
তাঁদের পেজে লেখা হচ্ছিল যে, পরিস্থিতি একটু সামলে নিয়ে সুমিতাদেবী সকলের সামনে আসবেন৷ সেই মতো সোমবার রাতে মা মাসি কিচেনের পেজ থেকে আসে এই ভিডিও৷ কী ঘটেছিল, সবটাই জানান তিনি৷
কলকাতা: স্বামীর মৃত্যুর পর এই প্রথমবার তাঁর ভক্তদের সামনে এলেন মা মাসি কিচেনের সকলের প্রিয় দিদা সুমিতা বসু৷ তাঁকে দেখেই একরাশ ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন তাঁর সোশাল মিডিয়ার ভক্তরা৷ কারণ সকলেই জেনে দিয়েছেন যে ৪৭ বছরের দাম্পত্যে ইতি পড়েছে তাঁর৷ সুমিতাদেবীকে একা রেখে চলে গিয়েছেন তাঁর স্বামী৷ স্বামীর শেষ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে গলা বুজে এল দিদামার৷ সুমিতাদেবীর কথা থেকে বোঝা গিয়েছে যে, তিনি ছিলেন আক্ষরিক অর্থে তাঁর স্বামীর চোখের মণি৷ শেষ দিন পর্যন্ত তাঁদের বন্ধন ছিল অটুট৷ খুব স্বাবাভিক, স্বামীকে হারিয়ে খুবই ভেঙে পড়েছেন মা মাসি কিচেনের দিদা৷
জ্যোতিপ্রসাদ বসু ছিলেন সিওপিডি-র রোগী৷ ১৫-২০ বছর আগে কোনও চিকিৎসা করেননি, ইনহেলার নিতেন না৷ তবে ৫ বছর আগে থেকে জানা যায় যে তিনি সিওপিডি-র লাস্ট স্টেজে পৌঁছে গিয়েছেন৷ তখন থেকে সব ব্যবস্থা নিতে শুরু করেন তিনি৷ তবে কখনও তিনি মনের জোর হারাননি৷ পরিবারকে নিয়ে বাঁচার আশা ছিল প্রবল৷ এমনকী ঘরে থাকতেন খুবই সক্রিয়৷ বাড়ির প্রচুর কাজ করতেন, সাহায্য করতেন স্ত্রীকেও৷ বাইরে যেতে পারতেন না ঠিকই, কিন্তু অনলাইনে বাজার করা, গ্যাস বুক করা সহ ঘরের অনেক কাজ করতেন তিনি৷ অর্থাৎ দিদা রান্না করতেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর অর্ধেক কাজ করে একেবার সঙ্গীর মতোই পাশে থাকতেন দাদু৷
ঘটনার সূত্রপাত ৭ অগাস্ট তাঁর শরীরটা হঠাৎ করেই খারাপ হয়৷ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইপ্যাপ পড়াতে হয়৷ কিন্তু তাতেও আরও কাতর হয়ে পড়ছিলেন তিনি৷ তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার৷ রাস্তায় যাওয়ার সময় অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে আসে৷ যদিও নার্সিংহোমে ভর্তি হলে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়৷ আইটিইউ-তে ভর্তি করা হয় তাঁকে৷ ৮ এবং ৯ তারিখ এভাবেই চলতে থাকে৷ এত শরীর খারাপের মধ্যেও স্ত্রীকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি৷ যদিও এরপর থেকে জ্যোতিপ্রসাদ বাবুর আর বেশি কথা বলতে পারছিলেন না৷ তবে তিনি মোবাইলে লিখে জানিয়েছিলেন যে আইটিইউ নয়, জেনারেল ওয়ার্ডে যেতে চান তিনি৷ কিন্তু সে আশা আর পূরণ হয়নি৷ ১৩ অগাস্ট তাঁকে ভেন্টিলেশনে শিফট করা হয়৷ কিন্তু শেষ রক্ষা করা যায়নি৷ সবাইকে কাঁদিয়ে চিরকালের জন্য বিদায় নেন সুমিতা বসুর স্বামী৷
এই কথাগুলো তাঁর পেজের ফলোয়াদের সঙ্গে ভাগ করে নেন মা মাসি কিচেনের দিদা৷ কথা বলতে বলতে তাঁর চোখে জল আসে, গলা বুজে আসে৷ সাধারণ বাড়ির স্ত্রীদের মতো তিনিও ছিলেন মারাত্মকভাবে স্বামীর উপর নির্ভরশীল৷ ৪৭ বছরের দাম্পত্য এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল৷ এবং তার পাশাপাশি তিনি সর্বক্ষণ স্ত্রীর খেয়ালও রাখতেন৷ ফলে আজ অনেকটা একা হয়ে গিয়েছেন দিদা৷ এখন তিনি তাঁর বৃহত্তর সংসার অর্থাৎ মা মাসি কিচেনের লক্ষ লক্ষ ফলোয়ারদের নিয়েই দিন কাটাবেন৷ স্বামীর কথা রেখে, ভিডিও করবেন৷
(Feed Source: news18.com)
