
আইফেল টাওয়ার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে Société d’Exploitation de la Tour Eiffel (SETE). তাদের কর্মীদে ডাকা ধর্মঘটেই সোমবার বন্ধ রইল আইফেল টাওয়ার। কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা। স্থানীয় প্রশাসনকে এর দায় নিতে হবে বলে দাবি তাঁদের। স্থানীয় প্রশাসন এবং ওই সংস্থার তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। আইফেল টাওয়ারের নীচে যে নোটিস ঝোলানো হয়েছে, তাতে লেখা ‘পরিচালনা সংক্রান্ত কারণে আপাতত বন্ধ আইফেল টাওয়ার’। (Eiffel Tower Strike)
#breaking: Eiffel Tower staff went on strike on September 7, citing that BAPS had asked female workers to leave during an official visit. BAPS apologized in response.
A 100-person delegation from Bochasanwasi Akshar Purushottam Swaminarayan Sanstha (BAPS), a global organization… pic.twitter.com/6I8O6YMvCY
— The Juggernaut (@thejuggernaut) September 8, 2026
জানা গিয়েছে, গত শনিবার হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা’ (BAPS)-এর ১০০ সদস্য আইফেল টাওয়ার দেখতে যান। তাঁদের ‘প্রাইভেট ভিজিটে’র জন্য আইফেল টাওয়ারের মহিলা কর্মীদের বেরিয়ে যেতে বলা হয়।
বোচাসনবাসি অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (BAPS) হল একটি স্বতন্ত্র হিন্দু সম্প্রদায় যা দৃঢ়ভাবে গোঁড়া হিন্দু ঐতিহ্য এবং বৈদিক শিক্ষার মধ্যে এর দর্শন, অনুশীলন এবং পরিচয়ের মূল স্থাপন করে। থাকতে বলা হয় শুধুমাত্র পুরুষ কর্মীদের।
প্যারিসের CGT ট্রেড ইউনিয়ন বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে তাদের প্রতিনিধি ডায়ান দাভোইন বলেন, “ওই সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্য মহিলা কর্মীদের আইফেল টাওয়ার ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। মহিলা কর্মীদের পরিবর্তে পুরুষদের মোতায়েন করার নির্দেশ আসে।” CGT-র তরফে ওই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। তাদের দাবি, কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের নির্দেশ একেবারেই কাম্য নয়। লিঙ্গ পরিচয়ের জন্য মহিলাদের কোণঠাসা করার মানসিকতা, তাঁদের অদৃশ্য হয়ে যেতে বাধ্য করার এই আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়।
SETE খবরের সত্যতা মেনে নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বোচাসনবাসি অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার তরফে অনুরোধ করা হয়েছিল তাদের ‘প্রাইভেট ট্যুরে’র সময় যেন মহিলাদের না রাখা হয়। কেন ওই অনুরোধ মানা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইতিমধ্যে ক্ষমাও চেয়েছে SETE. তবে বিতর্ক থামছে না। ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভেত সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘বিদেশি লোকজনের আবদার মেনে মহিলাদের সরিয়ে নিতে হবে, এটা আমি মানতে পারছি না। কাউকে স্বাগত জানানোর অর্থ এই নয় যে আমরা নিজেদের মূল্যবোধ থেকে সরে আসব’। প্যারিসের ডেপুটি মেয়র ইম্যানুয়েল গ্রেগরিও গোটা ঘটনার নিন্দা করেছেন। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
‘বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা’ নিজেদের আন্তর্জাতিক সংগঠন বলে দাবি করে। তাদের দাবি, বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা’টি বৈদিক ঐতিহ্য, ভগবান স্বামীনারায়ণের শিক্ষায় দীক্ষিত। বেদ, উপনিষদ, ভগবদ গীতাকে নিজেদের পথপ্রদর্শক বলে দাবি করে তারা। ‘সনাতন ধর্মের’ জাগরণে নিজেদের অগ্রভাগে রেখেছে।
(Feed Source: abplive.com)
