আনন্দ বয়ে এনেছে। আমি বাড়িতেই ছিলাম, সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ তাঁর উদ্ধারের খবর পাই। আমাদের পরিবারে প্রচুর আনন্দ বয়ে এনেছে।” তিনি জানান যে, স্বামীর উদ্ধারের পর তাঁর সঙ্গে দেখা করতে তিনি কাঠমাণ্ডুর উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। গত ১০ দিন তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল।
কার্যত ‘নতুন জীবন’ পেয়েছেন তিনি। সুড়ঙ্গে ৯ দিন কাটানোর পর জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন সঞ্জয় শা। সাপ্তারির মেকানিক্যাল ফোরম্যান তিনি। নেপালে যখন হড়পাবান ঘটে সেই সময় তিনি ত্রিশূলী ৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কন্ট্রোল রুমে ছিলেন। ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার জেরে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকা পড়েন তিনি। ৯ দিন পর তাঁর বিস্ময়কর উদ্ধার হয়েছে।
উদ্ধারের পর সঞ্জয় জানান, ঘটনার পর তিনি নিজেকে বাঁচানোর পরিবর্তে সহকর্মীদের আগে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। ‘দ্য কাঠমাণ্ডু পোস্ট’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়ার পর নেপালি সেনাবাহিনীর একটি মেডিক্যাল টিমকে শা বলেন, “আমি কন্ট্রোল রুমে কাজ করছিলাম। সবার জীবন বাঁচানোই ছিল আমার দায়িত্ব।” শা জানান যে, তিনি তাঁর আশপাশের মানুষদের পালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন, তাতে অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে ব্যয় হওয়া সময়ের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজে আর পালাতে পারেননি। তাঁর কথায়, “আমি সবাইকে দৌড়ে পালাতে বলেছিলাম। তা করতে গিয়ে আমার সময় নষ্ট হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত আমি আর বের হতে পারলাম না।” Nepal Flash Floods News
